রাজধানীর প্রায় ৯৫ শতাংশ ঘরবাড়ি অনুমোদনহীন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সমাধান কী?

আপডেট: জুন ৩০, ২০২৪, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানী ঢাকার প্রায় ৯৫ শতাংশ বাড়িঘর অনুমাদনহীন ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে। এ তথ্য স্বয়ং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর।
২৭ জুন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘টেকসই শহর তৈরি: বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও বাধা’ শীর্ষক ওই সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুমোদনবিহীন বাড়িঘরগুলোকে যাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুমোদনের আওতায় আনা যায়, এজন্য একটি কমিটি আছে। এমন একটি কমিটি আছে, তা গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হওয়ার আগে আমি জানতামই না।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের নির্মম সত্যটাই সামনে এসেছে। নিয়ম-নীতি আছে কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই। থাকবেই যদি তা হলে দেকভালের জন্য কমিটি থাকার পরও কীভাবে অনুমোদনহীন ঘরবাড়ির সংখ্যা শতভাগের কাছাকাছি ঘরে থাকে? ‘প্রায় ৯৫ শতাংশ ঘরবাগি অনুমোদনহীন’ এ তথ্য খুবই উদ্বেগজনক ও হতাশার। তা হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মচারিদের কাজ কী?
প্রতিমন্ত্রী সেমিনারে বাস্তবসম্মত কথা বলেছেন যে, ‘ঢাকাই বাংলাদেশ নয়, ঢাকার বাইরেও বাংলাদেশ আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা যারা ঢাকায় থাকি, তারা ঢাকার বাইরে বাংলাদেশ আছে, সেটা বুঝতে চায় না। এমনকি যারা গ্রামে থাকে তারাও মনে করে ঢাকায় চলে যাওয়া ভালো, ওটাই বাংলাদেশ।’ যদিও প্রতিমন্ত্রী এ বক্তব্য নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর এ কথা বারবার উচ্চারিত হয়েছে, দাবি উঠেছে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণের বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যুই ছিল। বঙ্গবন্ধু সরকার আমলে সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছিল। কিন্তু পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই উদ্যোগ আর হয়নি। রাজধানী ঢাকাকেই লাগাতারভাবে একমাত্র কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সারা দেশের মানুষকে রাজধানী নির্ভর করে ফেলা হয়েছে। ঢাকাকে এখন ইট-পাথরের জঙ্গল হিসেবেই গন্য করা হয়। ২৭ জুন ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রকাশিত দ্য গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স-২০২৪- এর তথ্যমতে ঢাকা বাসযোগ্য শহরের বৈশ্বিক তালিকায় ১৬৮ তম। ২০২৩ সালে পৃথিবীর ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৬৬তম। অর্থাৎ ২ ধাপ পিছিয়েছে।
এসব তথ্য নেহাতই তথ্যমাত্র। এর জন্য দায়িত্বশীলদের কোনো ভাবান্তর নেই। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন রাজধানী ঢাকা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ভূমিকম্পের মত বড় বিপর্যয় ঘটে গেলে রাজধানীর দুর্যোগ মোকাবিলা করার মত সক্ষমতাও আমাদের নাই। তেমনটি হলে মানবিক বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার আশংকাই থেকে যায়। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী যে ভাবে বিষয়টিকে উপলব্ধি করেছেন তার মধ্য দিয়েই সমাধানের উপায় অন্বেষণ করতে হবে। একটি পরিকল্পিত নগরীর জন্য করণীয় সব কিছুই করার সদিচ্ছা দরকার। এর জন্য দেশের মানুষকে ঢাকা নির্ভরতা থেকে মুক্ত করার সময় এসেছে। প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ সব সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ