যুক্তরাজ্যে তীব্র দাবদাহ, ফ্রান্স পুড়ছে দাবানলে

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২২, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


তীব্র দাবদাহে দিশেহারা ইউরোপের মানুষ। মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে যোগ হয়েছে দাবানল। ফ্রান্সের বন্দর নগরী বোহদ্যুর কাছে দানবাকৃতির একটি দাবানল নেভাতে কাজ করছেন এক হাজারের বেশি ফায়ারফাইটার।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার থেকে ‘তীব্র দাবদাহ’ বিষয়ে চার দিনের জন্য ‘আম্বার ওয়ার্নিং’ জরি করেছে। এই সময়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকবে। কোথায় কোথায় এটি ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পরে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানায় বিবিসি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, তীব্র উত্তাপের কারণে পানি সরবরাহ এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। অনুকূল পরিবেশ পেয়ে জ্বলে উঠতে পারে দাবানল।

যেমনটা জ্বলছে বোহদ্যু নগরীর কাছে। বিবিসি জানায়, বোহদ্যু নগরীর কাছে যে দাবানল জ্বলছে সেটির কারণে এরইমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

দুইদিন আগে শুরু হওয়া দাবানলটি লন্ডিরাস পৌরসভার কাছে পৌঁছে গিয়েছে। বোহদ্যু নগরী থেকে ওই পৌরসভাটি ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

স্থানীয় একটি রেডিওতে ফায়ারফাইটারদের একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘‘ওটা একটি রাক্ষস, ওটা একটি দানব।”
ঝড়ো বাতাস এবং উচ্চ তাপমাত্রা দাবানলের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি ফায়ারফাইটারদের আগুন নেভানোর কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

অস্ট্রিয়া, জার্মানি, গ্রিস, পোল্যান্ড ও রোমানিয়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সকে ‘সহায়তার জন্য আসছে’ বলে জানিয়েছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ। এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘‘ইউরোপের সংহতি কাজে নেমে পড়েছে।”

পুরো মহাদেশ জুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা এবং খরার কারনে ফ্রান্সসহ ইউরোপের অনেক দেশকে ভয়াবহ দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।
তীব্র তাপদাহ জনিত কারণে স্পেন এবং পর্তুগালে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে যে ‘আম্বার ওয়ার্নিং’ জারি করা হয়েছে তা ‘রেড ওয়ার্নিংয়ের’ পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা। যা আগামী রোববারের পর কিছুটা কমে আসতে পারে।

এই সময়ে প্রচন্ড উত্তাপে নানা স্বাস্থ্যজনিত সংকটে পড়তে পারেন বলে সতর্কতা জারি করে লোকজনকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রোদের প্রচন্ড তাপে লন্ডনের তৃণভূমি শুকিয়ে খটখটে হয়ে গেছে। ফলে সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেও ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে বৃহস্পতিবার সতর্ক করেছেন লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের সহকারী কমিশনার জনাথন স্মিথ।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘‘দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর এবছর জুলাই মাসের দাবদাহের সময় লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডকে ব্যস্ততম সময় পার করতে হয়েছে। এছাড়া, অগাস্টের প্রথম সপ্তাহেই তাদের তৃণভূমি, আবর্জনার স্তুপ এবং খোলা জমিতে আগুন লাগার ৩৪০টি ঘটনা মোকাবেলা করতে হয়েছে। গত বছর এই সময় যে সংখ্যা ছিল মাত্র ৪২টি।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ