যে কৌশলে পাকিস্তানকে হারাবে ভারত

আপডেট: জুন ১৮, ২০১৭, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টানা দ্বিতীয় শিরোপার হাতছানি ভারতের সামনে। রোববার ওভালের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। টুর্নামেন্টে দুদলের আগের দেখায় পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলেন বিরাট কোহলিরা। সেই সুখস্মৃতি নিয়েই ফাইনালে মাঠে নামবেন তারা। তারকায় ঠাসা ভারত পারফরম্যান্স আর সামর্থ্যের বিচারে সরফরাজ আহমেদের পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে তো পাকিস্তানের পাত্তাই নেই। সর্বশেষ ১০ ম্যাচে ভারতের জয় ৭টিতে, বাকি ৩টিতে জিতেছে পাকিস্তান। তবুও ওয়ানডে ক্রিকেটের দ্বিতীয় সেরা আসরের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ বলে কথা। ‘আন্ডারডগ’ পাকিস্তানও সহজে ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। তাই বৈরী প্রতিবেশীদের হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিততে ভারতকে কাজে লাগাতে হবে কিছু কৌশল। কি সেই কৌশল?
এক. পাকিস্তানের স্পিরিট গুঁড়িয়ে দেয়া : টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হারের পর টানা ৩ ম্যাচ জিতেছে পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ডের মতো ক্রিকেট পরাশক্তিকে বিদায় করেছে তারা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছেন সরফরাজরা। তাই তারুণ্যনির্ভর দলটির মনোবল বেশ চাঙা। ফাইনালে ভারতের প্রধান কাজ হবে শুরুতেই দারুণ কিছু করে পাকিস্তানের টিম স্পিরিটকে গুঁড়িয়ে দেয়া। আর চাপের মুখে পাকিস্তান যে কতোটা অসহায় তার প্রমাণ তো অতীতে বহুবার মিলেছে!
দুই. নতুন বলে উইকেট তুলে নেয়া : পাকিস্তানের ইনিংসের প্রথম ১৫ ওভারের মধ্যে ভারতের বোলারদের বেশ বড় একটা ধাক্কা দিতে হবে। তুলে নিতে হবে টপ-অর্ডারের ব্যাটারদের। বিশেষ করে এই টুর্নামেন্টে নিজেকে চেনানো ওপেনার ফখর জামানের উইকেটটি হতে পারে মূল্যবান। ভারতের কাছে হারের পর আহমেদ শেহজাদের বদলে ফখরকে একাদশে টানে পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক। এখন পর্যন্ত এই বাঁহাতি ৩ ম্যাচে করেছেন ১৩৮ রান। হাফসেঞ্চুরি দুটি। তার ভয়-ডরহীন ব্যাটিং বোলারদের অস্বস্তির কারণ। পাকিস্তানের টপ-অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দেয়ার দায়িত্বটা নিতে হবে ভারতীয় দুই পেসার জসপ্রিত বুমরাহ ও ভুবনেশ্বর কুমারকে। দুজনে মিলে চলতি টুর্নামেন্টে নিয়েছেন ১০ উইকেট।
তিন. ঠাণ্ডা মাথায় ক্রিকেট খেলা : ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই আলাদা রোমাঞ্চ। উত্তেজনা। দুদলের সাবেক ক্রিকেটারদের ম্যাচ নিয়ে নানা মতামত। কথার লড়াই। দর্শকদের উত্তেজনাটা তো মাত্রা ছাড়িয়ে যায় প্রায়ই। তবে চলতি টুর্নামেন্টে ভারতের খেলোয়াড়রা যেন মুখে কুলুপ এঁটেছেন! পাকিস্তানকে নিয়ে সাংবাদিকদের যে কোনো প্রশ্নই কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। বড় ম্যাচের তকমা লাগিয়ে কোনো বাড়তি চাপ নিতে একেবারেই নারাজ তারা। মাঠের খেলাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ভারত অধিনায়ক কোহলি যেমন বলেছেন, ‘আপনি যখন মনে করবেন এটা বড় ম্যাচ, আপনার চিন্তা-ভাবনাই পাল্টে যাবে।’
চার. প্রথম ১০ ওভারে উইকেট না হারানো : ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বিশ্বসেরা। তা আলাদা করে বলে দিতে হয় না। আর চলতি টুর্নামেন্টে তাদের দুই ওপেনার তো আছেন আগুনে ফর্মে। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় প্রথম দুটি নামই শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার। সবার উপরে থাকা শিখরের সংগ্রহ ৩১৭ রান। রোহিত ৩০৪ রান নিয়ে পরের স্থানে। ৪ ম্যাচে ২টি সেঞ্চুরি আর একটি হাফসেঞ্চুরি জুটি গড়েছেন তারা। এই দুজন দুরন্ত সূচনা এনে দিলে প্রতিপক্ষকে বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়া বা বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিনিয়ে আনাটা সহজ হয়ে যাবে ভারতের জন্য।
পাঁচ. টসে জেতা ও ফিল্ডিং নেয়া : চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ ৭ ম্যাচে জিতেছে পরে ব্যাট করা দলই। এর মধ্যে ভারত জিতেছে ২টি ম্যাচ। তাই ফাইনালেও গুরুত্বপূর্ণ হবে টসে জেতা। তাছাড়া সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ও ভারতের ব্যাটিং স্তম্ভ কোহলি তো রান তাড়া করায় সিদ্ধহস্ত। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৭টি সেঞ্চুরির ১৭টিই তিনি করেছেন লক্ষ্য তাড়া করে। আর তার ১৫টিতেই জিতেছে ভারত। গ্রুপপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৮১ রান করেছিলেন কোহলি। ভারত পাকিস্তানের বিপক্ষে তার আগের ম্যাচটি খেলেছিল ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে। অ্যাডিলেডের সেই ম্যাচেও কোহলি করেছিলেন সেঞ্চুরি। কোহলির ১০৭ রানের ইনিংসের কাছেই সেই ম্যাচে হেরে যায় পাকিস্তান। এবারও তেমন কিছু করে দেখানোর প্রত্যাশাতেই থাকবেন ভারত নেতা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ