রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিনে বদলে যাবে রাজশাহীর কৃষি

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২১, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নাটোর প্রতিনিধি :


কৃষিকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উন্নত ফসল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিতকতায় সমালয়ে চাষাবাদ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কমানো, কর্তনোত্তার অপচয় রোধ, কায়িক শ্রম লাঘব, শ্রমিকের অভাব পূরণ ও ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতেই এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্গাপুর উপজেলার সিংড়া গ্রামের ৪৫ জন কৃষকের ১৫০ বিঘা বোরো ধানের সমালয়ে চাষাবাদ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ধানের বীজতলা তৈরি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে চারা রোপণ ও কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কর্তন পর্যন্ত সহায়তা দিবে কৃষি বিভাগ। এজন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ রয়েছে ১৪ লাখ টাকা।
রাজশাহী জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার ২৬৫ হেক্টর। আর দুর্গাপুর উপজেলায় সেটা ৫ হাজার ১৯০ হেক্টর। ফলে মৌসুমের শুরু থেকেই বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকরা। উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান দেখভাল করছেন, নিজস্ব জোনের বোরো কর্মকান্ড। নির্দেশনা অনুযায়ী বোরো ধানের উৎপাদন খরচ কমাতে চারা রোপণ থেকে শুরু করে ধান কর্তন পর্যন্ত যন্ত্র ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিনে বীততলা তৈরিসহ প্রযুদ্ধির এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
জানা যায়, বীজতলা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ২ হাজার ১০০টি প্লাস্টিক ট্রে। এতে ২ সেন্টিমিটার জৈব সার মিশ্রিত মাটি ভরাট করে কাঠ দিয়ে ভালভাবে সমতল করে মাটিতে স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেতে ১২০ থেকে ১৫০ গ্রাম অঙ্কুরিত বীজ বপন করে দশমিক ৫ সেন্টিমিটার মাটি দিয়ে বীজ ঢেকে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শৈত্যপ্রবাহের হাত থেকে রক্ষা করতে স্বচ্ছ সাদা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢাকা হয়েছে।
বোরো ধানের আধুনিক জাত হিসেবে লাল তীরের হাইব্রিড টিয়া ভিত্তি বীজ ব্যবহার করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে দেঁড়শ বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হবে। সিংড়া গ্রামের কৃষক বাবর আলী জানান, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তারা সার, বীজ বিনামূল্যে পেয়েছেন। সমালয়ে চাষাবাদ পদ্ধতিতে যন্ত্র ব্যবহার করে একই সময়ে একই জাতের ফসলের চারা রোপণ, আন্ত:পরিচর্যা ও কর্তন করা হবে। এ পদ্ধতিতে সঠিক সময়ে অল্প দিনের মধ্যে চারা রোপণ করা সম্ভব। কোন টাকা খরচ করতে হয়নি কৃষকদের। সম্পূর্ণ খরচ বহন করছেন কৃষি বিভাগ।
এদিকে, নাটোর জেলার হালতিবিলের ১৫০ জন কৃষকের দেড়’শ বিঘা জমিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। সোমবার নলডাঙ্গা উপজেলার হালতিবিলের পূর্ব মাধনগর এলাকায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে ধানের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এসময় নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার, নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদুল ইসলাম, নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. ফৌজিয়া ফেরদৌসসহ মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক জানান, সরকারি প্রণোদনায় সমালয়ে চাষাবাদ প্রকল্পের আওতায় বোরো চাষাবাদ শুরু হয়েছে। একই অংশ হিসেবে দুর্গাপুর উপজেলায় ১৫০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রযুক্তিটি কৃষকের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। আমরা সবসময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, দুর্গাপুর উপজেলায় ১৫০ বিঘা জমিতে যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে এখানে কৃষক শুধু জমি দিয়েছেন। সরকারিভাবে বীজ রোপণ থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত যাবতীয় খরচ বহন করা হবে।
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার বলেন, সমবায়ের মডেল অনুসরণ করে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং সকল প্রযুক্তির সঙ্গে কৃষকের মেলবন্ধন তৈরিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। দেশের ৬১ জেলার একটি উপজেলায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাইলটিং এই স্কীম সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে কৃষকরা লাভবান হবে। পরবর্তীতে জেলার অন্যান্য উপজেলাতে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়বে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ