যুগোপযোগী পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার ধারা অব্যাহত থাকুক

আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২২, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

প্রমত্তা পদ্মার তীর ঘেঁষা নান্দনিক সৌন্দর্যের শহর রাজশাহী। যে শহরের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য এখন বিশ্বব্যাপি আলোচিত। আর এই সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে নগরীর সর্বত্রই। সরকারের সবুজবান্ধব যুগোপযোগী পরিকল্পনা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নগরবাসীর সচেতন প্রত্যাশাই নগরী সৌন্দর্যের উৎকর্ষতায় প্রতিনিয়তই বাড়তি মাত্রা যোগ হচ্ছে-এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি রাজশাহীতে এসে বাংলাদেশ সরকারের শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এ অঞ্চলের সিল্ক, পাট, শিক্ষা ও নান্দনিকতার গৌরব ধরে রেখে বহুমাত্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যশা ব্যক্ত করেছেন। যেটা অবশ্যই এ অঞ্চলের অগ্রযাত্রার জন্য ইতিবাচক।
শিল্পমন্ত্রী রাজশাহীর সৌন্দর্য উপভোগ করে শুধু মুগ্ধই হন নাই; বরং বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকেগুলোকে কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব কমিয়ে আনাসহ নান্দনিকতার উৎকর্ষতা সাধনে তার ইতিবাচক সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন। একইসঙ্গে ভারি ও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে এমন শিল্প প্রতিষ্ঠান এ জেলায় যেন না হয়, সেদিকে গভীর সর্তক থাকতে প্রশাসনকেও জানিয়েছেন। জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করতে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও জানান তিনি। সৌন্দর্যের দিক থেকে উন্নত দেশের বিলাসী সিটির সঙ্গে রাজশাহীতে তুলনা করে সে আদলেই নগরীকে গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা বলেন। দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্টসহ পর্যটনকেন্দ্রের যে সুবিধাগুলো আছে সীমিতভাবে হলেও সেগুলো এখানে আনতে উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী।
রাজশাহীর প্রকট বেকারত্ম সমস্যা সমাধানে অধিক কর্মসংস্থান করতে পারে এমন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতি বিশেষ সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি। কর্মসংস্থানবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এ জেলার আম, রেশম, পাটের তৈরি বিচিত্র্যময় পণ্যের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তজার্তিক বাজারে প্রভাব বিস্তারের দিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান। এ অঞ্চলের কৃষিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার জন্য বলেন। একই সঙ্গে অংশীজনদের এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। রাজশাহীকে জাতীয় ও আন্তজার্তিক খেলাধুলার ভেন্যুর জন্য গড়ে তুলে পর্যটক আকৃষ্টের জন্য বলেন। টুরিজমকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে রাজশাহীর পাশে মালদা-মুর্শিদাবাদের সাথে সুদূর প্রসারী বাণিজ্যিক যোগাযোগ চালু করে এই নৌবন্দরের রুটটাকে ব্যবহার করার ইতিবাচক বার্তা দেন। এ অঞ্চলের বন্ধ কারখানাগুলো দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সচল করতে সরকারের উদ্যোগের কথা বলেন। এমন বহুমাত্রিক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এ অঞ্চলের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে যুগোপযোগী উন্নয়নের জন্য সহায়ক এবং সময়ের দাবি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ