মোহনপুরে সার, কীটনাশকের দোকান বন্ধ! বিক্রির সময় নির্ধারণ করে দেয়া হোক

আপডেট: এপ্রিল ৫, ২০২০, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মোহনপুর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ হঠাৎ করেই সার, কীটনাশক ও মুদির দোকান বন্ধ করেছে। এতে চলতি বোরো মৌসুমের ধানখেতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের চূড়ান্ত মুহূর্তে সার ও কীটনাশক কিনতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। দিনের যেকানো নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সার, কীটনাশক ও মুদির দোকান খুলে রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি তেমন হলে তা উদ্বেগজনক বলা যায়। স্থানীয় প্রশাসনের এখনই উদ্যোগ নেয়া বাঞ্ছনীয় হবে।
করোনাভাইরাস শুধু বাংলাদেশ নয়Ñ পৃথিবী জুড়েই এমন আতঙ্ক-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে যে, ব্যক্তি পর্যায়ের মানুষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। মিল-কারখানা, যোগাযোগ বন্ধ হয়েছেÑ উৎপাদন ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ইতোমধ্যে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক প্রবৃদ্ধির অধোগতি সম্পর্কে আভাস দিয়েছে। করোনা ভাইরাস পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে অর্থনৈতিক মন্দার ছাপ ফেলতে শুরু করেছে। এর প্রভাব প্রতিটি মানুষের ওপরই পড়বে। অনেক মানুষ কর্মসংস্থানও হারাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক মন্দার আঁচ যাতে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় সেই কর্ম-উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও কৌশল এখন থেকেই নির্ধারিত হওয়া বাঞ্ছনীয় হবে। অর্থনৈতিক মন্দার ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩১ মার্চ দেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী করেনাভাইরাস মোকাবিলার সাথে সাথে যথার্থই নির্দেশ করেছেন যে, করোনাভাইরাসের ফলে যে অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে দেশ; সে ব্যাপারে অধিক সতকর্তা ও কর্তব্য-কাজ সাধনে এখনই প্রয়াসী হতে হবে। এই মন্দা মোকাবিলার উপায় হলো- আমাদের স্থায়ীত্বশীল কৃষি ব্যবস্থায় উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। একই সাথে উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপারেও কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচিৎ হবে এখন থেকেই বিশেষ তৎপরতা অব্যাহত রাখা এবং কৃষকের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও তাদের পরামর্শ এবং উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা সমুন্নত রাখা। আমাদের সামনেই দৃষ্টান্ত আছে। এ শতাব্দীর শুরুর দশকে যে মহামন্দা সারা বিশ্বকে বিপর্যস্থ করেছিলÑ তখনও বাংলাদেশ তার স্থায়ীত্বশীল কৃষি ব্যবস্থার কারণে সেই মন্দার আঁচ বিন্দু পরিমাণ লাগে নি। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথায় সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন। নিশ্চয় আমরা করোনাভাইরাস মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক মন্দাও কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্তব্যক্তিদের বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখার আহবান জানাই। কৃষকদের পরামর্শের প্রতিধ্বনি করে আমরাও বলতে চাই- উপজেলাগুলোতে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হোক, যে সময়ের মধ্যে কৃষক তাদের প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক সংগ্রহ করতে পারে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠা সহজ কাজ হবে না। করোনাভাইরাসের চেয়েও অর্থনৈতিক মন্দা আমাদের দেশে আরো বড় কোনো অভিঘাত রেখে যেতে পারে- যা মোটেও কাম্য নয়। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার অভিজ্ঞতা ও সুযোগ দুই-ই আমাদের আছে। সেটা কাজে লাগাতেই হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ