রবীন্দ্র-নজরুলের চেতনা ধারণ করতে হবে

আপডেট: মে ২৭, ২০১৭, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদ্যাপন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মোহা. হবিবুর রহমান বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে চাইলে রবীন্দ্র-নজরুলের চেতনা ধারণ করতে হবে। নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত শ্রেণিকক্ষের বাইরে সংস্কৃতি চর্চাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদ্যাপন তার একটি উদাহরণ।
তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে সর্বদা এ ধরণের অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত রাখার আহবান জানান।
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদ্যাপন করা হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টিস্থ ইউনিভার্সিটির একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স রুমে এই উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, ইউনিভার্সিটির উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরেণ্য কথাসাহিত্যিক অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপ-উপাচার্য শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. মুহম্মদ আবদুল জলিল। অনুষ্ঠানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন প্রভাষক হামিদুর রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুল ইসলাম পলাশ।
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক বলেন, সাহিত্য কর্মে চিন্তা চেতনা আদর্শে এবং সংকট সংশয় ও আশ্রয়ে বারবার আমরা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কাছে ফিরে যাই। তিনি বলেন, এই দুই কবির লেখনীর মুল বিষয় হলো মানবপ্রেম। এই প্রেম প্রতিটি মানুষের জীবন গড়ে তুলে। তারা আমাদের জীবনের সকল প্রেরণার উৎস। জাতীয় ও মানব জীবনে এই দু’কবির কাছে আমরা চিরঋণী।
উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক বলেন, এই দুইজন কবিকে জীবন থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। যদি তাদেরকে বাদ দেওয়া হয় তাহলে সভ্য জাতি হওয়া যাবে না। তাদের ভালোবাসতে হবে। আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের জন্য। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম।
দ্বিতীয় পবের্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতাপাঠ সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। আমন্ত্রিত সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী জয়শ্রী সরকার ও অর্ঘ্য, নৃত্য পরিবেশন করেন সঙ্গীতা ব্যানার্জী ।
সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ড. নূরে-এলিস আকতার জাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম ওয়াজেদ আলীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রফেসর মুহা: হবিবুর রহমানকে বই উপহার দেন ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক।