যুক্তরাষ্ট্রে ক্লাইমেট ইস্যুতে সম্মেলন বিশ্ব সুসংবাদ শোনার অপেক্ষায়

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০২১, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি
৯ এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। আগামী ২২-২৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে ক্লাইমেট ইস্যুতে একটি সম্মেলনের আমন্ত্রণ দিতেই মূলত তিনি ঢাকায় আসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি জো বাইডেনের পক্ষ থেকে এই সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। যুক্তরাষ্ট্রে ৪০টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে এই জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সশরীরে আমন্ত্রণপত্র দিয়ে গেলেন জন কেরি। জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি ঢাকা সফরকালে যৌথ সংবাদ সেেম্মলন ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে পৃথক বৈঠক করেছেন।
সুখের কথা যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তিতে পুনরায় ফিরে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস চুক্তি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। এবং সেটা ছিল একটি কঠিন সিদ্ধান্ত যা জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অগ্রগতির ধারা ব্যাহত হয়। সেখানে আশার সঞ্চার হয়েছে- এটা পৃথিবীর জন্য সুখবরই বটে। পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে কিংবা পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই প্যারিস চুক্তির আলোকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে এর কোনো গত্যন্তর নেই। জো বাইডেন প্রশাসন এই শুভ উদ্যোগের ধারায় ফিরে আসায় তারা ধন্যবাদযোগ্য।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জন কেরি যথার্থই বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য সব দেশকে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ, এটি একক কোনো দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে এটা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলার জন্য প্রতিবছর ১০০ কোটি ডলার তহবিলে অর্থায়ন করার কথা উন্নত বিশ্বের। কিন্তু এ বিষয়ে অগ্রগতি খুবই কম। মার্কিন প্রেসিডেন্টের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরিকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান তিনি। একই সাথে তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, প্রতি বছর ১০০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের কাজটি জন কেরি এগিয়ে নিতে পারবেন।
তবে জন কেরি এটা আশ্বস্ত করেছেন যে, ওবামা প্রশাসন গ্রিন জলবায়ু তহবিলকে এক বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন ১শ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে। কেরি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রসর উদ্যোগ নিয়েছে যা ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপি আলোচিত বিষয়। সরকার অন্য উদ্যোগের পাশাপাশি জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিল গঠন করেছে।
২২-২৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে ক্লাইমেট ইস্যুতে যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তা সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়েই বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তির যথার্থ বাস্তবায়ন দেখতে চায় এবং বিশ্ববাসী সত্যিকার অথেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় সুসংবাদ শোনার অপেক্ষায় থাকলো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ