‘রস’ ছাড়াই তৈরি হচ্ছে ‘গুড়’! বাঘায় ৫০ মণ ভেজাল গুড়সহ ৭ গ্রেফতার

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২, ১০:২৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


খেজুর রসের বিন্দুকণারও প্রয়োজন হচ্ছে গুড় তৈরিতে। চিনিতে আটা, হাইড্রোজ, ফিটকারি, সোডা, চুন, ডালডাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের সংমিশ্রণ করে রাতের আঁধারে তৈরি হচ্ছে ভেজাল খেজুরের গুড়। আর এই গুড়েই সয়লাব বাজার। রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় আড়ানী চকরপাড়া গ্রামে এমনিই একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। অভিযানে কারখানা থেকে নকল গুড়, গুড় তৈরির সামগ্রী জব্দসহ মালিকসহ আরও সাতজন কারিগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো, কারখানা মালিক রকিব আলী (৪২)। কারিগর সুমন আলী (৪২), আকবর আলী, অনিক আলী ওরফে পাইলট (৩০), মাসুদ রানা (৩০), বিপ্লব হোসেন ওরফে সাজু (২৫), মামুন আলী (২৭) ও বাবু (২৫)।

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী জেলা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ।

তিনি জানান, রাজশাহী জেলার বাঘা খেজুর গুড় তৈরিতে প্রসিদ্ধ এলাকা। যার সুনাম দেশব্যাপি রয়েছে। এই গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। আর এই সুনামকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে ভেজাল গুড় তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করছে। এই ভেজাল গুড়ে এমন সব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মাক ক্ষতিকর। এই গুড় খেলে দীর্ঘ মেয়াদি আলসার, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাসহ তৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুও হতে পারে।

তিনি আরও জানান, রাতের আধারে এই কারিগররা ৫০ মণ ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার করে ৫৫ মণ করে গুড় উৎপাদন করে। যেখাতে কেজি প্রতি উৎপাদন খরচ বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম। আর এই ভেজাল গুড় তৈরিতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সমিতির প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃত কারখানা মালিক রাকিব আলীও ওই সমিতির সদস্য। এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই গুড় উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ আরও জানান, রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৫০ মণ ভেজাল খেজুরের গুড়, চিনি, ফিটকারি, চুন, ডালডা, ১ কেজি হাইড্রোজসহ গুড় তৈরির অন্যান্য উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর নমুনা বিএসটিআই এ পাঠানো হবে। এরপর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গুড়গুলো ধ্বংস করা হবে। আর চিনি, চুন এগুলো প্রক্রিয়া শেষে বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হবে।

জানা যায়, গুড় ভর্তি ৫৮টি ক্যারেট। প্রতিটি ক্যারেটের ওজন ৩৫ কেজি করে মোট ২ হাজার ৩০ কেজি গুড় জব্দ করা হয়। যার অনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬০০ টাকা। ১০ বস্তা চিনি। প্রতিটি বস্তা সাদা প্লাস্টিকের তৈরি। যার আনুমানিক মূল্য ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। একটি সাদা প্লাস্টিকের তৈরি বস্তার মধ্যে রক্ষিত ফিটকিরি। যার ওজন ১৮ কেজি। মূল্য অনুমানিক ৫৪০ টাকা। একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে রক্ষিত চুন। যার ওজন ২৫ কেজি।

মূল্য অনুমানিক ৮৭৫ টাকা। একটি সাদা পলিথিনের মধ্যে রক্ষিত ডালডা। ওজন ৬০০ গ্রাম। মূল্য অনুমানিক ১৫০ টাকা। একটি সাদা পলিথিনের মধ্যে রক্ষিত হাইড্রোজ। ওজন ১ কেজি। মূল্য অনুমানিক ৩০০ টাকা। প্লেনসিটের তৈরি গুড় বানানোর তাওয়া ২ টি। মূল্য অনুমানিক ১০ হাজার টাকা।

একটি মাটির চাড়ি। মূল্য অনুমানিক ২০০ টাকা। কাঠের তৈরি গুড় নাড়ার পাঠ ২টি। মূল্য অনুমানিক ৫০০ টাকা। ডিজিটাল ওয়েট মেশিন ১টি। মূল্য অনুমানিক ৫ হাজার টাকা। মাটির তৈরি শরা/বাটি ৭০০টি। মূল্য অনুমানিক ৭ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত মালামালের মোট মূল্য ৩ লক্ষ ৫ হাজার ৬৬৫ টাকা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ