যে হারে ম্লান হয় নি বাংলাদেশের মুখ

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের কাছে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ২২ রানের হার বিভিন্ন কারণে ক্রিকেট বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। কারণ অল্পের জন্য ইতিহাস গড়তে পারে নি বাংলাদেশ। বিষয়টি আরও বড় করে বললে নিজেদের খেলা ৯৪ টি টেস্টের মাঝে জয়ের সবচেয়ে কাছে এসেও বাংলাদেশের শুনতে হয়েছে ‘এত কাছে, তবুও এত দূরে’! তবে আর যাই হোক- সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল তিনজন অভিষেক ক্রিকেটার নিয়ে বাংলাদেশ লড়েছে শেষ পর্যন্ত। যেটি ক্রিকেট ভক্তদেরও নজর এড়ায় নি। যার কারণও অনেক। ১৮৭৬ সালে প্রথম টেস্ট খেলা ইংল্যান্ড এর আগে মাত্র তিন বার টেস্টে তাদের প্রতিপক্ষকে শেষ দিনে ৪০-এর নিচে লক্ষ্য দিয়ে তা রক্ষা করতে পেরেছে। ১৯২৫ সালে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ১৯৮২ সাল মেলবোর্নে আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আর সবশেষটি ১৯৯৮ সালে হেডিংলিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাও আবার বিতর্কিত এলবিডব্লুর যোগসাজশে! তাই স্বাভাবিকভাবেই ইংল্যান্ড মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করছিল টেস্টটি এবং যেটি জিতে এখন স্বস্তির বাতাস বইছে ইংল্যান্ড শিবিরে।
এ টেস্ট কিন্তু প্রমাণ করেছে টেস্ট ক্রিকেটের আবেদন মোটেই ফুরিয়ে যায় নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিনটি বিভাগের মাঝে টেস্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন খোদ আইসিসিই চিন্তিত! কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্ট সে ধারণা পাল্টে দিয়েছে। নাটক, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উত্থান-পতন মিলিয়ে পঞ্চম দিন পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ না হওয়াটার মাঝে ফুঁটে উঠেছে টেস্ট ক্রিকেটের মাহাত্ম্য। সঙ্গে সঙ্গে আইসিসির গত বছরের প্রস্তাবিত তবে শেষ পর্যন্ত স্থগিত ‘টু টাইয়ার’ টেস্ট কাঠামোর বিপক্ষেও বিশাল এক জবাব এই টেস্ট। বাংলাদেশ এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ছয় বার ও দ্বিতীয় সারির এক ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে এক টেস্টে ২০ টি উইকেট নিয়েছিল। বড়মাপের কোনও টেস্ট দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের এ সাফল্য নেই। এখন ইংল্যান্ডের মতো কুলীন টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষেও দুই বার দশ উইকেট নেওয়ার মাঝে উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভাবমূর্তি। ২৪০ রান- বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে এক ইনিংসে ইংল্যান্ডের সর্বনিম্ন স্কোর, যা ঘটেছে এই টেস্টে।  সঙ্গে বাংলাদেশের স্পিনাররা এই টেস্টে ২৬৩.১ ওভার বল করে ১৮টি উইকেট নিয়েছেন যা প্রমাণ করে দিয়েছে ইংল্যান্ডের স্পিন দুর্বলতা ও বাংলাদেশের আক্রমণের চরিত্র।
এছাড়াও আরেকটি দিক দিয়ে এই টেস্ট রেকর্ডের খাতায় নাম লেখাবে। কারণ এই টেস্টে নেওয়া হয়েছে রেকর্ড ২৬ টি রিভিউ। যেটি অনাকাক্সিক্ষত এক রেকর্ড! আর রিভিউর নতুন নিয়মে কিন্তু ক্ষতির পাল্লা বাংলাদেশেরই ভারি ছিল।  নতুন নিয়মে পুরো উইকেটকে ‘ইমপ্যাক্ট’হিসেবে ধরা হয়েছে। আগে উইকেটের প্রান্ত বাদ দিয়ে বলের ‘ইমপ্যাক্ট’ ধরা হতো, এখন ১.৯ সেন্টিমিটার যোগ করে পুরো উইকেট নিয়ে ধরা হচ্ছে ‘ইমপ্যাক্ট’। বাংলাদেশের শেষ ইনিংসে তাইজুলের উইকেটটি এই নতুন নিয়মের ফসল! সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের সেরা টেস্ট ছিল এটি।  যেখানে হারে ম্লান হয় নি বাংলাদেশের মুখ!-বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ