রাকাব এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান, সরকার একীভুত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরবে কি?

আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৪, ৭:০৮ অপরাহ্ণ

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। ব্যাংকটি সারা দেশে চমক সৃষ্টি করে আরেকটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। দেশের ব্যাংক খাত যখন নানা সমস্যা-সঙ্কটের সম্মুখিন তখন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক লোকসান কাটিয়ে মুনাফা অর্জনের ঘোষণা দিচ্ছে। অন্যান্য লোকসানি ব্যাংকগুলোর জন্য রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক উদাহরণ, অনপ্রেরণা ও উৎসাহের কারণ হতে পারে। অভাবিত এই সাফল্যে রাকাব কর্তৃপক্ষ প্রশংসা পেতেই পারে।
সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৩৭ বছরের লোকসানের কালিমা থেকে মুক্ত হয়ে সদ্য সমাপ্ত ২০২৩-২০২৪ বার্ষিক হিসাব সমাপনীতে নিট মুনাফাসহ সকল আর্থিক সূচকে ধনাত্মক অগ্রগতি অর্জন পূর্বক ব্যাংকটি কাাক্সিক্ষত সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে।
২০২২-২০২৩ অর্থবছরের ২২৪ দশমিক ১৫ কোটি টাকার লোকসান কাটিয়ে সদ্য সমাপ্ত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ২ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে। লোকসানি শাখা গত বছরের ৬০টি থেকে ৪৮টি হ্রাস পেয়ে এবছরে ১২টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আমানত স্থিতি পূর্ববর্তী বছরের ৬৭৭৭ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭১৮০ কোটি টাকায়, ঋণ স্থিতি ৭৫৮৭ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮৩৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একইসাথে শ্রেণিকৃত ঋণ স্থিতি ১৪৩০ কোটি টাকা থেকে হ্রাস পেয়ে ১২৪২ কোটি টাকায় এবং শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১৯ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এ সাফল্য আশা জাগানিয়া। এই অভিযাত্রা বজায় রাখতে পারলে নিশ্চিত করেই বলা যায়, রাকাব একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে চিনাবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাকাব দেশের একটি বিশেষায়িত ব্যাংক। দেশের উত্তরাঞ্চেলের কৃষিতে পরিবর্তন ও উৎপাদন উৎকর্ষতার নিরিখেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রত্যক্ষভাবে ব্যাংকটি লোকসান করে আসলেও এর অসাধারণ পরোক্ষ অর্জন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এর পরোক্ষা অর্জনও দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে। বাস্তবিক দৃশ্যপটে সেই সাফল্যই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এ অঞ্চলের আজকের কৃষির যে অগ্রগতি তাতে রাকাব-এর অবদান অনস্বীকার্য, তাৎপর্যপূর্ণ।
কিন্তু সরকার ইতোমধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ দেশের আরো কিছু সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক সবল ব্যাংকগুলোর সাথে একীভুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাকাবকে একীভুত করার সিদ্ধান্ত এ অঞ্চলের মানুযষের মধ্যে ইতোমধ্যেই অসন্তোষের কারণ হয়েছে। তারা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ জানিয়েছেন।্ ইতোমধ্যেই রাকাব লোকাসানি অবস্থা থেকে সবল প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার নিশ্চয় তাদের পূর্ব সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে রাকাবকে সবল প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিবে, রাকাব-এর সাফল্যকে প্রশংসিত ও পুরষ্কুত করবে। রাকাব যদি সবল নাও হতো তারপরেও রাকাব-এর পরোক্ষ অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির ধারাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সরকার রাকাব একীভুত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে সেই প্রত্যাশা করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ