মোহনপুরে বাড়ছে রসুনের আবাদ

আপডেট: January 3, 2021, 9:18 pm

মোস্তফা কামাল, মোহনপুর:


মোহনপুরে বাহারী ফসলের ফাঁকে বেড়েছে রসুন চাষ। বিগত বছরগুলোয় এখানকার কৃষকরা রসুন চাষে আগ্রহী ছিল না। তবে এবার আগের তুলনায় অধিক পরিমাণ জমিতে রসুন চাষ করেছে। বিনা চাষে রসুন চাষ পদ্ধতির কারণে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন তারা। রোপন মৌসুমে রসুন বীজের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও চাষ উৎপাদন মৌসুমে দাম কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, গত বছর রসুন চাষের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫০হেক্টর। চলতি মৌসুমে রসুন চাষের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ১৮০ হেক্টর জমি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মোহনপুর উপজেলার অধিকাংশ নিচু ও নিচু মানের জমিতে রসুন চাষ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে কাদায় বেশি রসুন করা হয়েছে। কাদায় চাষকৃত জমিতে আগাম রসুন চাষের কারণে গাছ কিছুটা বড় হলে শুকনা জমিতে চাষকৃত রসুনগাছ বেড়েছে কম। উপজেলার মগরাবিলে কাদায় সর্বাধিক রসুন চাষ করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার পরিচর্যাসহ সেচকাজ শেষ করেছে কৃষকরা। এখন চলছে কীটনাশক প্রয়োগ। বাজারে সামান্য পরিমাণ নতুন রসুন উঠতে শুরু হলেও মাঘ মাসের শেষ নাগাদ পুরো দমে রসুন উঠবে বলে জানিয়েছে খুচরা ব্যবসায়িরা।
উপজেলার কেশরহাট পৌরসভা এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের কৃষক মনসুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি প্রায় এক বিঘা জমিতে কাদায় রসুন চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত রসুন ক্ষেতভাল থাকলেও উঠার সময় দাম কম যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। শফিকুল ইসলাম নামের অপর একজন কৃষক বলেন, আমি ১০ কাঠাজমিতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ি রসুন চাষ করেছি। সামান্য কিছু প্রণোদনা পেয়েছি যা রসুন ক্ষেতে ব্যবহার করেছি। রসুন গাছ এখন পর্যন্ত ভাল আছে। ফলন ভাল হবে বলে আশা করি। দাম ভাল হলে লাভ হবে আর দাম কম হলে লোকসান হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে মোল্লাডাঙ্গি গ্রামের সুলতান আলী বলেন, কাদায় রসুন চাষ করেছি। এই পদ্ধতিতে রসুন চাষে খরচ অনেকটায় কম হয়। ফলনও হয় বেশি। আমার ক্ষেতের রসুন গাছ এখন পর্যন্ত ভাল আছে। সেচসহ সার-কীটনাশ প্রয়োগ করছি। আশা করি রসুনের ফলন ভাল হবে। তবে বাজারে এখন পর্যন্ত পুরতন রসুনের আমদানী বেশি থাকায় উঠতি মৌসুমে দাম কম যাবে বলে ধারনা করেন তিনি। এজন্য কৃষকদের লোকসান গুণতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রহিমা খাতুন বলেন, মোহনপুরে চাষকৃত রসুনের অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল আছে। কোনো মাঠে রসুন ক্ষেতে রোগবালায়ের আক্রমণ দেখা যায়নি। এজন্য ভাল ফলন হবে বলে ধারনা করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ