ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পালালেন আড়তদার, জরিমানা দেড় লাখ

আপডেট: মার্চ ২১, ২০২০, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


করোনাভাইরাসের কারণে যেকোনো সময় ‘লকডাউন’- এর আশঙ্কায় মানুষ। এজন্য অধিক পরিমাণ নিত্যপণ্য মজুত করছেন তারা। এ সুযোগে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের ধরতে ঈশ্বরদীতে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার সকালে চাল ব্যবসায়ী, কাঁচামালের আড়ত ও হোটেল-রেস্টুরেন্টে বেশি দামে পণ্য বিক্রি এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকার অভিযোগে আট প্রতিষ্ঠান-মালিককে মোট এক লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বেশি দাম রাখার অভিযোগ পেয়ে একটি কাঁচামাল আড়তে অভিযান চালালে ব্যবসায়ীরা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে পালিয়ে যান। তবে তাদের গ্রেফতারে ওই আড়তে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ মহল এ অভিযান পরিচালনা করেন। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বাড়ানোয় চাল ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিনকে ৫০ হাজার, কাঁচামালের আড়তের চার ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার ৫০০ এবং রেলগেটের তিনটি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট হতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব রায়হান বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে পরিষদ মিলনায়তনে এক সভার আয়োজন করেন। ওই সভায় তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অযথা বৃদ্ধি না করার আহ্বান জানান।
স্থানীয়রা জানান, দুদিনের ব্যবধানে ঈশ্বরদী বাজারে চাল ও পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি দাম বেড়েছে আদা, রসুন ও আলুর। শুক্রবার চাল কেজিপ্রতি ৫৯ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা গতকাল ছিল ৫৪ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়, গত বুধবার যা বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকায়। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়, দুদিন আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়, যা বুধবারে ছিল ১৪০-১৫০ টাকা। ১০০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া আদার দাম বেড়ে হয়েছে ১৭০-১৮০ টাকা। ১৮-২০ টাকার গোল আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৮ টাকায়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ মহল জানান, করোনাভাইরাসের আতঙ্ক-কে পুঁজি করে কেউ যেন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, মজুত থাকার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম না বাড়াতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন আজ থেকে মাঠে থাকবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ