মোহনপুরে তোরণ দখল করলেন ইউপি চেয়ারম্যান!

আপডেট: জুলাই ২৪, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আগমন উপলক্ষে তাকে স্বাগত জানাতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, জেলা পরিষদের সেই তোরণ দখল করে নিয়েছেন মোহনপুরের একটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আল-মোমিন শাহ গাবরু।
জেলা পরিষদের তোরণ দখলের ঘটনায় মোহনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে অভিযোগটি দাখিল করেছেন। তবে এ অভিযোগ নিতেও গড়িমশির অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বলেন, গতকাল মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আগমন উপলক্ষে তাকে স্বাগত জানাতে মোহনপুরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ও বাকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের মাঝামাঝি বরাবর সামনের সড়কে একটি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই তোরণে মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের ছবি সম্বলিত কয়েকটি ব্যানারও টাঙানো হয়েছিল।
কিন্তু গত শনিবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা ওই তোরণ থেকে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের ব্যানার খুলে ফেলে। এরপর সেখানে মোহনপুরের বাকশিমইল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মোমিন শাহ গাবরুর ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে তারা সেখানে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান। এরপর এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ প্রথমে গড়িমশি করে। পরে অবশ্য অভিযোগটি নেওয়া হয়।
গতকাল সকালে দেখা গেছে, জেলা পরিষদের ওই তোরণে চেয়ারম্যান গাবরুর ব্যানার শোভা পাচ্ছে। ওই ব্যানারে মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও স্থানীয় এমপি আয়েন উদ্দিনেরও ছবি শোভা পাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কয়েকজন যুবক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যানার সরিয়ে ফেলে ইউপি চেয়ারম্যান গাবরুর ব্যানার টাঙিয়ে দেন। এভাবে তোরণটি দখলে নেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ জনপ্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী সরকারের ব্যানার সরিয়ে ফেলে তৃণমূলের একজন জনপ্রতিনিধির এমন তোরণ দখলকা-ে স্থানীয়রা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মোহনপুরের অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও। তারা বলছেন, মন্ত্রীকে খুশি করতে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের এমন তোরণ দখল বড়ই বেমানান।
তবে জানতে চাইলে তোরণ দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান গাবরু। তিনি দাবি করেছেন, তিনি তার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনের সড়কে একটি তোরণ নির্মাণ করে নিজের ছবি সম্বলিত ব্যানার টাঙিয়েছেন। তিনি বা তার কোনো লোক জেলা পরিষদের তোরণ দখল করেননি।
এদিকে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেছেন, অভিযোগটি তিনি পেয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ