ময়মনসিংহে বোমা বিস্ফোরণে নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গি আলম || রাগ করে পাঁচ মাস আগে নাটোরের বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ

আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০১৭, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


পরিবারের ওপর রাগ করে গত পাঁচ মাস আগে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে নিরুদ্দেশ হয় ময়মনসিংহের ভালুকায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গি নাটোর সদর উপজেলার চকআমহাটি এলাকার আলম প্রামানিক (৩০)। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান মেলে নি।
গত ২৪ আগস্ট ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকার একটি আধা-পাকা বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন। এরপর বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। নিহত আলম প্রামানিক নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের পিয়ন চকআমহাটি এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তবে নিহত জঙ্গি আলম প্রামানিকের মরদেহ তার পরিবার গ্রহণ করবে কিনা সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছুই বলে নি তার পরিবার।
জঙ্গি আলম প্রামানিকের পরিবার জানায়, গত এপ্রিল মাসে বাবা আবুল কালামের কাছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ক্রয় করার জন্য একলাখ টাকা দাবি করে আলম প্রামানিক। কিন্তু তার বাবা দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর পরিবারের ওপর রাগ করে স্ত্রী পারভিন বেগম (২৫) এবং দুই সন্তান ইয়ামিন (৯) ও ইসমাইলকে (৬) নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায়। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের লোকজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গতকাল সোমবার সকালে জঙ্গি আলম প্রামানিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষের জটলা। পরে গণমাধ্যমকর্মী এবং পুলিশের কাছে বোমা বিস্ফোরণে ছেলে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আহাজারিতে ভেঙে পড়েন তার পরিবার। ছুটে আসেন আশপাশের প্রতিবেশীরা। এলাকায় শান্ত স্বভাবের হিসেবে পরিচিত ছিল আলম। তবে আলম জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে এটা বিশ্বাস করতে পারছে না তার পরিবার এবং এলাকাবাসী।
এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আলম প্রামানিকের বাবা আবুল কালাম ও মা আম্বিয়া বেগম বলেন, গত পাঁচ মাস আগে ছেলে আলম তার কাছে একলাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু গরীবের সংসারে এতো টাকা দেয়া সম্ভব হয় নি। পরে তার ছেলে আলম রাগ করে বলে, যেদিন সে একলাখ টাকা জোগাড় করতে পারবে, সেদিন বাড়ি ফিরবে। এই বলেই স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে বের হয়। এরপর আলমের সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায় নি। ছেলে নিখোঁজের পর তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে সোমবার সকালে পুলিশ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তিনি ছেলে নিহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। তবে তার লাশ গ্রহণ করবেন কি না সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক তিনি কিছু জানান নি।
এদিকে, নিখোঁজ ছেলের সন্ধানের জন্য চলতি বছরের ৬ জুলাই নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে আলম প্রামানিকের বাবা আবুল কালাম। জিডির তদন্তও করে পুলিশ। কিন্তু আলমের কোন অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে নি তারা।
জিডির বিষয়ে নাটোর সদর থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, আলম প্রামানিক নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে, সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে। তদন্ত করতে গিয়ে সে কোথায় অবস্থান করছে তার বিষয়ে কোন নিশ্চিত হওয়া যায় নি। যার কারণে তাকে খুঁজেও পাওয়া যায় নি।
এদিকে, আলম প্রামানিকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে গতকাল দুপুরে তার বাড়িতে যান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহাবুব আলম। সেখানে গিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মাহাবুব আলম বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে তার বাড়িতে গিয়ে কিছু তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সঙ্গে এখানকার তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।