যুব দিবসে যুব সমাজ যুবকদের প্রতি সুবিবেচনার এখনই সময়

আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২০, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

দেশের মোট জনগোষ্ঠির ৪৯ শতাংশই তরুণ। যাদের দক্ষতা ও সামর্থ্যের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠবে বাংলাদেশের ভবিষ্যত। তবে কর্মসংস্থানের অভাব ও মাদক-প্রাব্যল্যের কারণে সম্ভাবনাময় তরুণদের একটি অংশ দেশের সম্পদ না হয়ে বরং বোঝায় পরিণত হচ্ছে। এই তরুণদের মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক দায়বোধের প্রচণ্ড ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সমাজে অস্থিরতা ছড়াছে। বিড়ম্বনার মুখে দাঁড়াতে হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও দেশকে।
মানব জীবনকে কয়েকটি স্তর পার করে জীবনে বার্ধক্য অবধি পৌঁছাতে হয়। তারপরও লেনদেন চুকিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হয়। কিন্তু থেকে যায় মানুষের কর্ম। এই কর্ম ব্যক্তিকে যেমন বাঁচিয়ে রাখে- তেমনি তার কর্ম-ত্যাগ মানুষকে অনুপ্রাণিত- উৎসাহিত করে। এভাবেই একটি মানবিক ও স্বনির্ভর সমাজ গড়ে উঠে। আর এই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়তে তারুণ্য শক্তি সবসময় অগ্রভাগে থেকেছে। যুব শ্রেণি যেখানে ঐক্যবদ্ধ, নিষ্ঠা ও নৈতিকতা কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ সেই জনগোষ্ঠিকে কোনোভাবেই অগ্রগতি ও উন্নয়ন থেকে বিরত রাখা যায় না। এ জন্য যুবশ্রেণিই দেশের ভবিষ্যত ভিত রচনা করে। জাতির শক্তির প্রতীকরূপে পরিগণিত হয়। যে কারণেই যুবশ্রেণিকে সামাজিক দায় ও কর্তব্যের নিরীখে গড়ে তোলা রাষ্ট্র ও পরিবারের দায়িত্ব। তবেই জাতির আশা-আকাক্সক্ষার যথার্থ প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব হয়।
যুবসমাজ সবসময়ই যেকোনো দেশের সর্বাপেক্ষা বলিষ্ঠ, আত্মপ্রত্যয়ী, সৃজনশীল ও উৎপাদনক্ষম চালিকা শক্তি। এই করোনা মহামারিকালেও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে যেমন ভূমিকা রাখছে এবং স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। দেশের বিভিন্ন উদ্ভাবনিমূলক প্রকল্পেও যুবসমাজ ভূমিকা রাখছে।
তবে এর উল্টো পিঠও আছে। সেটা খুবই উদ্বেগজনক। জাতির কাক্সিক্ষত উদ্দেশ্যের সাথে একেবারে বেমানান। যুব শ্রেণি দুর্বৃত্তায়নের মধ্যে নিজেদের ক্রমশই নিমজ্জিত করে ফেলছে। সমাজ চেতনার বিপরীতে দাঁড়াচ্ছে। প্রতিদিন পুলিশি অভিযানে যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে- তাদের বড় অংশই যুবশ্রেণি। এরা মাদক সেবন কিংবা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। যুবশ্রেণির মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের বিচ্যুতি ঘটেছে। করোনাভাইরাসে যখন জাতি অনেকটাই দিশেহারা। চ্যালেঞ্জের মুখে জীবন-জীবিকা। মানুষকে মৃত্যুভয় ভয়ঙ্কররূপে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে- তখন যুবশ্রেণি বেপরোয়া- দায়িত্বহীন। দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছেÑ ১০ আগস্ট নাটোরের গুরুদাসপুরে নৌকায় উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে দুই নর্তকী নিয়ে অশ্লীল নৃত্য করার সময় পুলিশ ১৩ যুবককে গ্রেফতার করে। নৈতিক স্খলন কোন্ মাত্রায় গেলে যুবকদের মধ্যে এমন অধঃপতন হয়।
১২ আগস্ট ছিল আন্তর্জাতিক যুব দিবস। যুব দিবস ২০২০ এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘বৈশ্বিক কর্মে যুব শক্তি।’ যুব দিবসের উদ্দেশ্যই হলো তারুণ্যে শক্তিকে যথার্থ কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নেয়া। এ জন্য রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব আছে তেমনি পারিবারিক মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তা কোনোভাবেই কম নয়। পরিবার থেকেই নৈতিক শিক্ষার শুরু হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। বিপথগামী যুব শ্রেণিকে উৎপাদন ব্যবস্থায় ফেরানোর দায়টা সকলের। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এটা সম্ভব নয়। স্থিতিশীল সমাজ বিনির্মাণে এই দায় কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এতে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রেরই কল্যাণ। যুবকদের প্রতি সু বিবেচনার সময়টা এখনই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ