রথের মেলায় ক্রেতা কম, ব্যবসায়ীরা বিপাকে || জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শেষ আজ

আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৭, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রথমেলায় কাঠের সামগ্রী কিনছেন ক্রেতারা সোনার দেশ

নগরীতে আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে সনাতন হিন্দু ধর্মের শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হলেও, মেলার শেষের দিকে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন ধরনের কাঠের আসবাবপত্র ও খাবার দোকান এবং হরেক রকমের দোকানের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এসব দোকানে পর্যাপ্ত ক্রেতার দেখা মিলছে না। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিয়ে আসা আসবাবপত্র ও অন্যান্য পণ্য সামগ্রীর বেশিরভাগ এখানো বিক্রি হয় নি। কিন্তু এদের মধ্যে কোনো কোনো ব্যবসায়ী মেলার জন্য জায়গা ভাড়া করেন। চুক্তিমতো ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। রাস্তার দুপাশ ছাড়াও বাড়ির সামনে বিভিন্ন পণ্যের সামগ্রীর পসরা সাজিয়েছেন  ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের মতে, এবছর ঈদ ও রথের মেলা একসঙ্গে শুরু হওয়ায় তারা ক্রেতা-সঙ্কটে পড়েছেন। গত বছর রথের মেলায় ব্যাপক ভিড় ও বেচাবিক্রি ছিল পর্যাপ্ত। মেলার আগের দিন ও শেষ দিন ব্যাপক ভিড় হয়। তবে এবছর মেলার চিত্রটা একটু ভিন্ন। বেচাবিক্রি না থাকায় মাথায় হাত। লাভের উদ্দেশ্যে এসে লোকশান গুনতে হয় কিনা, তা নিয়ে চিন্তিত বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
নগরীতে গত ২৫ জুন জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শুরু হয়। উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপি এ ধর্মীয় উৎসব শেষ হবে আজ সোমবার। রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং মন্দির নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে মন্দিরগুলো। এরমধ্যে নগরীর রেশমপট্টিস্থ ইসকন ও ঘোরামাড়া রথবাড়িসহ কয়েকটি জায়গায় আনন্দঘন উৎসবে রথ উদযাপন আয়োজন করে।
নগরীর বেলদারপাড়া মোড় থেকে শুরু করে আলুপট্টি পর্যন্ত রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের দোকানিরা পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। ছোট শিশু ও বড়দের সমাগম দেখা যায় রথের মেলায়। মেলায় হরেক রকমের জিনিসের মধ্যে চেয়ার, টেবিল, সোফা, সেলফ, খাট, বেলুন ও ছোট বাচ্চাদের খেলনা সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া খাবারের মধ্যে রয়েছে পাপড়, চটপটি, ফুচকা, জিলাপি, নিমকি, চানাচুর, মুনাক্কা, খুরমা, নুকুল দানা, সন্দেশ, কালাইয়ের ডালের পাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি হচ্ছে এই মেলায়। রাজশাহীর আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা রাস্তার ওপর দোকান বসিয়েছেন।
রথের মেলায় কাঠের আসবাবপত্র বিক্রেতা নওদাপাড়া এলাকার আবদুর রহমান ও টিকাপাড়ার আবদুর রহিম বলেন, এবছর মেলায় বেচাবিক্রি কমেছে। ক্রেতার সমাগমও কম দেখা যাচ্ছে। তবে বেচাবিক্রি কম হওয়ার সঠিক কারণ কী সেটা বুঝতে পারছি না। সারাদিনে মাত্র একটি খাট বিক্রি হয়েছে। এতে আমরা ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে তেমন লাভবান হতে পারছি না। এবছর ঈদ উল ফিতর ও রথের মেলার অনুষ্ঠান একসঙ্গে শুরু হওয়ায় বেচাবিক্রি কমেছে বলে মন্তব্য করেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে রাজশাহীর সরদা থেকে আসা খাবার দোকান ব্যবসায়ী সাগর হলদার বলেন, এবছর মেলায় খাবারের বেচাবিক্রি কমেছে। ভাল ব্যবসা নেই। মেলায় ক্রেতার সমাগম কম। তবে বিকেলের পর থেকে রাতের দিকে একটু বাড়ছে। এসময় যেটুকু ব্যবসা হচ্ছে।
এদিকে রথ উৎসব উপলক্ষে নগরীর কল্পনা সিনেমা হলের মোড় থেকে সাগরপাড়া পর্যন্ত এলাকায় রাস্তার ওপর রথের মেলায় হরেক রকমের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে কাঠের তৈরি নানা আসবাবপত্র সাজানো আছে ব্যাপক । তবে এ মেলায় ভিড় জমাচ্ছেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি পেশার মানুষ।
রাজশাহী মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে রথ নিয়ে শহরে শোভাযাত্রা বের করা হয়েছে। শোভাযাত্রা শেষে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ওই দিন সন্ধ্যা নাম সংকীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।