মোহনপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে পুরুষশূন্য গ্রামের জনজীবন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২, ১১:১৫ অপরাহ্ণ

মোহনপুর প্রতিনিধি:


মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের তেঘর মাড়িয়া গ্রামে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেকেই আটক হয়েছিলেন। আর গণগ্রেফতারের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরাসহ গ্রামবাসী। মারামারির সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও সকলের মাঝেই গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তালাবদ্ধ ছিল মসজিদ। বন্ধ ছিল মসজিদের আজান ও নামাজ। স্থানীয়দের মতে মোহনপুর থানার ওসির হস্তক্ষেপে সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলার ছোট একটি গ্রাম তেঘরমাড়িয়া। এ গ্রামে সামান্য ৮০টি পরিবারের মানুষের বসবাস। অথচ ছোট এ গ্রামটিতে বসবাসকারি মানুষদের খেটে খাওয়া জীবন যাপনের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে মারামারি, দ্বন্দ, বিবাদ বিরাজমান ছিল। স্থানীয়দের মতে একটি গভীর নলকূপের দখলদারিত্বকে ঘিরে আবু বক্কর এবং মনসুর গ্রুপের আত্মপ্রকাশ ঘটে। তারা নিজেদের আধিপত্যকে টেকাতে ইতোপূর্বে একাধিকবার সংঘাতপূর্ণ দ্বন্দে¦ জড়াত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ সেপ্টেম্বর আবুবক্কর ও মনসুর গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এঘটনায় আবু বক্করসহ কয়েক জন গুরুতর আহত হন। অজ্ঞান অবস্থায় আবু বক্করকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় আবু বক্করের পক্ষে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই মাঝে গত ১৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে গ্রামের একটি বাড়ির জমি মাপজোকের সময় আবু বক্কর এবং মনসুর গ্রুপের লোকজন রক্তক্ষয়ী মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় গ্রুপের ৭ থেকে ৮ জন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে ৮ থেকে ১০ জনকে আটক করে থানায় নেয়। এসময় মারামারির সঙ্গে জড়িত না থাকা ও নারী শিশু ছাড়া সাধারণ মানুষও গ্রামছাড়া হন। পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে তেঘর মাড়িয়া গ্রামটি। এ মুহূর্তে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মারামারির সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পেয়ে আটককৃতদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরে এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। ঘটনার দুদিন পর পুরুষশূন্য গ্রামটি অনেকটাই স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানায় গ্রামের একাধিক মানুষ।

২০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে ওই গ্রামে গিয়ে কথা হয় একাধিক গ্রামবাসীর সঙ্গে। তাদের মধ্যে নমীর উদ্দিনের ছেলে আবদুল হামিদ বলেন, ১৬ সেপ্টেম্বরের মারামারির পর সবাই পালিয়ে যান। পরে যখন জানাজানি হয়েছে তখন যারা মারামারির সাথে ছিলনা তাদের ওসি স্যার ছেড়ে দিয়েছেন। তার পর যারা মারামারি করেনি তারা বাড়ি ফিরে আসতে শুরু করে। এখন অনেকটাই জীবনযাপন স্বাভাবিক হয়েছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুল কলেজে যেতে পারছে। তিনি দ্রুত এঘটনার নিরসন চান। খোদা বক্সের স্ত্রী সাহেরা বিবি বলেন মাঝে মধ্যে পুলিশ আসছে বলেই গ্রাম এখন শান্ত আছে বাবা। পালিয়ে যাওয়া মানুষগুলা বাড়িতে আসুক। আর যেন মারামারি না হয় এমন আশা করেন তিনি। গ্রামের উত্তরপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আকবর আলী বলেন, দুদিন মসজিদে মুছল্লি ছিল না। এখন আজান হচ্ছে মুছল্লিরাও নামাজ পড়ছেন। সাধারণ মানুষদের পুলিশ কিছু বলেন নি তাই পরিস্থিতিটা দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে। আর যেন এধরনের দ্বন্দ¦, ফ্যাসাদ, মারামারি না হয় এজন্য তিনি সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

মন্তব্য জানতে মনসুর গ্রুপের কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আহত বাক্কারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলা হলে তিনি জানান, হত্যার উদ্দেশ্যেই আমার উপর অতর্কিত হামলা চাালিয়ে দুইহাত এবং দুই পা ভেঙ্গে দিয়েছে। গলার কাছে গভীরভাবে গর্ত হয়ে গেছে। আমাকে উদ্ধার করতে আসা আমার কয়েকজন নিরীহ মানুষসহ একজন ভ্যানচালককেও মারপিট করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমি এখন পঙ্গু। প্রশ্রাব পায়খানা হাসপাতাল বেডে শুয়েই করতে হচ্ছে। থানায় মামলা হয়েছে। আমি এঘটনার আইনানুগ সঠিক এবং সুষ্ঠু বিচার চাই।
মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রামে পরপর দুই দিন মারামারির ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে রয়েছেন। গ্রামবাসীকে হয়রানিমূলক কোনো অভিযান চালানো হয়নি। গ্রামের শান্তি রক্ষার্থে জনপ্রতিনিধের দাবির মুখে ইউএনও মহোদয় বিষয়টি মিংমাসার চেষ্টা করছেন।