রাউধার মৃত্যুতে এখনও হত্যাকাণ্ডের আলামত পায় নি মালদ্বীপ পুলিশ

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৭, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মালদ্বীপের নাগরিক মডেল রাউধা আথিফের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এখনও হত্যাকাণ্ডের কোনও আলামত পায় নি সে দেশের পুলিশ। মালদ্বীপ পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সে দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম মিহারুর অনলাইন সংস্করণে খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার করা একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করেছে বাংলাদেশের পুলিশ।
বাংলাদেশের রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ পড়তেন মালদ্বীপের মেয়ে রাউধা। গত ২৯ মার্চ দুপুরে কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশে জানিয়েছিল সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করে। তবে পুলিশ আসার আগেই তার মরদেহ সিলিং ফ্যান থেকে নামিয়ে ফেলায় সন্দেহ তৈরি হয়। তার বাবার দাবি, এটি হত্যাকাণ্ড।
তবে মিহারুর অনলাইন সংস্করণে বলা হয়েছে, মালদ্বীপের পুলিশ এখনও ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলার মতো কোনও কারণ খুঁজে পায়নি। ওই মৃত্যুতে তারা এখনও কোনও আলামত পান নি যেখান থেকে ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলা যায়। পুলিশের দাবি, রাউধার মৃত্যুর তদন্তে বাংলাদেশে যে দলটিকে পাঠানো হয়েছিল, তারা রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন। রাউধার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তারা। তবে এখনও রাউধার মৃত্যুতে অস্বাভাবিকতার কোনও আলামত উদ্ধারে সমর্থ হন নি তারা।
তবে ইনকান্দার কোশিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চিফ সুপারিনটেনডেন্ট জানিয়েছেন, রাউধার মৃত্যুর পর থেকেই এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টার ব্যাপারে তারা অবগত। সে কারণে এখনও অস্বাভাবিক কিছু খুঁজে না পেলেও তারা ঘটনার আরও বিস্তারিত তদন্ত করে দেখবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য পুলিশ সুপার রিয়াজ সেই কক্ষটির বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে রাউধার মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রী হোস্টেলের সেই ২০৯ নম্বর কক্ষ সম্পর্কে রিয়াজ বলেন, রাউধার কক্ষে প্রবেশ করার জন্য কেবল একটি মাত্র দুই পাল্লা-বিশিষ্ট দরজা ছিল। দুই পাল্লার মধ্যে একটি ফাঁক থাকায় বন্ধ অবস্থাতেও ওই দরজা দিয়ে কক্ষের ভেতরে কী হচ্ছে তা দেখা যায়।
রাউধার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড এমন প্রশ্নের জবাবে রিয়াজ বলেন, রাউধার ওয়ারড্রবের ভাঙা কাঁচ, আর খাটের যে অংশ ভাঙা ছিল তা তার মৃত্যুর আগের ঘটনা। তার মৃত্যুর সময় কক্ষের কোনও জিনিসিপত্র ভাঙা হয় নি। ওইদিন তার কক্ষে কোনও সহিংস ঘটনা হয় নি।
২৯ মার্চ রাউধার মৃত্যুর দিনে তার কক্ষের কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায় নি, যা সন্দেহের উদ্রেক ঘটিয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙা ছিল এবং ২৫ মার্চ থেকে কয়েকটি ক্যামেরায় রেকর্ড বন্ধ ছিল। রিয়াজ নিশ্চিত করেন, রাউধার মৃত্যুর খবর প্রথম জানায় তার বন্ধু সিরাত পারভিন। তিনিই অ্যালার্ম বাজিয়েছিলেন। পুলিশের মতে, অন্য শিক্ষার্থী আসার আগেই সিরাত রাউধার কক্ষ ত্যাগ করেন।
জানা যায়, রাউধা ও সিরাত দু’জনই সেই রাতে হাসপাতাল গিয়েছিলেন। তবে পুলিশ দাবি করছে, আলাদা আলাদাভাবে হাসপাতাল গিয়েছিল তারা। তবে সিরাত রাউধার আগেই তার কক্ষে ফিরে আসে। মালদ্বীপের আরেক শিক্ষার্থী তাকে রুমে ঢুকতে দেখে। ঘটনা বুঝতে পারার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী দরজা খোলার চেষ্টা করে। চার দেশের শিক্ষার্থীসহ কলেজের নিরাপত্তা কর্মীরাও দরজা খুলতে চায়। পুলিশ সুপার রিয়াজ জানান, রাউধার কারও সঙ্গে কোন বিবাদ ছিল না। তাই কাউকে সন্দেহ করা যাচ্ছে না।
রিয়াজ আরো জানান, রাউধার কিছু বন্ধু তাকে ইনস্টাগ্রামে আনফলো করে। তার মৃত্যুর পর কেউ একজন তার অ্যাকাউন্ট ডিএকটিভেট করে দেয়। রিয়াজ বলেন, একথা নিশ্চিত যে এই কাজগুলো করে পুলিশের তদন্তের ফোকাস অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে তারা। রাউধা ঘটনার দিন রাতে মালদ্বীপের আরেকজন শিক্ষার্থীরা কাছ থেকে ল্যাপটপ ধার করেছিলেন। রাউধা সেই ল্যাপটপে আরেকজনের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল। রিয়াজ জানান, পুলিশ মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
রাউধারে মোবাইল ফোনও এখন পুলিশের হেফাজতে। তার এক বন্ধুর সহায়তায় ফোনটি আনলক করা হয়েছে। পুলিশের মতে, রাউধার বন্ধু দাবি করে যে ইন্টারনেটে রেসিপি জানার জন্য তাকে পাসওয়ার্ড বলেছিল রাউধা। পুলিশ ঘোষণা দিয়েছে যে তারা মোবাইল ফোন থেকে অনেক তথ্য পেয়েছে। মালদ্বীপে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে রাউধার যোগাযোগ ছিল তার কাছ থেকেও বিবৃতি নিয়েছে পুলিশ।
চিফ সুপারিটেন্ডেন্ট রিয়াজ শেষে খোলাসা করেন যে রাউধার ঘারে একটি ক্ষত চিহ্ন আবিষ্কার করেন তারা। মুখ্য পুলিশ সুপার রিয়াজ বলেন, দুটি স্কার্ফ বেধে ফাঁসিতে ঝোলেন রাউধা। আর বাঁধা অংশের চাপেই তার ঘারে সেই দাগ বসে যায়।
রাউধার মৃত্যু নিয়ে তার বাবা ড. মোহাম্মদ আতিফ বিবৃতি দিয়ে জানান, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এর কিছুদিন পর সংবাদ সম্মেলন করেন মালদ্বীপের পুলিশ। তারা জানান, রাউধার ঘরে জোর করে ঢুকার কোনও আলামত তারা পান নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, দরজার তালা ভেঙে তার ঘরে প্রবেশ করতে হয়েছিল তাদের। রাউধার পরিবার দাবি করে রাউধার বন্ধু সিরাত পারভিনের সঙ্গে বিবাদ ছিল তার। সিরাত রাউধার জুসে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। তবে সিরাত পারভিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি জানান, রাউধার কোনও মানসিক বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল না যার কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে। ড. আথিফ কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনা স্বাধীনভাবে তদন্তের আহ্বান জানান।
তবে রাউধা আথিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার হত্যা মামলা রেকর্ড করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ বাদী হয়ে আদালতে যে হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন সেটির কাগজপত্র হাতে পেয়েই পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ