মোহনপুরে ফসলের মাঠজুড়ে সরিষার সমাহার

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

মোস্তফা কামাল, মোহনপুর



কৃষি অধ্যুষিত মোহনপুর উপজেলার ফসলের মাঠ জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সরিষা ফুল। হলুদ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে প্রতিটি খেত। যেদিক দুচোখ যায় সবুজ ফসলের মাঝে যেন হলুদের সমাহার। শীতের সকার আর বিকেলের পড়ন্ত বেলায় সোনালী রঙের সরিষা ফুল পথ চলতেই পথিকের প্রাণ জুড়াবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শোভা বাড়াতে ব্যস্ত মৌমাছির দল।
ব্যস্ত কৃষকের শরিষা খেতে পাহারা এবং পোকা খাদকের নিরলস দায়িত্ব পেয়েছেন বুলবুলি আর বুড়ো শালিকের ঝাঁক। চলতি মৌসুমে এখানে প্রায় ১৫শ হেক্টর জমিতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষিবিভাগ। যা গত বছরের তুলনায় ৪শ হেক্টর বেশি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মোহনপুর উপজেলার রকমারি ফসলের মাঝে স্থান দখল করেছে সরিষা। কিছুটা আগামজাত হিসেবে দেশিজাতের সরিষা চাষের পরিমাণ অনেকটায় বেশি। অন্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষের পরিমাণ অনেকটায় কম হলেও ফসলের মাঠে সোভা আরো ফুটে তুলেছে এসব সরিষা খেত। মাঠের চারিদিক যেন হলুদে হলুদে ছেয়ে গেছে। এক দেখাতেই নজর কাড়বে পথিকের। ফুল থেকে গুণগুনিয়ে মধু আহরণে মহাব্যস্ত হয়ে উঠেছেন ক্ষুদে মৌমাছির দল। মানুষের মধুর চাহিদা পূরণসহ ব্যবসায়ের উদ্দেশে সরিষা খেতে মৌবক্স স্থাপন করছেন মৌচাষিরা।
কেশরহাট পৌর এলাকাসহ, উপজেলার ঘাসিগ্রাম, বিদিরপুর, হাটরা, কুঠিবাড়ী, মৌপাড়া, মতিহার, আথরাইসহ বিভিন্ন স্থানে শরিষা খেতে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য মৌবক্স। মধু উৎপাদনে ভালো লাভের কারণে মৌমাছি পালণে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেক বেকার যুবক। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে মৌচাষ করে আসছেন। ইতোমধ্যে তারা মাঠে মাঠে তাদের মৌবক্স স্থাপন করে পরিচর্যা চালিয়ে আসছেন।
উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার হরিদাগাছি গ্রামের কৃষক আইনাল হক বলেন, সার, বীজ, কীটনাশক সরবরাহের পাশাপাশি গুরুত্বের সঙ্গে প্রায় দুই বিঘা জমিতে শরিষার চাষ করেছি। শরিষার গাছ ভালো হয়েছে। এজন্য ভালো ফলনের জন্য আশাবাদী তিনি। কৃষক সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, কৃষি অফিসের দেয়া উচ্চফলনশীল জাতের শরিষার চাষ করেছি। কৃষি অফিসারদের পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু প্রয়োগ করেছি। এখন পর্যন্ত শরিষা খেত খুব ভালো আছে।
কেশরহাট পৌর এলাকার রায়ঘাটি গ্রামের মধুচাষি রইচ উদ্দিন বলেন, চাকরি করি আর এর মাঝে অবসর সময়ে মৌচাষ করে উৎপাদিত মধু উৎপাদন করে সংসারযাপন ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগায়। তবে এটি খুব লাভজনক ব্যবসা। বাণিজ্যকভাবে মৌচাষ করলে আরো বেশি লাভ হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে শরিষার চাষ কিছুটা বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। কোনো বালায় দেখা না দিলে ভালো ফলনের আশাবদী তিনি।