যৌন হয়রানির প্রতিকার চেয়ে চাকরি হারালেন ঈশ্বরদী পিজিসিবি স্কুলের শিক্ষিকা || রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


পাবনার ঈশ^রদী জয়নগরের পিজিসিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ দাবি ও বিধিবর্হিভূতভাবে এক শিক্ষিকাকে চাকরিচ্যুত করাসহ বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা নিলুফার ইয়াসমীন। সংবাদ সম্মেলন থেকে দোষীদের শাস্তি ও চাকরি ফিরে পেতে পিজিসিবি কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, নিলুফার ইয়াসমী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) আওতাভুক্ত পিজিসিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে ২২ বছর ধরে কর্মরত ছিলাম। বিদ্যালয় পরিচালনা নিয়মানুযায়ী অন্যান্য শিক্ষকের মতো পাঁচ বছর পরপর চাকরি চুক্তি নবায়ন করে আসছি। সম্প্রতি চাকরি চুক্তি নবায়ন করতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম আমাকে অফিসে ডেকে যৌন হয়রানি করেন এবং দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এরআগেও তিনি বিভিন্ন সময় আমাকে কুপ্রস্তাব দিতেন এবং নানাভাবে যৌন হয়রানি করেছেন। বিষয়টি কৌশলে আমি এড়িয়ে চললে আমার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক শহীদুল হক, তার সহযোগী পিজিসিবি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির প্রভাবশালী সদস্য আবদুল হাই এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম কামারুজ্জামান তাদের অনুগত কর্মচারীদের আমার পেছনে লেলিয়ে দেন। তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুৎসা রটাতে থাকলে নিরুপায় হয়ে ২২ এপ্রিল ঈশ^রদীর একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ লিপি প্রকাশ করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে আমাকে চাকুরিচ্যুত করায় প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীরা। চাকরিবিধি অনুসরণ না করে অব্যাহতি পত্রের ফটোকপি দিয়ে গত ২২ জুলাই আমাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। যা কোন মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নিলুফার ইয়াসমীন আরো বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিজিসিবি কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরে অভিযোগ দায়ের করেছি। এরপর গত ৪ আগস্ট শ্রমিক নেতা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির প্রভাবশালী সদস্য আবদুল হাই ঈশ^রদী মোড়ে ডেকে আমাকে অভিযোগ প্রত্যাহারে হুমকি-ধামকি দেন। অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ৯ আগস্ট ঈশ^রদী থানায় জিডি করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, পিজিসিবি বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম এরআগে ২০০৯ সালে পাশ^বর্তী ইক্ষু গবেষনা কেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের সময় দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত হন। সে সময় ইক্ষু গবেষনা কেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির চাপে ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে টাকা দিয়ে আপোষ করে এবং স্বেচ্ছায় পদ ত্যাগ করে ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহত পান। প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে নিয়মবর্হিভূতভাবে ২০১০ সালে পিজিসিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর থেকে তিনি নতুন নতুন পদ সৃষ্টি করে ১০জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেন। এছাড়া চাকুরি নবায়নের নামে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
নিলুফার ইয়াসমীন বলেন, চাকরি হারিয়ে আমার সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীদের হুমকি ধামকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতা রয়েছি। সংবাদ সম্মেলন থেকে দোষীদের বিচার ও চাকরি ফিরে পেতে পিজিসিবি কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী।
সংবাদ সম্মেলনে নিলুফার বড় ভাই আব্দুল হামিদ ও অষ্টম শ্রেণি পড়–য়া আদিল আহনাফ নিবির উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ