যৌতুকের জন্য শশুর বাড়িতে আগুন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭, ১:১১ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী, সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শশুর বাড়িতে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক জামাইয়ের বিরুদ্ধে। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় ফুলচাঁদ, সাহাদ, জহির, কলিমসহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নারায়ণপুর গ্রামের ভ্যান চালক তারা মিয়ার কন্যা সুমি খাতুনকে (২২) বিয়ে দেন পাশ্ববর্তী ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর গ্রামের তুফান মিস্ত্রির ছেলে রাজমিস্ত্রি বোরহান উদ্দিনের সাথে। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ৮০ হাজার টাকা দেয়া হয়। কিন্তু বছর না পেরুতেই আবার যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে বোরহান উদ্দিন একই সাথে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে সে। বিভিন্ন সময় দুই হাজার পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়ে রক্ষা হয়। এ অবস্থায় আরো বেশি টাকার জন্য শারীরিক নির্যাতন শুরু করে বোরহান। যৌতুকের টাকা দিতে এবং শারীরিক নির্যাতন সইতে না পেয়ে ঈদের আগে তিন বছর বয়সী মেয়েকে সাথে নিয়ে একেবারে বাবার বাড়িতে চলে আসে সুমি। এবার বোরহান নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকে সুমি ও তার বাবা, মা, ভাইদেরকে। ঈদরে পরে সুমির বাবা-মা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে গত সোমবার রাত ১০টার দিকে তাদের বাড়িতে হাজির হয় বোরহান। এসময় সে সুমির কাছে বিশ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে সুমি ও তার মেয়েকে ঘরের ভিতরে আটকে বাইরে থেকে কেরোসিন ঢেলে ওই ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় বোরহান। পরে সুমির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিভিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
নির্যাতিতা সুমি খাতুন বলেন, মাতাল স্বামীর মারপিট খেয়েও সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিদিন এভাবে মারপিট আর যৌতুকে চাপ সহ্য করতে না পেরে চলে এসেছি। এখনতো আবার আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। হয়তো একসময় মেরেও ফেলবে।
সুমির বাবা তারা মিয়া বলেন, বিয়ের সময় বুঝতে পারি নি জামাই মাদকাসক্ত। মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমার সাধ্যমত টাকা পয়সা দিয়েছি। কিন্তু প্রতিদিন টাকার জন্য চাপ দিয়ে আর মারপিট করলেতো মেয়ের জান বাঁচে না।
গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুুস সালাম খান বলেন, তারা মিয়ার বাড়িতে তার মাদকাসক্ত জামাই রাতে আগুন দিয়ে পালিয়েছে। মাদকাসক্তরা মাদকের টাকা না পেলে আরো ভয়াবহ দূর্ঘটনাও ঘটাতে পারে। সুমির বাবা তারামিয়াকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে আইনের আশ্রয় নিতে।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহরিয়ার খান বলেন, তাকে এ বিষয়ে কেউ অবহিত করে নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ