রাউধার লাশ উত্তোলন করা হবে সোমবার

আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পুনঃময়নাতদন্তের জন্য ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী ও মালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আথিফের লাশ ২৪ এপ্রিল উত্তোলন করা হবে। উত্তোলন শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মর্গে তার পুনঃময়নাতদন্ত করা হবে। এজন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তবে মালদ্বীপ থেকে তার মা আমিনাথ মুহাররিমা লাশ উত্তোলনে আপত্তি জানিয়ে ফোন করেছে সিআইডিতে।
গতকাল শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক বলেন, কোন মা-বাবাই চায় না দ্বিতীয়বার লাশ উত্তোলন করা হোক। তবে তদন্তের স্বার্থে লাশ উত্তোলন করা হবে। কারণ এই মামলার বাদি তার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফের কোন আপত্তি নেই। তার মা তো এই মামলার কেউ না। তাই তার বিষয়টি আমলে নেয়া হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, এবারের মেডিকেল টিমে রয়েছেন, সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আমিরুল চৌধুরী ও নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহবুব হাফিজ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান। তাদেরকেই দিয়েই রামেকের মর্গে রাউধার লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাউধার মা আমিনাথ মুহাররিমা সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হককে টেলিফোন করে জানান, তার মেয়ে আল্লাহর কাছে শান্তিতে আছে। তার লাশ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হোক, এমনটি তিনি চান না।
সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক আরো বলেন, আবহাওয়া খারাপ থাকলে লাশ উত্তোলন ২৪ এপ্রিল না হতে পারে। তবে আমরা সেদিনই ঠিক করেছি।
মামলার তদন্তের স্বার্থে সিআইডি রাজশাহী কার্যালয়ে ইসলামী মেডিকেল কলেজের ১৮-২০জন শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শনিবার সকাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে আসমাউল হক জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তার সহপাঠীরা রাউধার ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ফেলে। গত ৩০ মার্চ রাউধার লাশ দেখতে রাজশাহীতে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। ৩১ মার্চ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। রাউধা আত্মহত্যা করেছে উল্লেখ করে বোর্ড ময়না তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
মালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আথিফের জন্ম ১৯৯৬ সালে ১৮ মে। তিনি রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাউধা পড়ালেখার পাশাপাশি মডেলিং করতেন। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণে আরও পাঁচ মডেলের সঙ্গে রাউধাও ছিলেন।