রাউথার মৃত্যু : কাশ্মিরী সহপাঠীর বিরুদ্ধে হত্যামামলা

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০১৭, ১১:২৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি সম্বলিত পোস্টার দেখাচ্ছেন রাওথার চিকিৎসক পিতা- সোনার দেশ

রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের মডেল রাউথা আতিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার সহপাঠীর বিরুদ্ধে হত্যামামলা দায়ের হয়েছে। রাউথার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ বাদি হয়ে রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার একমাত্র আসামি রাউথার সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদ (২১)। তার বাড়ি ভারতের কাশ্মিরে। আসামি সিরাত মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয়বর্ষে পড়াশোনা করেন। নিহত রাউথাও একই কলেজের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাউথাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
রাউথার বাবা মোহাম্মদ আতিফের আইনজীবী কামরুল মনির জানান, আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য নগরীর শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল দুপুরে বিচারক এই আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাউথা আতিফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, রাউথা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদি হয়ে শাহমখদুম থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।
একজন উঠতি মডেল হিসেবে রাউথা আতিফের ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি। ভারতের বিখ্যাত ‘ভোগ ইন্ডিয়া’ সাময়িকীর প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছিলেন ২১ বছর বয়সি মালদ্বীপের ‘নীলনয়না’ এই মডেল। তার মৃত্যুর পর লাশ দেখতে রাজশাহী আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং মা-বাবাসহ ৮-৯ জন নিকটাত্মীয়।
এরপর গত ৩১ মার্চ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে রাউথার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। রাউথা আত্মহত্যা করেছেন উল্লেখ করে ওই দিনই বোর্ড ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজশাহীতে রাউথার দাফন সম্পন্ন হয়। এরপর গত বুধবার রাউথার মা আমিনাথ মুহাররিমাথ ও ছোট ভাইসহ চারজন দেশে ফিরে যান। তবে বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফসহ বাকিরা এখনও আছেন রাজশাহীতে।
রাউথার লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যা বলা হলেও বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ বলছেন, তিনি একজন চিকিৎসক এবং চিকিৎসকের চোখেই তার মেয়ের লাশ দেখেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি রাউথার গলায় শ্বাসরোধ করার দাগও দেখেছেন।
এদিকে রাউথার মৃত্যুর ‘তদন্ত’ করতে গত ৩ এপ্রিল মালদ্বীপের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রিয়াজ ও জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক আলী আহমেদ রাজশাহী আসেন। তারা রাউথার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, রাজশাহী পুলিশ, রাউথার সহপাঠি, শিক্ষক এবং হোস্টেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে গত শুক্রবার তারা দেশে ফেরেন। এরপরই গতকাল রাউথার বাবা আদালতে এই মামলা দায়ের করলেন।
রাউথার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি, আদালতে হত্যামামলা হয়েছে। তবে কোনো কাগজপত্র এখনো আমার কাছে আসেনি।
নগরীর শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমানও বলেছেন, তিনি শুনেছেন-আদালতে হত্যামামলা হয়েছে। আদালত থেকে কাগজপত্র থানায় যাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।