মোহনপুরে পুকুর খনন বন্ধে ডিসি বরাবর এলাকাবাসীর অভিযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০২০, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


মোহনপুরে ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। ফসলহানি ও জলাবদ্ধতারোধে গতকাল রোববার লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন কেশরহাট পৌর এলাকার মৃত সামার ছেলে আবদুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার জেএল-১১০ গোপইল মৌজায় ফসলি জমিতে একটি পুকুর খনন শুরু করেছেন গোপইল গ্রামের সুবীরের ছেলে আবদুস সালাম ও আলাম, মৃত হাবিবুল্লা বাহারের ছেলে আতাউর রহমান, মৃত মজের আলীর ছেলে রফিকসহ ৫/৬ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি। স্থানীয় জনসাধারণের বাধা উপেক্ষা করে পুকুর কাটছেন তারা। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে পুকুর কাটার জন্য উঠতি ফসল আলু, পেঁয়াজ, রসুন, শরিষা খেত বিনষ্ট করে সেখানে এক্সেভেটর মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে কৃষকদের কোনোপ্রকার ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। এছাড়াও ওই স্থানে বিশাল আয়তনের পুকুটি খনন করা হলে ব্যাপক ফসলহানিসহ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এখন নষ্ট হবে প্রায় অর্ধশতাধিক জমির ফসল। অন্যদিকে বর্ষার পানিতে তলিয়ে যাবে শত শত বিঘা জমির ফসলসহ ঘরবাড়ি। এজন্য তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানান তারা।
ফোনে কথা বলা হলে অভিযোগকারীদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক বলেন, তারা কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে জোর করে অনেক ফসল নষ্ট করে মেশিন নিয়ে গেছে। এমন কী জমির মালিকদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করেই পুকুর খনন করছে। আমাদের এখানে পুকুর কাটা হলে শত শত জমির ফসল ডুবে বিনষ্ট হবে। পানিবন্দি হবে ঘরবাড়ি ও পান বরজ। আমি ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে ডিসি স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগটি দিয়েছি।
আবদুল লতিফ নামে এক কৃষক জানান, মানুষ পুকুর খননে মত্ত হয়ে পড়েছে। কেউ দেখছে না বাড়িঘর, ফসল। কেউ ভাবছে না মানুষের কথা ও নিজেদের ভবিষ্যত। বরেন্দ্র প্রকল্পের স্থাপিত গভীর নলকূপের স্কিম, আউটলিটার ও ড্রেনেজ উপড়ে ফেলে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এসব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।