রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ

09. Rakhain
সোনার দেশ ডেস্ক
মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে পুলিশের উপর হামলার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী ২৬ জনকে হত্যা করেছে। এরআগে বুধবার সেনাদের সঙ্গে অস্ত্রধারীদের সহিংসতায় ১২ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন তিনটি পুলিশ পোস্টে রোববার হামলা চালায়। ওই হামলায় নয় পুলিশ নিহত ও পাঁচজন আহত হন। সৈন্যদের ওপর হামলা চালালে ৪ সেনা নিহত এবং একজন হামলাকারী নিহত হয়।
আর এরপর সেনা ও পুলিশ বাহিনী উত্তর রাখাইন রাজ্েয মুসলিম অধ্যুষিত মংডু শহরের কাছে পায়ুংপিট গ্রামে পিস্তল এবং ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত প্রায় ৩০০ বিক্ষুব্ধ মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
মানবাধিকার সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়হীন রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার গোষ্ঠীগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হতাহতের সংখ্যা বাড়বে।
মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া অং সান সু চি বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারকে বলেন, “তার সরকার আইনের শাসনের চর্চা করছে।” বুধবার সু চি বলেন, ওই হামলা কারা চালিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
দেশটির সেনাবাহিনীর পত্রিকা মিয়াওয়াদি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মংডু শহরের কেটিওপিন গ্রামে সন্দেহভাজন আরো ১০ হামলাকারী নিহত হয়েছেন। একটি রাইফেল জব্দ করা হয়েছে। বুধবার পৃথক আর এক ঘটনায় সশস্ত্র হামলাকারীরা সীমান্ত পুলিশের ২৫টি বাড়িতে আগুন দেয় বলে সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে। সর্বশেষ নিহতের সংখ্যা যোগ করে রোববার থেকে এ পর্যন্ত উত্তর রাখাইন রাজ্েয ৩৯ জন নিহত হয়েছেন, এরমধ্েয ১৩ জন নিরাপত্তা সদস্যও রয়েছেন। নিহত সন্দেহভাজন ২৬ হামলাকারীর অনেকের হাতেই কোনো অস্ত্র ছিল না বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে স্থানীয় একজন প্রত্যক্ষদর্শী।
কর্তৃপক্ষ স্থানীয় চার মুসলিম নাগরিককে গ্রেপ্তারও করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিরা হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের রাখাইন প্রদেশে কয়েকদিন ধরেই সংঘাত চলছে।
রাখাইন রাজ্যে এ সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। তারা সব পক্ষকে সংযত থাকার আহবান জানিয়েছে। ২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত সহিংসতায় ১শ’র বেশি মানুষ নিহত হয়। রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেনা সে দেশের সরকার। মিয়ানমারের বৌদ্ধরা মনে করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে সেখানে গেছে।- বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ