যৌবন ও জীবনের শেষ চিকিৎসা মিলছে ফেসবুক-ফুটপাতে অপচিকিৎসা রোধে তৎপরতা বাড়াতে হবে

আপডেট: মে ৬, ২০২১, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান করোনা প্রেক্ষাপটে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপশি সুনির্দিষ্ট কিছু ভঙ্গুর দিকগুলো ষ্পষ্ট হয়েছে। খাদ্যের পাশাপাশি নকল ওষুধের বাজারো রমরমা। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানে এমন অনেক ভয়ঙ্কর রহস্যময়তার উদঘাটন হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজশাহীতে মানুষের সরলতা ও অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে বিভিন্ন কবিরাজি ও তান্ত্রিক চিকিৎসা। অনলাইন মাধ্যমকে ব্যবহার করেও বিভিন্ন মানহীন বিজ্ঞাপন দিয়ে ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। এ সর্ম্পকিত প্রতিবেদন মঙ্গলবার (০৫ মে) ‘যৌবন ও জীবনের শেষ চিকিৎসা মিলছে ফেসবুক-ফুটপাতে’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়।
যেখানে দেখা যায়, ফেসবুকসহ যৌবনের শেষ চিকিৎসা মিলছে রাজশাহী নগরীর ফুটপাতেও। নগরীজুড়ে প্রেম, সংসার অথবা জীবনের ভাঙন থেকে শুরু করে গড়ার কাজটিও করে দিচ্ছে তান্ত্রিক চিকিৎসা। আর এসব চিকিৎসার বিজ্ঞাপন লাগানো নগরীর প্রায় প্রতিটি মোড়ে মোড়ে। কুরুচিপূর্ণ এসব প্রচারণা নিজের অজান্তেই দেখছেন শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সি মানুষ। একইসঙ্গে ঠকছেন। অথচ এ বিষয়ে কার্যকর কোন ভূমিকা নেই প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের।
রগরগা শব্দের ব্যবহার, কুরুচিপূর্ণ ছবি ও ধর্মের দোহায় দিয়ে মিথ্যাকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে উঠতি বয়সি কিশোরদের শিকার বানাচ্ছেন এ প্রতারক চক্র। যৌবন সর্ম্পকে ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে মগজ ধোলায় করা হচ্ছে। শেষ অস্ত্র হিসেবে চিকিৎসা না নিলে তার ক্ষতি করার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। অনলাইনে অর্ডার করে কুরিয়ার যোগে ঘরে বসেই এই ওষুধ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই এমন ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করে আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, নগরীর প্রায় প্রতিটি মোড়ে ও অধিকাংশ বিদ্যুতের পিলার ও দেয়ালে বিভিন্ন কবিরাজি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন লাগানো হয়েছে। জসিম বন কবিরাজ, তান্ত্রিক ও কবিরাজ মো. কাওছার হোসেন, তান্ত্রিক আবুল হোসেন কবিরাজ, তান্ত্রিক ও কবিরাজ মো. রাফি, মেছবাহ সাহেব কবিরাজসহ বিভিন্ন নামীয় কবিরাজ প্রচারণা চালাচ্ছে। যেখানে তাদের ফোন নম্বরও দেয়া আছে। সাধারণরা ঠকলেও এক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসনের তেমন পদক্ষেপ নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এদেশে চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে মানুষের অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে। অশিক্ষিত মানুষের সংখ্যাও কম নয়। একারণে এখনো অনেকেই কবিরাজি হাতুড়ে চিকিৎসায় বিশ্বাস করছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফুটপাত থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের এসব সরলতাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ ফায়দা লুটছে। একজন চোর চুরি করলে একজনের ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু এরা প্রকাশ্যে প্রচারণা চালিয়ে গোপনে মানুষের ক্ষতি করছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করে মানুষ একদিকে অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন জটিলতারও শিকার হচ্ছেন। সুতরাং অপচিকিৎসা রোধে ওষুধ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে তৎপর হতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ