যুক্তরাজ্যে কনসার্টে জঙ্গি হামলা || নিরীহ-নিরাপরাধ মানুষ এ ভাবেই মরবে?

আপডেট: মে ২৫, ২০১৭, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি ইনডোর স্টেডিয়ামের কনসার্টে এক আত্মঘাতী বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ৫৯ জন।
বিবিসির তথ্য মতে,  সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে কনসার্ট শেষ হওয়ার পরপরই বিস্ফোরণের ওই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। ঠিক দুই মাস আগে গত ২২ মার্চ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাছে এক জঙ্গি হামলায় পুলিশসহ পাঁচজন নিহত হন, আহত হন অন্তত ৪০ জন। আর ২০০৫ সালে লন্ডনের চার জায়গায় একসঙ্গে আত্মঘাতী হামলায় ৫২ জন নিহত হন।
যুক্তরাজ্যের বিস্ফোরণের ঘটনা বিশ্বের দেশে দেশে সংবাদ মাধ্যমগুলেতে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। ঘটনায় বিশ্ববিবেক মর্মাহত, স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ। এমন ভীষণ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বার বার সভ্যতার মুখে কালিমা লেপণ করে দিচ্ছে আমরা মানবসমাজ নির্বিকার ওই ভয়ঙ্কর অন্ধকারের মধ্যে নিজ নিজ স্বার্থ অনুসন্ধান করে চলেছি- সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারছি না। অথচ যে মানুষেরা নিরীহ- নির্বিবাদী তারাই সহিংসতার মূল লক্ষে পরিণত হচ্ছে। সন্ত্রাসী- জঙ্গি সংগঠন আইএস ওই ন্যক্কারজনক ও কাপুরোষিত হামলার দায় স্বীকার করেছে। দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি সংক্রান্ত সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, অর্থাৎ ‘ক্রিটিক্যাল’ বা ‘সংকটপূর্ণ’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরো সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করেছেন।
এ কোন যুদ্ধ? নিরীহ, নিরপরাধ, নিরস্ত্র মানুষকে বার বার বলি দিয়ে কোন লক্ষ্যে পৌঁছনো যাবে? কার স্বার্থে এ যুদ্ধ হচ্ছে? প্রত্যেক আঘাতে অজস্র প্রাণহানি ঘটিয়ে কোন উদ্দেশ্য সাধিত হবে? এমন ভয়ঙ্কর আঘাতে বার বার মানবজাতিকে রক্তাক্ত করে মানবতার কোনও কল্যাণ সাধিত হতে পারে না। ম্যানচেস্টারের এই জঘন্য হত্যালীলারচক্রী যারা, তার মানবজাতির সবচেয়ে বড় শত্রু, সভ্যতার সর্বাপেক্ষা ঘৃণিত প্রতিপক্ষ।
কিন্তু এই ঘৃণিত প্রতিপক্ষকে সামলাবে কে? যারা মানবিক বিযর্পয় ঘটাতে চায়, সভ্যতাকে কলঙ্কিত করতে চায়Ñ তাদের শক্তি- সাহসের উৎস কী? যে উৎস থেকে সন্ত্রাসী-জঙ্গিরা এই শক্তি ও সাহস পাচ্ছে সেই উৎসের ওপরই মানব-বিপর্যয়ী বিষ উগরে দিচ্ছে। অর্থাৎ যে উৎসে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি সেই উৎসেই সে বিলীন হতে চায়। মাঝখান থেকে নিরীহ- নিরাপরাধ মানুষের জীবন-সর্বস্ব হারায়।
অতিসম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদিআরব সফর করেছেন। সৌদিআরবের সাথে বিশ্বের এ যাতৎকালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি হয়েছে। অর্থাৎ সৌদিআরব ১১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র কিনবে আমেরিকার কাছ থেকে। এই অস্ত্র বিক্রির চুক্তির মধ্যেই জঙ্গি-জঙ্গিবাদ, অস্ত্র বাণিজ্য এবং বিশ্ব রাজনীতির গভীর সম্পর্কগুলো সম্পৃক্ত আছে। অস্ত্র বিক্রির এই প্রতিযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিকে অস্থির করে রাখবারই একটি পরিপক্ক রাজনীতি। এই সুপার রাজনীতিতে প্রতিনিয়তই শত্রু শত্রু খেলা, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা হয়- আর বিপুল পরিমাণের অস্ত্র-বাণিজ্য হয়। বাণিজ্য প্রসারিত হয়। এ যেন সাপের মুখে আবার ব্যাঙের মুখে চুমো দেয়ার মত একটা কঠিন ও জটিল রাজনীতি। উন্নত দেশগুলো তাদের ল্যারেটরিতে সন্ত্রসিী-জঙ্গিবাদ তৈরি করে দরিদ্র ও উন্নয়নকামী দেশগুলোর রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থ ব্যবস্থাকে টালমাটাল বিপর্যস্থ করে মূলত তাদের অস্ত্রনির্ভর অর্থনীতিকে সবসময় চাঙ্গা রেখেছে। তাদেরই সৃষ্টি সন্ত্রাসী জঙ্গিরা এখন ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্য হয়ে এখন তাদেরই মুখভেংচাচ্ছে। তাতেও তাদের বোধোদয় হয়েছে বলে মনে হয় না। যে কোনো উপায়ে তাদের অস্ত্রের কারবার চালাতেই হবে, না হলে তাদের ভোগবাদী অর্থনীতি ঝুলে পড়বে যে।
আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার চেয়েও ভীষণ-ভয়ঙ্কর অস্ত্র বাণিজ্য ও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি। এর অবসান হলেই সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদের আর প্রয়োজন হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ