মোহনপুরে পোস্টার সাঁটানোর জেরে মারধরে আহত এক, গাড়ি ভাঙচুর

আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০২২, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

মোহনপুর প্রতিনিধি :


রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনের পোস্টার সাঁটানোর জেরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে মারধরে একজন আহত হয়েছেন। আহত মোতালেব হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ অক্টোবর) রাতে মোহনপুরের ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ দলীয় সমর্থিত কাপ পিরিচ প্রতিকের প্রার্থীর সমর্থক এবং মোটরসাইকেল প্রতিকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আখতারুজ্জামানের সমর্থকদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা পরিষদ নির্বাচন ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন ও ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে আমার পক্ষের নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও গাড়ী ভাঙ্গচুর করা হয়েছে। এর সুষ্ঠ বিচার ও তদন্তের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামানের লোকজন পোস্টার সাঁটাতে চান। এসময় সেখানে থাকা গ্রাম পুলিশের সদস্যরা তাদের বাহিরে পোস্টার সাঁটাতে বলেন। তারা ভেতরে পোস্টার সাঁটানোর চেষ্টা করলে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল হোসেনের সমর্ধকদের সাথে হাতাহাতি শুরু হয়। ঘটনার সময় মাইক্রোবাসের চাপায় মোতালেব হোসেন নামের একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এই ঘটনায় দুটি মাইক্রোবাস জব্দসহ সাত জনকে আটক করা হয়।

অন্যদিকে, লিখিত অভিযাগে চেয়ারম্যান প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার বলেছেন, আমার ‘মোটরসাইকেল প্রতীকের’ পোষ্টার ও ফেস্টুন ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের পাশে টাঙ্গানোর সময় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রচারকর্মী অসিম কুমার দাস, মেহেরুন এবং মিশুক চালক সুইটকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। তাদের কাছে রক্ষিত পোষ্টার, ফেস্টুন ছিড়ে ফেলে পরিষদ কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়।

নির্বাচন সমন্বয়কারী এ্যাড. আবু রায়হান মাসুদ ঘটনাস্থলে পৌছে চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চান, লোকদের কেন আটকে রাখা হয়েছে। এই কথা বলা মাত্রই চেয়ারম্যান তার সাথে থাকা সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। সাত জনকে আটক করে পরিষদ ভবনে আটকে রাখে। তাদের মোবাইলফোন কেড়ে নেয়। এসময় দুইটি মাইক্রবাস ভাংচুর করা হয়েছে।

কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য উক্ত স্থানে উপস্থিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমার লোকেদের মারতে থাকে। এসময় মোহনপুর থানা ওসিসহ পুলিশ উপস্থিত হয়ে এই ঘটনা প্রত্যাক্ষ করেছে।

ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভোটের মাঠে সবাই পোস্টার লাগাবে এটায় নিয়ম। তবে শহর থেকে আসা ভাইয়েরা পরিষদ ভবনের মধ্যে পোস্টার লাগানোর চেষ্টা করে। এসময় গ্রামপুলিশরা বাধা দেয়। পরে তারা উত্তেজিত হলে স্থানীয় লোকজনদের সাথে ঝামেলা বাধে। আমি ফোনে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ করি যেহেতু সকলেই আওয়ামী লীগের লোকজন।

এ ব্যাপারে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় জনতার রোষানল থেকে দুটি মাইক্রেবাসসহ ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় কোনো পক্ষের অভিযোগ হয়নি। পরিবেশ শান্ত আছে।

এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আখতারুজ্জামান আকতারের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সেই সাথে সুষ্ঠ বিচার ও তদন্তের দাবি করেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ