ম্যাকলিন পার্কের অভিষেকেই বাংলাদেশের প্রথম?

আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



সকাল থেকেই আকাশের মুখ গোমড়া। ছোট্ট রাত শেষে নেপিয়ারে দিন হয়েছে বটে, তবে সূর্যের মুখ দেখার জো নেই। ঘন কালো মেঘে ঢাকা আকাশের নিচেই হিম বাতাসে জমে যাওয়া শরীর গরম করল বাংলাদেশ দল। নেট অনুশীলন শুরু হতে যাবে, তখনই আকাশের কান্না। সবার ছুটোছুটি।
বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষার পর একটু ছুটি নিল বৃষ্টি। ব্যাটসম্যানরা নেটে নামতেই আবার শুরু। শেষ পর্যন্ত অনুশীলন আর হতেই পারল না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টির আগে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র অনুশীলন। সেটিও গেল ভেস্তে।
ম্যাচের ভেন্যু ম্যাকলিন পার্কে তখনও পা রাখেনি বাংলাদেশ দল। এই মাঠে মূলত রাগবি ও ক্রিকেট, দুটিই খেলা হয়। ম্যাকলিন পার্কের পাশেই নেলসন পার্ক, শুধুমাত্র ক্রিকেটের জন্য মাঠ এটিই। সোমবার এখানেই ছিল মাশরাফিদের অনুশীলন। নেলসন পার্ক থেকে পাশে তাকালেই চোখে পড়ে, নাম না জানা সবুজ গাছের সারির ওপর দিয়ে উঁকি মারছে ম্যাকলিন পার্কের ফ্লাডলাইট টাওয়ার। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগের বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশের জন্য ফ্লাড লাইটের ওই বাতিগুলোর মতোই উঁচুতে নিউজিল্যান্ড। তাকিয়ে দেখতে হচ্ছে অনেক নিচ থেকে!
টি-টোয়েন্টিতে দেশ-বিদেশ মিলিয়েই কখনও বাংলাদেশ হারাতে পারেনি নিউজিল্যান্ডকে। র‌্যাঙ্কিংয়ে দুদলের ব্যবধানটাও আকাশ-পাতাল। নিউজিল্যান্ড যেখানে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল, বাংলাদেশ ধুঁকছে ১০ নম্বরে। ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ক্ষত এখনও দগদগে। এইসব বাস্তবতা নিয়ে শুরু হচ্ছে যে সিরিজ, নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না সেটিতে ফেভারিট কে!
বিস্ফোরক সব ব্যাটসমান, দুর্দান্ত কিছু অলরাউন্ডার আর এই কন্ডিশনে কার্যকর বোলারে ভরপুর নিউ জিল্যান্ড দল। ম্যাচ উইনারের অভাব নেই। বাংলাদেশ সেখানে এই সংস্করণের ভাষা কেবল পড়ে উঠতে শুরু করেছে। দু  দলের সবশেষ টি-টোয়েন্টিতে গত বিশ্বকাপে মুস্তাফিজুর রহমানের ৫ উইকেটের পরও উড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
সব দিক থেকেই তাই অনেকটা পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে আর সব কিছু ছাপিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা, ওয়ানডে সিরিজে সব ম্যাচ হারার ধাক্কা সামলে ওঠা। নেপিয়ারে আসার পর এমনিতে দলকে বেশ ফুরফুরেই মনে হচ্ছে। ক্রাইস্টচার্চ-নেলসনের তুলনায় আরও প্রাণবন্ত ও জীবন্ত শহর। বাংলাদেশ দলের আস্তানা টে পানিয়া সিনিক হোটেলের ঠিক সামনেই হকস বের সুনীল জলরাশি। কাঁচঘেরা সব কক্ষ থেকে সামনে তাকালেই মন ভালো হয়ে যায়। তবে প্রকৃতির সৌন্দর্য আর শহরের প্রাণে কি হারের হতাশা ভোলা যায়! সোমবার অনুশীলন প- হওয়ার পর টিম বাসে ওঠার আগে ঝিরঝির বৃষ্টিতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের সহঅধিনায়কের দাবি, হতাশা পেছনে ফেলে দল এখন অনেকটাই চাঙা। এই সংস্করণে নিউজিল্যান্ড কতটা ভয়ঙ্কর দল, সেটি অবশ্য উঠে এল তার কণ্ঠে। ম্যাচের মাঠ-উইকেট তখনও দেখা হয় নি। তবে এখানকার চলতি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে রান উৎসব দেখে দলের ধারণা, প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও বড় রানের খেলা হবে। ম্যাকলিন পার্ক এমনিতেও নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং উইকেটগুলোর অন্যতম। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে ভূমিকম্প ব্যাপারটি যত নিয়মিত, তার চেয়ে বেশি নিয়মিত এখন বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস!
সাকিব অবশ্য বাস্তবতার স্রোত ঠেলেই আশার তরী বাইলেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের সামর্থ্য এই দলের আছে বলে শোনালেন ভরসার গান। যুক্তি-তর্কে সেই দাবির পাল্লায় ওজন হবে কমই। তবে খেলাটি তো ক্রিকেট, অনিশ্চয়তার খেলার সবচেয়ে অনিশ্চিত সংস্করণ টি-টোয়েন্টি। হতে পারে যে কোনো কিছুই! অনুশীলনে বৃষ্টি বাধার পরই মূল ভেন্যু ম্যাকলিন পার্ক দেখতে গেল গোটা দল। ১৯৫২ সালে তৈরি স্টেডিয়ামে টেস্ট হয়েছে ১০টি, ওয়ানডে ৪২টি। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি এই প্রথম। কে জানে, হয়ত এই বিশেষ উপলক্ষ রাঙাবে বাংলাদেশই; এই মাঠের অভিষেকেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাটিতে ধরা দেবে প্রথম জয়!
বাস্তবতায় কঠিন, তবে অসম্ভব তো কিছুই নয়। ইতিহাস বলে, যখনই বাংলাদেশকে গোণার বাইরে ধরা হয়, দলকে মনে হয় ছন্নছাড়া, যখনই দেয়ালে ঠেকে যায় পিঠ, অভাবনীয়ভাবেই গর্জন করে সবাইকে চমকে দেয় এই দল। ম্যাকলিন পার্কে সেই গর্জন শোনার অপেক্ষাতেই কান পেতে বাংলাদেশ।-বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ