রংপুরে আমনের বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা চাষিদের

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২২, ৯:০৮ অপরাহ্ণ

মাঠে সোনালী ধান কাটতে ব্যস্ত কৃষকরা

সোনার দেশ ডেস্ক:


রংপুর অঞ্চলে চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়েও প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন আমন চাল অতিরিক্ত থাকবে আশা কৃষি বিভাগের। তবে বাম্পার ফলনে মুখে হাসি ফুটলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কার ভাঁজ ফুঠছে কৃষকের কপালে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ ৬৬ হাজার ৬৩৬ হেক্টর জমিতে চাষের। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ধান চাষ হয়েছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৪০ হেক্টরে।
শনিবার পর্যন্ত জেলার আট উপজেলায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়েছে। এতে প্রতি হেক্টরে সাড়ে পাঁচ টন করে ধান এবং সাড়ে তিন টনের বেশি চাল পাওয়া গেছে। সে হিসাবে এবার চাল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চার লাখ ৮৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি।

সরেজমিনে মিঠাপুর উপজেলার ধাপের হাট, রানীপুর, বলদিপুকুর, পীরগঞ্জ উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্ত জোড়া মাঠ সোনালী ধানে ভরপুর। প্রতিটি গাছের থোকায় থোকায় ধরেছে ধান। ফলন দেখে খুশি কৃষকরা।
শনিবার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা হয় এসব এলাকার কয়েকজন কৃষকের। তারা বলছেন, চড়া সুদে দাদন নিয়ে বেশি দামে সার-ডিজেল কেনা ও সেচসহ ধান চাষে এবার অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে যে দামে ধান-চাল বিক্রি হচ্ছে তাতে উৎপাদন খরচ উঠবে না। এমনকি সরকার ধান-চালের যে দাম নির্ধারণ করেছে তাতেও পোষাবে না কৃষকদের।
চাষিরা বলেন, চলতি মৌসুমে বৈরি আবহাওয়া বিশেষ করে বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে পানি দিতে হয়েছে। জমি তৈরি, চারা রোপণে খরচ হয়েছে বেশি। এছাড়া সারও কিনতে হয়েছে বেশি দামে। এমন প্রতিকূল অবস্থা সত্ত্বেও এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুর এলাকার কৃষক মহুবর রহমান (৫০) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এবার সার ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে জমিতে সেচ ও কীটনাশকসহ অন্যান্য সব জিনিসের দাম বেড়েছে।
“এমনকি ধান রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত মজুরি বেড়েছে। ধান কাটতে একজন শ্রমিককে কমপক্ষে ৫০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। অথচ ধান বিক্রি করে খরচই উঠছে না।”

সরকার এবার প্রতি কেজি চাল ৪২ ও ধান ২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বলে জানান পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ির কৃষক আমিনুর রহমান সোবান (৪৫)। কিন্তু তাতেও কৃষকদের লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কারণ হিসেবে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কর্মকর্তরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনে মিল, চাতাল ও বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান-চাল কিনছেন। হাতেগোনা কয়েকজন কৃষকের ধান কিনে বাকিদের ফেরত পাঠিয়ে দেন তারা। ফলে বড় ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে নামমাত্র মূল্যে কৃষকদের ধান কেনেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এবার অন্যান্য জেলার চেয়ে রংপুরে আমনে ফলন অসম্ভব ভালো হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

“জেলায় চালের চাহিদা আছে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন। সেখানে চাল উৎপাদন হবে প্রায় পাঁচ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি। ফলে জেলার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন চাল অন্য জেলায় সরবরাহ করা যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনা মহামারির মধ্যে খাদ্য সংকটের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন রংপুরের কৃষকরা। এতে খাদ্য ঘাটতি মেটাতে অনেকটাই সক্ষম হবো আমরা।

“আমনের পর বোরো মৌসুমেও আশানুরূপ ধান উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন কৃষকরা। ফলে রংপুর অঞ্চলে খাদ্য সংকটের শঙ্কা নেই।”
কৃষকরা যেসব অভিযোগ করেছেন তা নিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, “আশা করছি ধান ও চালের ন্যায্যমূল্য পাবেন তারা। তারা যাতে ন্যায্যমূল্য পান সেটি আমরা নিশ্চিত করবো।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ