যুবলীগ নেতার ছেলেকে মারপিট ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ভাঙচুর

আপডেট: জুন ৬, ২০২০, ৯:২৩ অপরাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি:


নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলাল শেখের ছোট ছেলে নাঈম শেখকে (২২) আহত করার ঘটনায় তার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গুরুদাসপুর বাজারে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আহত নাঈম শেখ গ্রুপের আশিক শেখ (২৬) ও ফাহিম আল মাহমুদ শান্ত (২১) এবং মোজাম্মেল গ্রুপের শাকিল (১৮) ও হাসমত (১৮)। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে তাদের নাটোর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। নাঈমের মাথায় ১৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে নাঈম আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. রবিউল করিম শান্ত।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে গুরুদাসপুর বাজারের কালুর চা স্টলে নাঈম, শাকিল ও হাসমতের মধ্যে টফিন নামের নেশার ওষুধ নিয়ে তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে নাঈমের ওপর চড়াও হয়ে এলোপাথাড়ি চায়ের কাপ দিয়ে আঘাত করে সহপাঠি হাসমত ও শাকিল। রক্তাক্ত অবস্থায় নাঈমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ খবরে নাঈমের অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত শাকিলের বাড়িঘর ও গুরুদাসপুর বাজারে হাসমতের ফুপা বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। শনিবার বিকেলে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী আসমা খাতুন থানায় বাদী হয়ে ৫-৭ জন হামলাকারীর নামে মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে গুরুতর আহত করায় শাকিল ও হাসমতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন যুবলীগের সভাপতি আলাল শেখ।
চেয়ারম্যান মোজাম্মেল বলেন, ঘটনা ঘটেছে বন্ধুদের মধ্যে। এ অজুহাতে আমার বাড়িতে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলাল শেখ বলেন, আমার আহত সন্তানকে বাঁচাতে ব্যস্ত ও টেনশনে ছিলাম। হামলা ও ভাঙচুরের ব্যাপারে কিছু জানি না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তদন্তপূর্বক দোষিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ