রমজান কুরআনের মাস

আপডেট: জুন ১৩, ২০১৭, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

ড. মাওলানা ইমতিয়াজ আহমদ


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রমজানের পরিচয় দিয়েছেন কুরআন দিয়ে। তিনি বলেন, রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ। আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। (সূরা আল বাকারা-১৮৫)
এখানে দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, রমজানে কুরআন নাজিল হয়েছে। আর সূরা কদরে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেছেন, আমি তা নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। (সূরা আল কদর-১) অর্থাৎ কুরআন শরীফ নাজিল হয়েছে পবিত্র রমজান মাসে। আর শুধু কুরআনই নয়, বরং সকল আসমানি গ্রন্থই নাজিল হয়েছে রমজান মাসে। হযরত ইবরাহীম আ.-এর উপর সহিফাসমূহ নাজিল হয় রমজানের ৩ তারিখে। হযরত মূসা আ.-এর উপর তাওরাত নাজিল হয়েছে রমজানের ৬ তারিখে। হযরত ঈসা আ.-এর উপর ইনজিল নাজিল হয়েছে রমজানের ১৩ তারিখে। আর হযরত দাউদ আ.-এর উপর যাবুর নাজিল হয়েছে রমজানের ১৮ তারিখে।
আল্ল¬াহ তায়ালা রমজানে রোজা ফরজ করেছেন এবং কুরআন নাজিল করেছেন। দিনের বেলায় রোজা রাখা হয় আর রাতের বেলায় তারাবিহতে কুরআন খতম করা হয়। রোজা ও কুরআন উভয়টা আল্ল¬াহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রোজা ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ! আমি তাকে দিনের বেলায় খানাপিনা হতে বিরত রেখেছি। কাজেই তার বিষয়ে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে আল্লাহ! তাকে আমি রাত্রি বেলায় নিদ্রা হতে বিরত রেখেছি। কাজেই আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। এমতাবস্থায় আল্লাহ পাক উভয়ের সুপারিশ কবুল করবেন।
হযরত সাঈদ বিন সুলাইম রা. হতে বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে কুরআনের চেয়ে বড় সুপারিশকারী আর কেউ হবে না। কোন নবীও নয় এবং কোন ফেরেশতাও নয়।
রোজা ফরজ করা হয়েছে বান্দা যেন মুত্তাকি হতে পারে। আর কুরআন নাজিল করা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য। যেমন আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সূরা আল বাকারা-১৮৩) যারা তাকওয়া অর্জন করে, তাদেরকে মুত্তাীক বলা হয়। পবিত্র কুরআনের শুরুতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আলিফ-লাম-মীম, এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী মুত্তাকিদের জন্য। (সূরা আল বাকারা ১-২) আমরা এখানেও রমজানের রোজা ও কুরআনের মধ্যে একটি যোগসূত্র দেখতে পাচ্ছি।
রমজান মাসের পরিচয় দেয়া হয়েছে কুরআন নাজিল হওয়ার মাস হিসেবে। এ জন্যই বলা হয়েছে, রমজানের সাথে কুরআন তেলাওয়াতের বিশেষ সম্পর্ক আছে। রমজানে যতগুলি আমল করতে হয়, তার মধ্যে কুরআন তেলাওয়াত একটা বিশেষ আমল। আল্লাহ পাক কুরআন তেলাওয়াতের জন্য রমজান মাসে তারাবিহর বিধানও রেখেছেন এবং তারাবিহর মধ্যে পুরো কুরআন খতম করার নিয়ম রাখা হয়েছে। যাতে নামাজের মধ্যে কুরআন তেলাওয়াত হয়ে যায়। এছাড়া বুজুর্গানে দীনের আমল থেকে দেখা যায়, তারা তারাবিহর বাইরেও তাহাজ্জুদের মধ্যে কুরআন খতম করেন। নামাজের মধ্যে এক খতম কুরআন পাঠ করা হলে প্রতিটা হরফে কমপক্ষে ১০০ টা নেকি হয়। আর রমজান মাসে প্রতিটা নেকিকে কমপক্ষে ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এ হিসেবে রমজান মাসে নামাজের মধ্যে এক কুরআন খতম করলে সাত হাজার খতমের সওয়াব হয়ে যায়।
তাই রমজান মাস কুরআনের মাস হওয়ার কারণে আমাদের মাঝে যারা কুরআন তেলাওয়াত করতে জানি না, তাদের উচিত কুরআন তেলাওয়াত করতে শেখা। আর যারা কুরআন তেলাওয়াত করতে জানি, তাদের উচিত, বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই আমলের তাওফিক দিন।
লেখক: পেশ ইমাম ও খতীব, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট জামে মসজিদ, রাজশাহী