যুবলীগ নেতা মনিরুল হত্যার ৭ বছর আজ মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি মুন্সি’র চাকরিচ্যুত ও এমপিও বাতিল হয়নি

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২১, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ


শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


শিবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফের কোষাধ্যক্ষ ও যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলামের হত্যাকান্ডের ৭ বছর আজ রোববার (২৪ অক্টোবর)। ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর শিবগঞ্জ স্টেডিয়ামের কাছে পরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় । এ হত্যা মামলার রায় হয়েছে ২০১৯ সালের ২০ জুন। রায়ে ৯ জনের মৃত্যুদন্ড ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক। তবে, উচ্চ আদালতে আসামীরা আপিল করার জন্য রায় কার্যকর আদেশ অপেক্ষামান।

কিন্তু মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি সিরাজুল ইসলাম মুন্সির চাকরি ও এমপিও বহাল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাাদ রহিমা বেগম। জানা গেছে, মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি সিরাজুল ইসলাম মুন্সি বালিয়াদিঘী দারুস সুন্নাহ গোলিস্থায়া দাখিল মাদ্রাসায় সহ-সুপার পদে চাকরি করতেন। আর বালিয়াদিঘী দারুস সুন্নাহ গোলিস্থীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মালেকের দাবি আদালতের রায় ঘোষণার কিছুদিন পরেই সিরাজুল ইসলাম মুন্সিকে চাকরি থেকে বহিষ্কার আদেশ চেয়ে নীতিমালা অনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ডিজি বরাবর আবেদন পাঠানো হয়েছে।

এব্যাপারে নিহত মনিরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদি রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীকে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আদালতও এর রায় ঘোষণা করেছেন। আমি এ রায়ের প্রতি সন্তুষ্ট। তবে, আসামিদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে আপিল করায় রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক অত্র মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মালেক মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি সিরাজুল ইসলাম মুন্সিকে এখন পর্যন্ত চাকরিতে বহাল রেখেছেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। আসামিদের রায় কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেনো সিরাজুল ইসলাম মুন্সিকে দ্রুত তার চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এদিকে, বালিয়াদিঘী দারুস সুন্নাহ গোলিস্থীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মালেক জানান, আমি ও গভর্ণিং বডি আদালতের রায় ঘোষণার কিছুদিন পরেই মো. সিরাজুল ইসলাম মুন্সিকে চাকরি থেকে বহিষ্কার আদেশ চেয়ে নীতিমালা অনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ডিজি বরাবর আবেদন পাঠিয়েছি। তার বেতন-ভাতাও বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এখনো তার এমপিও বন্ধ হয়নি। এমপিও বাতিলের আবেদন গত ১৪ সেপ্টেম্বর-২০২১ইং তারিখে আমাদের ফেরত পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর। ফেরতকৃত আবেদনে বলা হয়েছে তদন্তের প্রয়োজন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা সিরাজুল ইসলাম মুন্সির এমপিও বাতিল চেয়ে পূণরায় আবেদন করবো।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা একাডেমি সুপার ভাইজার আব্দুল মান্নান জানান, আমার জানা মতে বালিয়াদিঘী দারুস সুন্নাহ গোলিস্থীয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে সহ-সুপার সিরাজুল ইসলাম মুন্সির এমপিও বাতিলের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক অফিস এখনো কেউ আবেদন করেছে এটা আমার জানা নাই।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর দুপুরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আখেরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম মুন্সিসহ আসামিরা সিান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামকে তার শিয়ালমারা গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ স্টেডিয়ামের কাছে মনিরুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মনিরুলের স্ত্রী রহিমা বেগম বাদি হয়ে শিবগঞ্জ থানায় ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিচারকার্য শেষে ২০১৯ সালে ২০ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ৯ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেন। এর মধ্যে সিরাজুল ইসলাম মুন্সি মৃত্যুদ- প্রাপ্ত অন্যতম আসামি।