রশিদ ভাই এবং স্মৃতিবিজড়িত দিনের কথা

আপডেট: মে ১, ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

খন্দকার মো. আব্দুস সামাদ:


খন্দকার মো. আব্দুস সামাদ ও নাট্যব্যক্তিত্ব আব্দুর রশিদ

অনেক অনেক দিন পূর্বের কথা- তা- ধরা যেতে পারে ২০-২৫ বছর কী তারও বেশি হবে। বয়সের ভারে দিন দিন সব কিছুই যেন এলো মেলো হয়ে যাচ্ছে। যা বলতে চাই তা বলা হয়ে উঠেনা। আবার যা বলার জন্য প্রস্তুত নই তা হয়তো বলার জন্য মনটা উদগ্রীব হয়ে উঠে। আমি তখন “সুরবাণী সঙ্গীত বিদ্যালয়ে নিয়মিত সঙ্গীতের ছাত্র। মরহুম আব্দুল আজীজ বাচ্চু ও ওস্তাদজির কাছে নিয়মিত তালিম নিচ্ছি। উচ্চাঙ্গ সংগীত ছাড়াও আধুনিক গান শিখছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য:, আমি তখন বাংলাদেশ বেতারের পল্লীগীতির শিল্পী, নিয়মিত পরিবেশন করে আসছি। তার আগে মরহুম আব্দুল জাব্বার ওস্তাদজির কাছে নিয়মিত নজরুল সংগীত তালিম নিতাম।
অবশ্য বেতারে প্রথম নজরুল সংগীতই পরিবেশন করেছি। তবে তা অনুষ্ঠানে। হঠাৎ আমার পিতা-মারা গেলেন। অভাব অনটনের সংসারের হাল ধরলেন আমার এক চাচা। আমরা “ল” আব্বা বলে ডাকতাম। নাম খন্দকার মো. বদর উদ্দীন। আমি প্রচুর টিউশনি করতাম। সাইকেলে চড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের পড়াতাম। যা আয় উপার্জন হতো তা দিয়েই কোনো রকম কষ্টশিষ্টে সংসার মেইনটেইন করতে হতো। লেখাপড়াও কষ্ট করে চালিয়ে গেছি। তারপরও ছোট ছোট ভাই বোন। যা হোক সবই আল্লাহ পাকের ইচ্ছা। যতই কষ্ট হোক-উৎরিয়ে উঠেছি।
একদিন হঠাৎ এক সুখবর পেলাম। রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে কিছু শিল্পী নেবে। অডিশনের মাধ্যমে। নাম হলো “শিল্পী পুলের শিল্পী” মাসিক কিছু সম্মানী থাকবে। আমি দরখাস্ত করলাম শিল্পী পুলের শিল্পী হবার জন্য। আমার এক কথা শুনে মরহুম ওস্তাদ আব্দুল আজীজ বাচ্চু নারাজ হলেন। রাগও করলেন। এখানে উল্লেখ্য আব্দুল খালেক ছানা ভাই এর কথা স্বীকার করতেই হয়। তিনি ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। আমার অভাব অনটনের কথা তিনি জানতেন। তিনি এক বির্তকের মাধ্যমে আমাকে অডিশন দেয়ার অনুমতি দিলেন। যা হোক তিনি আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন। অবশ্য ওস্তাদজির সাথে ছানা ভাই এর একটু মনমালিন্য হয়েছিল। যাহোক যথাসময়ে অডিশন দিলাম। বর্তমানে জেলা পরিষদ হলের সামনে টিন শেডের ঘওে অডিশন হলো।
রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার চলচ্চিত্র শিল্পী জনাব মো. আবদুর রশিদ এবং ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. ফজলুল হকসহ অন্যরাও ছিলেনÑ এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। আর তখন ডিসি মহোদয় জনাব মো. আজিজুর রহমান রাজশাহী জেলার দায়িত্বে ছিলেন। এখানেই আমরা ক’জন শিল্পীপুলের শিল্পী নির্বাচিত হলাম। আমার বন্ধুবর এমএ খালেক, রিজিয়া পারভীন, আনোয়ার হোসেন বাদশা। দলনেতা কালুমোহন গোস্বামী। এখানে উল্লেখ্য, পরে অবশ্য দলনেতা হয়েছিলেন বন্ধুবর এমএ খালেক।
অতঃপর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম শুরু হলো। জেলা তথা বিভাগীয় পর্যায়ের সমস্ত সরকারি সাংস্কৃতিক সংগীতের প্রশিক্ষণ ও শুরু হলো। আমি সংগীতের ক্লাস নিতাম। অর্থাৎ আমরাই ক’জন প্রথম শিল্পীপুলের শিল্পী। বলা যায় আমরাই ‘প্রথম ব্যাচ।’
একদিন রশিদ ভাই আমাকে বললেন- সামাদ ডিসি মো, আজিজুর রহমান সাহেবের গান সুর করতে হবে এবং তাঁর ডাক বাংলোয় তা পরিবেশন করতে হবে। জনাব আজিজুর রহমান সাহেব কবিতা লিখতেন। তিনি কন্ঠ-গীতিকার ছিলেন। যাহোক যে গানের সুর করতে হলো আসলে সে দুটি গান কবিতাই ছিল। সুর করলাম এবং ডিসি জেলা প্রশাসক জনাব আজিজুর রহমান সাহেবের ডাক বাংলোয় তা পরিবেশনও করা হলো। আমরা শিল্পীপুলের সবাই ছিলাম। এমএ খালেক, রিজিয়া পারভীন, রশীদ ভাই। খাওয়া দাওয়া হলো। গানের কথা অর্থাৎ কবিতা দুটি ছিল-
“গানের বইতে কেনা লিখলে আমার নাম
গানের অর্থ আমি তো বুঝিনি।
অনেক রাতের গভীরে। তারা জ¦লে আকাশে কি সবাই দেখে”
তবুও তো মানুষ গান লিখে’
আর একটি ছিল-

“তুমি চলে যাবে; চলে যাবে শুনেছিলাম
কিন্তু তুমি যে চলেই যাবে
এমন তো কথা ছিলনা।
তুমিও কি জানতে চলে যাবে।”

আমার প্রিয় আব্দুর রশিদ ভাই। আমাকে কখনো কড়া স্বরে কথা বলেন নি। আদর করে ডাকতেন- ‘এই সামাদ।’ এই সামাদ ডাকের মধ্যে কী যেন এমন মায়া-মমতা, আদর-স্নেহ মাখা পরশ খুঁজে পেতাম তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আপন ছোট ভাইয়ের মতই ভালোবাসতেন। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনকালে কখনো কখনো বলতেন, আজকে নজরুল সংগীত গাবে। আজকে পল্ল গীতি গাবে। একবার রংপুর স্টেডিয়ামে বিভাগীয় পর্যায়ের সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেখানে ভাত্তয়াইয়া গান/পল্লী গীতি পরিবেশন করেছিলাম। ভাওয়াইয়া দেশ রংপুরে। রশীদ ভাই আমাকে বললেন, একটি ভাওয়াইয়া গান লিখ এবং ভাওয়াইয়া

পরিবেশন কর। আমি সংগে সংগে একটি গান লিখলাম এবং পরিবেশন করলাম। এবং পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বেতার এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে অনেকেই এই গানটি পরিবেশন করে থাকেন। গানের কথাটি ছিল:
রাজশাহীতে বাড়ী আমাদের ও ভাইয়া আমি লিচু কাঁঠালের দ্যাশ।
দেইখ্যা যান আর বাড়ি নিয়া যান
পুরাইয়া মনের আশা ভাইয়ারে॥
মখদুম বাবার মাজার আছেরে-
শাহ্ সাহেবের মাজার আছেরে
ও ভাইয়া আরো ওলি আউলিয়া
ঘুমাইয়া আছেন কি শান্তিতে
দক্ষিন দিকে পদ্মানদীরে-/ নিরবধিতে
নাও বাইয়া যায় কত মাঝি/ জারি সারি গাইয়া ভাইয়ারে॥
-আলকাক গম্ভীরা পদ্মপুরানরে। বারোশিয়ার স্তরের টানরে-
-ও ভাইয়া পাগল করা গান। এই জেলাই নামকরা ভাই।
-সিল্কের শাঁড়ী জর্দা পান ভাইয়ারে। আবার আসবেন দেখা হবে ।
সুযোগ যদি পান ভাইয়ারে॥
এই সব দিনের কথা মনে হলে মনের মধ্যে কেমন যেন একটা ঝড় উঠে। গান লিখতাম। একদিন বল্লাম “রশিদ ভাই অনেক গান লিখেছি। গীতিকার হওয়ার জন্য গানও বেতারে জমা দিয়েছি। একটু বলে কয়ে গীতিকার বানাইয়া দেন না। তিনি এব্যাপারে যোগ্যতার কথা তুলে পুরোপুরি সাহয্য সহযোগিতা করেছিলেন বইকি। সংগীত বিভাগে ছিলেন জনাব মাহমুদ হাসান। হাসির ছলে রশীদ ভাই আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি আমাকে গীতিকার বানিয়ে দাও।’ মজা করেই বলেছিলেন।
রশিদ ভাই এর সুপারিশ কাজে লেগেছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বাংলাদেশ বেতারের বিশেষ শ্রেণির গীতিকার/ ‘ক’ মানের শিল্পী, সংগীত প্রযোজক। এছাড়াও সংগীত প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশন রামপুরা ভবনে কাজ করেছি। স্বনামধন্য স্বর্গীয় সত্য সাহা দাদার সাথে এবং মরহুম খন্দকার নূরুল ইসলাম এর সাথে এগুলো রশীদ ভাই এর অনুকম্পায়। শিল্পকলা ঢাকায় জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত করেছে অনেকবার। রশীদ ভাই আমাকে পাঠিয়েছেন বারবার। তখন ঢাকা শিল্পকলা একাডমীতে চাকরি করতেন স্বনামধন্য রাজশাহীর কৃতি সন্তান মহসিন রেজা। তিনি গীতিকার ছিলেন। তাঁর অনেক কালজয়ী গান আছে। তার লেখো গান দেশের অনেক প্রথিতযশা শিল্পীগণ গেয়েছেন।
আমি এক সময় রাজশাহীর দড়িখররোনায় ভাড়া থাকতাম। বাসা ভাড়া মাত্র ৩৫ টাকা। ভাড়া দিতে বড় কষ্ট হতো। তখন রশিদ ভাই বর্ণালী হলের কাছে এক হোটেলে বসতেন। ম্যানেজার ছিলেন। ওখানে প্রায় দিনই আড্ডা দিতাম। তিনিও সাদরে আমন্ত্রণ জানাতেন। একদিন না গেলে ভালই লাগতোনা।
রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নরত সময় রশিদ ভাই এর একটি হোটেল ছিল রাস্তার ওপার উত্তর দিকে। সিংগাড়া, চা, মিষ্টি এমনকি ভাত মাংস সবই পাওয়া যেত। ওখানেও দেখা হতো । বন্ধু বান্ধব নিয়ে চা নাস্তা প্রয়োজনীয় সব চাহিদা মিটাতাম। ওই হোটেলে রশিদ ভাই এর আব্বাও বসতেন। চাচাও খুব ভাল মানুষ ছিলেন। আমাকেও আদর করতেন।
বড় মসজিদের কাছে একটি হোটেল ছিল। সেখানেও বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় যেতাম বসতাম গল্প-গুজব করতাম নিয়মিত। এখানেও রশিদ ভাই এর আব্বা বসতেন।
রশিদ ভাই এর আব্বা মরহুম আবদুল মুর্শিদ তিতু মিঞা নাট্যব্যক্তিত্ব। তিনি নাট্য পরিচালক, ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন। কথাই বলেনা- রক্তে কথা বলে। আর তাই তো রশিদ ভাই এর মধ্যে এর প্রতিফলন ঘটেছে।
একবার আমার অভাব অনটন ও দুর্যোগের কথা শুনে রশিদ ভাই অ.উ.ঈ জেনারেল শিক্ষা মমতাজুর রহমান স্যারকে বলে আমায় চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন। রাজশাহী রিভার ভিউ স্কুলে ক্লার্ক পদে। এখানে চাকরি করা হয়নি। পরে রাজশাহী জেলা শিশু একাডেমিতে ঢুকেছিলাম। সেটিও রশিদ ভাই এর অবদান। এই শিশু একাডেমিতে কাজ করার সময় আমার দিনগুলি ছিল বড়ই বেদনা বিধুর। এগুলো নাইবা উল্লেখ করলাম।
একদিন বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর সহকারী পরিচালক জনাব কাজী আব্দুর রহমান বর্তমান বাসা ডিঙ্গাডোবায় (নাটোরের মানুষ) আমাকে ডেকে বললেন, রেডিওতে চাকরি করবেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি বললাম ‘জি কররো স্যার।’ তখন রেডিওতে কনস্যুলেটেড বেতন ৮০০/- টাকাতেই রেডিওতে ঢুকলাম।
রেডিওতে দেখতাম গানের পান্ডুলিপি। মাঝে মাঝে সংগীত শিক্ষার আসরে গান শেখানো এবং ডিউটি রুমে ডিউটি অফিসার হিসেবে কাজ সম্পাদন করতাম। কখনো কখনো স্পন্দন অনুষ্ঠানে স্ক্রিপ্ট লিখতে হতো। অর্থাৎ স্পন্দন অনুষ্ঠানে গ্রন্থনার কাজটি করতে হতো। আজ এগুলো আমার কাছে শুধুই স্মৃতি। মাঝে মাঝে স্মৃতি গুলো আমাকে বেদনা দেয়। তবে আনন্দও দেয় বইকি।
রশিদ ভাই এর সাথে আমার দেখা-প্রায় ৫/৬ বছর হবে। রেডিয়োর গেটের সামনে বসে আছি। আমাকে দেখে রশিদ ভাই ডেকে বললেন, ‘সামাদ- তুমি এখন কী করছো?’ আমি সালাম জানিয়ে বললাম, ‘ভাই কী আর করবো, বেকার বুড়ো!’ হেসে বললেন, কি তুমি গান পরিবেশন করনা? বললাম, ‘সে এক অলৌকিক ঘটনা ভাই। হঠাৎ করে আমার গান গাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এখন মাঝে মাঝে ভাল লাগে না তাই রেডিও গেট পাহারা দিই।’ রশিদ ভাই রেগে বললেন ‘কালকেই একটি দরখাস্ত লিখে দিবে আমাকে। ব্যবস্থা করে দিব।’ সত্যিই ব্যবস্থা করে দিলেন। ওই সময় আরডি ছিলেন জুলফিকার আলী কোরাইশী। নিয়মিত আধুনিক গান. পল্লীগীত গানের সুর সংযোজনা ও সংগীত পরিবেশন করে আসছি। এই মহানুভতা, উদারতা, মায়া-মমতা এটার কি মূল্য দেয়া য়ায়? রশিদ ভাই এমনই এক সজ্জন, দয়াবান মানুষ।

 

রশিদ ভাইয়ের জন্ম ১৯৪৯ সালের ২৪ জানুয়ারি, নগরীর দরগাপাড়ায়। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ঘোষপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন। এবং লোকনাথ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন, আইএ, নিউ ডিগ্রি কলেজে এরপরপর বিএ পাস করেন রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে। রাজশাহীর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার থেকে অবসর গ্রহণ করেন। রশিদ ভাইয়ের পিতা আব্দুর মুর্শিদ তিতু মিঞা এবং মাতার মরহুমা আয়েশা বেগম।
রশিদ ভাইয়ের ধ্যান-জ্ঞান হলো সংস্কৃতি চর্চা। তিনি একাধারে চলচ্চিত্র শিল্পী, নাট্য কর্মী, নাট্য প্রযোজক এবং সংগঠক। এই কিংবদন্তির প্রথম মঞ্চনাটক ও প্রথম অভিনয় করেন এলাইড ক্লাবের নাটক টিপু সুলতানের ছেলের চরিত্রে। এবং এই নাটকটির পরিচালনা নির্দেশনা য় ছিলেন তাঁর পিতা মরহুম আব্দুর মুর্শিদ তিুত মিঞা। রশিদ ভাই শতাধিক নাটক, যাত্রায় অভিনয় ছাড়াও বেশ কিছু নাট্য নির্দেশনাও দিয়েছেন। রাজশাহী বেতারের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি নাট্যশিল্পী হিসেবে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন এবং ১৯৮০ সাল থেকে নাট্য পরিচালক হিসেবে নাট্য নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। তিনি বিশেষ শ্রেণির নাট্য শিল্পী এবং নাট্য প্রযোজক এবং বিভিন্ন টক শোতেও উপস্থাপনা করেছেন। তাঁর পদচারণা টেলিভিশনেও। ১৯৮০ সাল হতে টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন। বেশ কিছু সিরিয়াল ও প্যাকেজ নাটকেও অভিনয় করে সুনাম কুড়িয়েছেন।
টেলিভিশনের নতুন কুঁড়ি/ অগ্নিবীণা প্রতিযোগিতায় বিচার কার্য পরিচালনা করেছেন। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিচার কার্য সম্পাদন করেছেন। মডেলিং হিসেবে বাংলা লিংকে মডেল তারকায় কাজ করেছেন অত্যন্ত সুন্দর ভাবে।
এইগুণী ব্যক্তি রাজশাহীর বহু সাংস্কৃতিক ক্লাব, সুর,তাল,লয় সংগীত বিদ্যালয়, বডি বিল্ডার্স এসোসিয়েশন (রাববা), রাজশাহী এসোসিয়েশন, চেতনা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি, বেতার নাট্যকার ও নাট্যশিল্পী সংসদসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
রশিদ ভাইয়ের কাজের স্বীকৃতির ঢালিও অনেক ভারী। তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন, স্কুল-কলেজ জীবনে বাৎসরিক নাটকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে স্বর্ণ পদক লাভ। ১৯৬৯ সালে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান নাট্য প্রতিযোগিতায় শেষ্ঠ প্রতিনায়ক হিসেবে স্বর্ণ পদক লাভ। বিভিন্ন আন্তঃজেলা নাট্য উৎসবে অংশগ্রহণ। লোকনাথ স্কুল ও রাজশাহী কলেজে ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গুণী শিল্পী হিসেবে পদকপ্রাপ্ত হয়েছেন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র কতৃক গুণী শিল্পী হিসেবে পদক লাভ করেছেন। বেতার নাট্যকর নাট্যশিল্পী সংসদ প্রযোজক হিসেবে তিনি রাজশাহী আর্ট কলেজের গভনিং বডির সভাপতি/রাজশাহী এসোসিয়েশনের সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্পাদক।
১৯৭৪ সাল থেকে বেশ কিছু চলচ্চিজত্রে অভিনয় করেছেন। যেমন স্মাগলার, অমর প্রেম, আকাক্সক্ষা, তাল বেতাল, মিস্টার মাওলা, মৌচোর, অভিযান, ভাই ভাই প্রভৃতি।
মঞ্চ বেতারের উল্লেখ্য যোস্য নাটক ও যাত্রাপালা হগলোÑ ছাঠকাঠি, শংঙ্খনীল কারাগার, দেবদাস, শ্রীকান্ত, অভয় শ্রীকান্ত, রাজলক্ষী শ্রীকান্ত, ল্যাম্প পোস্ট, সূর্য্য মহল, কোটওয়ালা, সাগর সেচা মানিক, মাটির ঘর, মালা, ঘূর্ণী ঝড়, জীবন রঙ্গ, সুবচন নির্বাসনে, স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা, ঝিনদের বন্দি, টিপু সুলতান, সিরাজউদ-দৌলা, মীর কাশেম, স¤্রাট শাহজাহান, আনার কলি, আলমগীর, তিতুমীর, ঈশা খাঁ, বাঙালী, সোহরাব রুস্তম, একটি পয়সা অরুণ বরুণ কিরণমালা, মদনকুমার, রূপবান, একাত্তরের যোদ্ধা সিরাজ, স¤্রাট, এক মুঠো আগুন, রক্তের রং লাল, হ্যামলেট, ইদিপাস ইত্যাদি।
এই গুণী শিল্পী ১৯৬৯ সালের উত্তাল গণআন্দোলনে জনগোষ্ঠীকে উদ্ধুদ্ধ করতে রাজশাহীর শিল্পী সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। মরহুম আব্দুর মুর্শিদ, মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, আতাউর রহমান, অনিলবন্ধু রায়, আবুল খায়ের, নাসির উদ্দীন, নাসির উদ্দীন (ঘড়িঘর), বদিউল আলম, নুর মোহাম্মদ, গোলাম মোস্তফা, চলচ্চিত্র পরিচালক আজাহারুল ইসলাম খাঁন, সৈয়দ আওয়াল, মজিবুর রহমান চৌধুরী, নায়ক রাজ রাজ্জাক, গোলাম হাবিবুর রহমান, ডা. আফজালুর রহমান সিদ্দিকী, মো. নওশের আলী, ড. তসিকুল ইসলাম রাজা, বন্ধু-শুভাকাক্সিক্ষ অধ্যাপক রুহুল আমীন প্রামাণিক, সুখেন মুখোপাধ্যায়, নিয়াজ উদ্দীন আহাম্মেদ, স্বীয় স্ত্রী মরহুমা রশিদা বেগম প্রমুখ ব্যক্তিগণ রশিদ ভাইয়ের উৎকর্ষ জীবনে সবিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এঁদের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
আব্দুর রশিদ ভাই উদার মনের হাসিখুশি মানুষ। অন্যায়কে সহ্য করেন না। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সব সময় তিনি সোচ্চার। অন্যের সাহায্য-সহযোগিতায় তিনি অগ্রসর মানুষ। আমার জীবনের সব ক্ষেত্রেই রশিদ ভাই এর প্রতিফলন ঘটেছে এবং তাঁর এই ভালোবাসা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লেখক
লেখক: গীতিকার, সুরকার, সংগীত প্রযোজক,সংগীত শিল্পী, স্ক্রিপ্ট রাইটার, বাংলাদেশ বেতার, রাজশাহী।