রমজানে যত্রতত্র থুতু না ফেলতে আর্জি

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২০, ২:০৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে দেশ জুড়ে চলা লকডাউনের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে রমজান মাস। আর সে সময়ে রোজা রাখার কারণে যত্রতত্র থুতু না ফেলতে অনুরোধ করছেন মুসলিম ধর্মগুরুরা। রমজান উপলক্ষে মসজিদে ভিড় না জমিয়ে এ বছর মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে বসে নমাজ পড়ার পরামর্শও দিচ্ছেন তাঁরা।
আগামী শনিবার থেকে রমজান মাস শুরু হতে চলেছে। সে সময়ে কঠোর ভাবে রোজা রাখতে গিয়ে অনেকেই থুতুও গিলতে চান না। কিন্তু করোনা-যুগে সংক্রমণের ভয় এবং স্বাস্থ্য-বিধির কথা মাথায় রেখেই যেখানে সেখানে থুতু না ফেলার নির্দেশ দিচ্ছেন রাজ্যের মুসলিম ধর্মগুরুরা। নাখোদা মসজিদের ইমাম সফিক কাশেমির কথায়, ‘‘অনেকেই ভাবেন, থুতু গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে। যার জন্য রোজা রাখা অবস্থায় তাঁরা যেখানে সেখানে থুতু ফেলে থাকেন। এটা বড় কুসংস্কার তো বটেই। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণেরও অন্যতম কারণ। বর্তমানে করোনাভাইরাস ঠেকাতে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে থুতু ফেলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সাধারণ মুসলমানদের কাছে আমার আবেদন, রোজা রেখে যত্রতত্র থুতু ফেলবেন না।’’ রেড রোডের ইদের নমাজের ইমাম ফজলুর রহমানও বলছেন, ‘‘থুতু গিলে ফেললেও রোজা কখনওই ভাঙে না। তাই করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই বিষয়ে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে।’’ সাধারণত রমজান মাসে বহু মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ তাঁদের আয়ের একটা অংশ দুঃস্থ মানুষদের দিয়ে থাকেন। সন্ধ্যায় মসজিদে ইফতারের খাবারও বিলি করেন। বঙ্গীয় ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহম্মদ ইয়াহিয়া বলেন, ‘‘অন্যান্য বছরে যাঁরা মসজিদে ইফতারের পাশাপাশি দুঃস্থদের জন্য দান (জাকাত) করতেন, তাঁদের কাছে আমরা আর্জি জানাচ্ছি যাতে তাঁরা সেই টাকা এ বছর মসজিদ কমিটির হাতে তুলে দেন। মসজিদ কমিটির তরফে সেই টাকা ও সাহায্য ওই এলাকার হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’’
দীর্ঘ এক মাস ধরে রমজান চলাকালীন প্রতি সন্ধ্যায় রোজা ভাঙার পরে মসজিদে তারাবির নমাজ পড়ে থাকেন মুসলিমরা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি এবং সামাজিক দূরত্ব-বিধির কথা মাথায় রেখে এ বছর মসজিদে গিয়ে ভিড় করতে নিষেধ করছে বঙ্গীয় ইমাম অ্যাসোসিয়েশন। বরং প্রত্যেককে নিজের নিজের বাড়িতেই নমাজ পড়ার আর্জি জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে বাড়িতে দিনে পাঁচ বার নমাজ পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মুসলিম ধর্মগুরুরাও। রেড রোডের ইদের নমাজের ইমামের কথায়, ‘‘করোনা পরিস্থিতিতে কোনও ভাবেই মসজিদে ভিড় জমাবেন না। রমজান মাসে নমাজ নিজের বাড়িতে পড়ুন। আমিও নমাজ বাড়িতে পড়ছি। রমজান মাসেও বাড়িতেই নমাজ পড়ব।’’ ফুরফুরা শরিফের মুখ্য নির্দেশক ত্বহা সিদ্দিকির কথায়, ‘‘লকডাউনের জেরে সমস্যায় পড়েছেন গরিব মানুষেরা। মুসলিম ভাইদের কাছে আবেদন, যতটা সম্ভব এই মাসে দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ান।’’
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা