যেসব কারণে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০১৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



আপনি কি বলতে পারেন কোন জিনিস দিতে কোনো পয়সা লাগে না। কিন্তু যাকে দিবেন তার রেশ হয়তো অনেকদিন তার মনের মাঝে রয়ে যাবে। হয়তো আপনার দেয়া জিনিসটি তার মনে ভালোলাগার সৃষ্টি করবে। দেবে প্রশান্তি ছোয়া।
আপনাকে যে অপছন্দ করে তার পছন্দের মানুষ হবার প্রথম ধাপ ও এটা। কি বুঝতে পারছেন না? সেই অমূল্য জিনিসটা আর কিছুই না, সেটা হচ্ছে, ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি।
সুস্থতার জন্য হাসি : হাসি শরীর ও মনের জন্য খুব উপকারী। হাসিখুশি মানুষ শরীর ও মনের রোগ থেকে খুব সহজেই আরোগ্য লাভ করতে পারে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ মিনিট হাসলে তা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। হাসি মনকে প্রাণবন্ত রাখে, কাজে দেয় উদ্যম।
বন্ধুত্বের প্রতীক : হাসির মধ্যে খেলা করে তারুণ্য, আর তারুণ্য মানেই বন্ধুত্ব। হাসি হল সেই বন্ধুত্বের প্রতীক। ধরুন, আপনার তেমন কোনো বন্ধু নেই, কারণটা কি আপনি কারো বন্ধু হবার যোগ্য না? না, তা নয়। হয়তো আপনি চুপচাপ, কম কথা বলেন আর আপনি হাসি খুশি ভাবে মিশতে পারেন না। কম কথা বলা দোষের না, কিন্তু সবার প্রিয় হবার জন্য যে এক চিলতে হাসি ঠোটেঁর কোণে থাকা চাই।
না বলুন হাসি মুখে : জীবনের নানা ক্ষেত্রে না বলাটাও খুব প্রয়োজন হয়ে দাড়ায়। অনেক সময় আসে যখন চরম বিরক্তির সম্মুখীন হতে হয়। কখনো তা অফিসে বা কখনো বন্ধুত্বের আড্ডায়। যে স্থানেই হোক, এক চিলতে হাসি নিয়েই না বলুন, বলুন আপনার বিরক্তির কথা। দেখবেন কাজে দিবে। এই একই কথা যদি রাগ করে বলেন হোক তা অফিসে বা বন্ধুদের আড্ডায় তবে আপনি সবার কাছে অপছন্দের মানুষ হয়ে যেতে পারেন। তাই না বা বিরক্তির কথা রাগ করে নয়, মুখে ছোট একটা হাসি রেখে বলেন।
ব্যবসায় আনে সুনাম : এক চিলতে হাসি ব্যবসায়ে নিয়ে আসতে পারে সুনাম। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। প্রায়ই দেখা যায় পাশাপাশি একই পণ্যের দোকান থাকা সত্ত্বেও একজনের দোকানে পণ্য বেশি বিক্রি হয়, অন্যজনের দোকানে কম। এর কারণ কি? সেই দোকানের জিনিস বেশি দামি, নাকি দোকানদার বেশি সুন্দর। না, এসব কোনো কারণ নয়। একমাত্র কারণ হাসি মুখ আর অমায়িক ব্যবহার। ক্রেতার সঙ্গে তার কথা বলতে, একটার পর একটা পণ্য দেখাতে কোনো বিরক্তি নেই। আর মুখে রয়েছে অমায়িক হাসি। এই হাসি-ই হচ্ছে ব্যবসায়ের অন্যতম পুঁজি। প্রাচীন চীনে একটা প্রবাদ আছে। প্রবাদটা হল- যে মানুষের মুখে হাসি নেই, তার দোকান খোলা উচিত নয়।
গৃহে আনে সুখ : ব্যস্ত একঘেয়ে জীবনের ছাপ আমাদের গৃহে ও পড়ে। নানা দুশ্চিতায় কপালের ভাজ নিয়ে ঘর থেকে বের হই আবার নতুন কোনো দুশ্চিতা নিয়ে ঘরে ফিরি। তেমনিভাবে যারা ঘরে থাকেন, ঘরের কাজ নিয়ে হাসি মুখে কারো সঙ্গে কথা বলা হয়ে উঠে না। অফিসে যাওয়ার আগে, অফিস থেকে ফিরে দরজায় দাড়িয়ে দুই পক্ষই হাসিমুখে বিদায় দিয়েই দেখুন, সম্পর্কটা এক নিমিষে কেমন সতেজ হয়ে যাবে। সন্তান বিরক্ত করছে, রাগ না করে হাসি মুখে বুঝিয়ে বলুন, কাজে দিবে। আর সন্তান ও শিখবে সব কাজ রাগ দিয়ে না হলেও হাসি মুখে অনেক কিছু জয় করা যায়।
হাসির মূল্য অনেক। ক্লান্ত মানুষের কাছে হাসি হল বিশ্রাম, হতাশ মানুষের কাছে আশার আলো আর কষ্ট দূর করার ওষুধ। কিন্তু অবশ্যই সেই হাসিটা মন থেকে আসা নির্মল হাসি হতে হবে। আর মনে রাখা দরকার সব কথায় হো হো হাসা বোকামি। পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে তারপর হাসতে হবে। আর পরিবেশ, পরিস্থিতি বুঝে যাদের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি থাকে তারাই পারে ভুবন জয় করতে। হাসির ঝিলিকে সুন্দর হোক প্রতিটি দিন, প্রতিটি সম্পর্ক। রাইজিংবিডি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ