রাওথার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ-অবিশ্বাস || সুষ্ঠু তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

রাওথা আতিফের মৃত্যু নিয়ে রাজশাহী তথা দেশবাসীর মধ্যে নানা কৌতুহল আছে। রাওথার আত্মহত্যা (!) এর খবর দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হলে বিষয়টি বিশেষ করে রাজশাহীবাসীর  মধ্যে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারে, চায়ের আড্ডায় কিংবা অফিসে রাওথার আত্মহত্যার ব্যাপারটি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার সূত্রপাত হয়। এমনই এক পরিস্থিতিতে রাওথার পরিবার তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে তা মানতে রাজি নয়Ñ তারা হত্যা মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। পরিবারের এই সিদ্ধান্ত রাওথার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী রাউথার লাশ হোস্টেল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, রাউথা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদি হয়ে শাহমখদুম থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তবে একজন উঠতি মডেল হিসেবে তার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি। ২০১৬ সালের অক্টোবর সংখ্যায় ভারতের বিখ্যাত ‘ভোগ ইন্ডিয়া’ সাময়িকীর প্রচ্ছদে স্থান পান মালদ্বীপের এই নাগরিক।
রাউথার মৃত্যুর পর তার লাশ দেখতে রাজশাহী আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং তার মা-বাবাসহ ৮-৯ জন নিকটাত্মীয়। এরপর গত ৩১ মার্চ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে রাউধার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। রাউথা আত্মহত্যা করেছেন উল্লেখ করে ওই দিন বোর্ড ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজশাহীতে রাউধার দাফন সম্পন্ন হয়।
রাউথার বাবা মোহাম্মদ আতিফ সাংবাদিকদের বলেছেন, বলেন, এটা নিছক আত্মহত্যা নয়। আমি একজন চিকিৎসক, আমি লাশ দেখেছি। আমি দেখেছি, এটা আত্মহত্যা নয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ কাউকে যেন বাঁচানোর চেষ্টা করছে। অবশ্যই আমি আইনের আশ্রয় নেব। আর এ জন্যই রাউথাকে এখানে সমাহিত করা হয়েছে।’ পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলা করলে তা নেয়া হবে। তবে গত শনিবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।
রাওথা বিদেশি শিক্ষার্থী। তার আত্মহত্যার ব্যাপারটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেথা দিয়েছে। পরিবারও তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে- তা মানতে নারাজ। তারা সন্দেহ- বিশ্বাসের কথা প্রকাশ করেছেন। এটি খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্যটি কী তা জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা উচিৎ। কেননা এর সাথে দেশের ভাবমূর্তির ব্যাপারটি জড়িত আছে। এই সন্দেহ-অবিশ্বাস দূর করা না গেলে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদেশে শিক্ষার্থীরা আসতে সংশয়ের মধ্যে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়টি অনেক বেশিÑ তাদেরকেই কলেজের সুনাম ও ভাবমূর্তির রক্ষার জন্য এই ঘটনায় তাদের সস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা। পাশাপাশি তদন্ত কাজে সহযোগিতা করা। বাংলাদেশের সুনাম ও ভাবমূর্তির জন্য পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রাওথার মৃত্যু যে আত্মহত্যাজনিত তা প্রমাণের দাবি রাখে। আবার এই ঘটনা যদি হত্যাকা- হয় তবে এর সাথে কে কারা জড়িত আছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করাও এখন বাংলাদেশের দায়িত্ব। নিশ্চয় সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য সব সন্দেহ- অবিশ্বাস আর কৌতুহলের অবসান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ