রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধের ঘোষণা মিয়ানমারের || রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা হোক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার পর অবশেষে রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধ করলো মিয়ানমার। ১৫ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, সেনা অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে এবং এলাকাটি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।
জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন একটি চেকপোস্টে হামলায় নয়জন পুলিশের মৃত্যুর পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের মতে চার মাসের এ অভিযানে এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছে। এ অভিযানকে জাতিসংঘ বলেছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যার উদ্দেশ্য ছিলো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগত নির্মূল করা। যদিও মিয়ানমারের তরফ থেকে সবসময়ই অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হচ্ছিলো।
মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এটা বুঝতেই বিশ্ব বিবেকের অনেক সময় লেগে গেছে। ততক্ষণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। মিয়ানমারের ঘটনা বুঝতে আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোও দেরিতে উপলব্ধি করেছে। মানবাধিকার সুরক্ষায় মিডিয়ার এই ব্যর্থতাও বড় উদ্বেগের বিষয়। পৃথিবীর সবখানেই এখন ঘটনাবলির সাথে নোংরা রাজনীতি ঢুকে পড়ছে। এবং এই রাজনীতি এমন এক বাতাবরণ সৃষ্টি করছে যে, মানুষকে এক ধরনের ধোকার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান আর নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের মধ্যেকার পার্থক্য করার মত মানবিক বোধ জাগ্রত দেখা যাচ্ছে না। এটা অনেকটা জ্ঞাতসারেই করে ফেলা হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের উপরি চেহারাটা মানবিক মূল্যবোধের কিন্তু ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িকতা, ভেদবুদ্ধির বহিঃপ্রকাশটাও তারা ঘটিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ওই দেশগুলো যে উপকৃত হচ্ছে অবশ্যই তা বলার কোনো সুযোগ নেই। বরং দেশে দেশে অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতা বেড়েই চলেছে। সন্দেহ, অবিশ্বাস ও আস্থহীনতা এখন প্রায় প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব বিবেকের জন্য এটা যদি বোঝার বা জানার অবজ্ঞা থাকে, তা হলেÑ পৃথিবী যে বসবাসের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে! সে আশংকাটা থেকেই যায়।
হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগে বহু রোহিঙ্গা মুসলিমের হতাহতের ঘটনায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির ভূমিকাও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়। তিনি শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছেন। কিন্তু তিনি তাঁর নিজ দেশে যে মানবাধিকারের লঙ্ঘন করলেন তা আগামীতে অবিশ্বাস্য, কলঙ্কিত ও বিরল ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিবে। অং সং সুচিতে বিশ্ব বিবেক এতা তেশি ক্ষুব্ধ-বিরক্ত যে, তাঁর নোবেল কেড়ে নেয়ার জন্যও সোচ্চারিত হয়েছে।
মায়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন, বিতাড়ণ এবং অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের সাথে সে দেশের সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি খোদ জাতিসংঘকৃত কশিশনের কাছেই প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘ যথোচিত ব্যবস্থা নিবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
অন্যদিকে পূর্বে এবং বর্তমান সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যাটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘ সে বিষয়টি অগ্রাধিকার গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় লাভকারী সকল শরণার্থীকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ