যেখানে দাদী-নানিরা স্কুলে যান

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



প্রতিদিন বিকালে গ্রামের দাদী-নানিরা গোলাপি শাড়ি গায়ে জড়িয়ে, অ্যাবাকাস ও স্লেট ব্যাগে করে নিয়ে বাসা থেকে বের হন। আসলে তারা স্কুলে যান। অবাক লাগছে ঠিকই, কিন্তু ভারতের মহারাষ্ট্রের এক গ্রামের বয়স্ক নারীরা পড়াশোনা করছেন। বয়স তাদের কাছে কোনও বিষয় নয়। ভারতের মহারাষ্ট্রের নারীরা শিক্ষার সুযোগ পান না। পুরুষের থেকে এক-তৃতীয়াংশ কম নারী এখানে শিক্ষিত।
এই বয়স্ক নারীদের মধ্যে কেউ ঠিক মতো একটা অক্ষর দেখতে পারেন না আবার কারো বুকে ব্যথা শুরু হয়ে যায় কথা বলতে গেলে। কিন্তু তারপরও বৃহস্পতিবার ছাড়া প্রতিদিন তারা স্কুলে যান শিখতে।
এই নারী দিবসে স্কুলের বয়স হবে এক বছর। বিবিসির ফটো সাংবাদিক তার ক্যামেরায় তুলে ধরেছেন শিক্ষার জন্য তাদের এই যাত্রাকে।
অনসূয়া দেশমুখের বয়স ৯০ বছর। তিনি শ্রমিকের মেয়ে। মাত্র ১০ বছর বয়সে তাকে বিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, তখন বই ও স্লেট কেনার মতো টাকা আমাদের ছিলো না। কাপড় কেনার টাকাও ছিলো না। মাঝে মাঝে আমি স্কুলে যেতাম। কিন্তু অসুস্থ হয়ে যেতাম বলে তারা আর পাঠায়নি আমাকে। নতুন স্কুল শুরুর আগে তিনি শুধু নিজের নাম লিখতে পারতেন, অক্ষর চিনতেন ও ২১ পর্যন্ত গুনতে পারতেন। ২১ বছর বয়সি ইপগেন্দ্র বাঙ্গার এ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। একদিন বাঙ্গারকে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের জীবনকাহিনী পড়ার ইচ্ছা জানান গ্রামের বয়স্ক নারীরা। ছত্রপতি ১৭ শতকে রাজা। তার জন্মদিন প্রতি বছর এই গ্রামে পালিত হয়। তিনি বলেন, নারী দিবসে তাদেরকে সম্মান জানানোর কথা বলা হয়। তাই আমি ভাবলাম আমাদের দাদী-নানী তারা কখনও কোনওদিন সম্মান পান নি। তাদেরকে তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত। তাদের সময়ের নারীরা স্কুলে যাওয়ার কোনও সুযোগ পান নি। বাঙ্গার সবার কাছ থেকে অনুদান নিলেন তাদের শাড়ি ও শিক্ষার উপকরণ কেনার জন্য। তিনি একটি শ্রেণিকক্ষও তৈরি করেন। তিনি মনে করেন, যদি কোনও নারী শিক্ষিত হয় তবে তার সন্তানেরাও শিক্ষিত হয়। তার ঘরে সে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে রাখে। রামাভাই গণপাতের নাতি তার হাত ধরে ধরে হাটতে হাটতে তাকে স্কুলে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, খুবই ভালো লাগছে। আমরা আমাদের ব্যাগ হাতে নেই এবং সব দাদী-নানিরা একসাথে স্কুলে যাই। আমরা খুব গর্বিত যে আমরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছি। তিনি হেসে বলেন, আমাদের কাছে বই আছে কিন্তু তা আমরা পড়তে পারি না। কারণ বয়সের জন্য আমাদের চোখের জ্যোতি ক্ষীণ হয়ে গেছে। মৃত্যুর পর যখন ঈশ্বর আমাদের কাছে জানতে চাইবেন যে তুমি তোমার জীবনে কি করেছো? ভেবে ভালো লাগছে যে আমি অন্তত বলতে পারবো আমি আমার নাম স্বাক্ষর করা শিখেছি। আমার স্কুলে আসতে ভালো লাগে। ক্লাস শুরুর আগে হিন্দু ধর্মে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দেবী বলে পরিচিত সরস্বতীকে স্মরণ করা হয়। প্রতিদিন তারা স্কুলের মাঠে নিজেরা যে গাছ লাগিয়েছে সেখানে পানি দেয়। ৩০ বছর বয়সি স্কুল শিক্ষিকা শীতল মোর বিনা পারিশ্রমিকে এখানে কাজ করেন। তার ছাত্রীদের মধ্যে শাশুড়িও আছেন।