রাজনীতি,পানি ও চুক্তি

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন


সম্প্রীতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরটি বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে একটি আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ মোদি হাসিনার সামরিক চুক্তিটির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে নানা দিক নির্ধারণে ব্যস্ত। কারণ বর্তমান বিশ্বে ভারত আমেরিকা ও রাশিয়ার সামান্তরাল অবস্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মন্দা অর্থাবস্থার অর্থনীতিতে অভুতপুর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। উন্নয়শীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ। এই দুই প্রতিবেশী দেশের সম্প্রীতি ও সুসম্পর্কের অবস্থানটি বিশ্বের অনেক দেশের গাত্রদাহের কারণও হয়ে উঠছে বলে অনেকেই মনে করেন। ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব আন্তর্জাতিক বাজার ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলবে। বিশ্বের পুঁজিবাদী পশ্চিমা দুনিয়া দুই দেশের বন্ধুত্ব মোটেও সহ্য করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক দুনিয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিকরা জনগণের দৃষ্টি না এনে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য পুরানো ভারত বিদ্বেষী ভাঙ্গা রেকর্ডটি বাজিয়ে চলেছেন। বাংলাদেশে সরকার আর বিরোধীদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে নিয়ে যেভাবে কাদাছুড়াছুড়ি করছে ভারতে কিন্তু সরকারি দল ও বিরোধীদলগুলি তা কিন্তু করছে না। এখানেই বাংলাদেশ আর ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতি অনুশীলনের ক্ষেত্রের পার্থক্য। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়ে এসেছে। দেশ বিক্রির সাফ কাওলা দলিল কীভাবে সম্পন্ন হয় তা কিন্তু বিএনপি নেত্রীর বক্তৃতা থেকে বুঝা যায় নাই। ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিকে গোলামী চুক্তি হিসাবে আখ্যা দেয়া হয়েছিল ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর। পরবর্তী সময়ে এসে দেখা যায়,  ছিটমহল বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির অনুসৃত শর্ত অনুসারে। ছিটমহল সমস্যাটির সমাধানের ফলে ওই অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের ৬৮ বছরের অমানবিক জীবন যাপনের অবণর্নীয় দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্যে বুঝা যায়,  চুক্তিতে কি আছে কি নাই তা না দেখে চিল কান নিয়ে গেছে এই ভেবে সবাই চিলের পিছে ছুটতে শুরু করলেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে ভারতের সাথে ৩৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন হয়েছে। এতদসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ যে বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায় না। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যাকার মূল সমস্যা হলো পানি। সাধারণ মানুষ এই পানি সমস্যাটির সমাধানের দিকে তাকিয়ে আছে। বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে এই সমস্যাটির সমাধান আদৌ হবে কি না তার কোন নিশ্চয়তা নাই। পানি বিষয়ক সমস্যাটির ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল আজ থেকে ৬৭ বছর আগে। সেই সময় এই বিষয়টির নিরসনকল্পে কি কোন  পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিলÑ তা কিন্তু ইতিহাস বিশ্লেষণ সাপেক্ষে ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়া যায না। বাংলাদেশে ভারতের সাথে পানি বিষয়ক সমস্যাটি দৃশ্যমান হয় ফারাক্কা বাধ কার্যকর হওয়ার পর । ফারাক্কা বাধ নির্মাণের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ এই দশকে কলকাতা বন্দরের কাছে হুগলি নদীতে পলি জমা একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই পলি ধুয়ে পরিস্কার করার জন্য ভারত সরকার গঙ্গা নদীতে বাধ নির্মাাণের পরিকল্পনা নেয়। শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি থেকে জুন ) ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গা নদী থেকে ৪০,০০০ ঘনফুট/সেকেন্ড পানি হুগলি নদী অভিমুখে চালিত করে বন্দরের পলি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার পদক্ষেপ নেয়। ফারাক্কা বাঁধ থেকে ভাগীরথী-হুগলি পর্যন্ত ২৫ মাইল দৈর্ঘ একটি ফিডার খাল তৈরি করা হয়। এই বাঁধটি ভারতের মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় অবস্থিত। ১৯৬১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয় আর তা শেষ হয় ১৯৭৫ সালে। ২২৪০ মিটার (৭৩৫০ফুট) দীর্ঘ বাঁধটি  নির্মাণে ভারতকে অর্থায়ন করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক বিলিয়ন ডলার। বাঁধটি পরীক্ষামূলক চালু করা হয় ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল। ১৮৫১ সাল থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত পাঁচটি সমীক্ষা চালানো হয় কীভাবে গঙ্গার পানির এক অংশ ঘুরিয়ে হুগলি-ভাগীরথীতে প্রবাহিত করে কলকাতা বন্দরের পলি অপসারণ করা যায়। তাই প্রশ্নটি হচ্ছে ওই সমীক্ষা চালানোর সময় বাংলাদেশ অঞ্চলের কোন মানুষের কি চিন্তায় আসে নাই এই বাঁধের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের কি সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওই সমীক্ষায় যদি গঙ্গা অববাহিকার ভাটি অংশে এই বাঁধের ফলে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে তার প্রতিফলনটা ঘটানো যেতো তাহলে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিতে শুরুতে বাধা বা আপত্তি উঠে আসতো। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ হয়ে গেছে। এই বাঁধ ভারতের ফারাক্কা সুপার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জল সরবরাহ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ফারাক্কা বাঁধের নির্মাণ কাজ চলছিল তবে শোনা যায় মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির আগে এই বাঁধ চালু করা হবে না এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন ভারত সরকার। ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশের পটপরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিম-লে বাংলাদেশের অবস্থান ইউটার্ন নিয়ে ভিন্ন অবস্থা চলে যায়। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধকালীন বন্ধু রাষ্ট্রগুলির সাথে বৈরিতা সৃষ্টি হয়। ফলে ফারাক্কা সংক্রান্ত বিষয়টিও ভিন্ন মাত্রার একটি সমস্যায় পরিণত হয়। ১৯৭৬ সাল থেকে ফারাক্কার পানি সংক্রান্ত বিষয়টিতে আন্তর্জাতিকভাবে যে ধরনের দেন দরবার শুরু হয় তা নেহাত লোক দেখানো বলা চলে। এতে সমাধানের কোনো পথ সৃষ্টি হয়নি। ১৯৭৬ সালের ২৬ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ভারত ও বাংলাদেশকে আলোচনার মাধ্যমে ফারাক্কা সমাধানের পরামর্শ দেয়। ১৯৭৭ সালের ৫ নভেম্বর একটি চুক্তি (সাময়িক) সম্পন্ন হয় তবে এর আগে এতদসম্পর্কিত বিষয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক দু দেশের মাঝে  সম্পন্ন হয়েছিল। চুক্তিতে বলা হয়,  ভারত ও বাংলাদেশ ১৯৭৮ সাল থেকে ৮২ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি ভাগ করে নেবে। ১৯৮২ সালে আবার দুই দেশ দু বছরের পানি ভাগের চুক্তি করে। কিন্তু স্থায়ী চুক্তি না থাকায় বিষয়টির স্থায়ী সুরাহা হয়নি। ১৯৯২ সালে মে মাসে এক বৈঠকে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও বাংলাদেশের সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ভারত বাংলাদেশকে সমপরিমাণে পানি দেয়ার ব্যাপারে সবকিছু করবে। কিন্তু এই আশ্বাস বাস্তবে কোন ফল বয়ে আনেনি। কারণ ১৯৯৩ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অঞ্চলে মাত্র ২৬১ কিউসেক পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। অথচ ফারাক্কা পূর্ব সময়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ১৯৮০ কিউসেক। এই তথ্য থেকে বুঝা যায়, ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা নদীর পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় ফারাক্কা সম্পর্কিত পানির সমস্যার ফলপ্রসূ সমাধানের পথ দেখা যাচ্ছিল না। অবশেষে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর মাসে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেব গৌড়া ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিটির ফলে দেশে কতটুকু পানি আসছে তাও দেখার বিষয়। গঙ্গার জল প্রবাহের সমবণ্টনের কথা চুক্তিটিতে বলা হয়েছে কিন্তু ফিডার খালের মাধ্যমে প্রবাহের জল অন্য ধারা নিয়ে গেলে ফারাক্কা পয়েন্টে কতটুকু পানি থাকবে আর এই পানি সমবণ্টন করলে কি বাংলাদেশের পদ্মা নদীর জল প্রবাহের চাহিদা পূরণ হবে ?
বর্তমানে ফারাক্কার চেয়ে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে তিস্তা। তিস্তার পানি বিষয়ক চুক্তি নিয়ে উভয় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। ১৯৮৩ সালে জুলাই মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় তিস্তার পানির ৩৬ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ আর ৩৯ শতাংশ পাবে ভারত। বাকি ২৫ শতাংশ পানি নদীতে সংরক্ষিত হবে। কিন্তু পানি ভাগাভাগির কীভাবে সম্পন্ন হবে তার সঠিক কোন নির্দেশনা ছিল না সেই সময়ের আলোচনায়। এই বৈঠকের দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ২৫, ২৬, ২৭ সেপ্টেম্বর  তিস্তা পানি বিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় ৮০ শতাংশ পানি উভয় দেশ সমান ভাগে ভাগ করে নেবে আর ২০ শতাংশ পানি তিস্তায় সংরক্ষিত থাকবে। তবে  ভারত এই প্রস্তাবে আপত্তি জানায়। ভারত জানায়, বাংলাদেশ ভারতের সমান তিস্তার পানি পাবে না। বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার তিস্তা নদীর উজানে ভারতের জলপাই গুড়ি জেলার মালবাজার মহকুমার গজলডোবায় ভারত তিস্তা নদীর একটি বাঁধ নির্মাণ করেন যা গজলডোবা বাঁধ হিসাবে পরিচিত। ভারত গজলডোবা বাঁধের উজানে ফিডার খাল তৈরি করেছে। এই ফিডার খালের মাধ্যমে তিস্তার পানি প্রবাহের ধারাটি ভিন্ন নদীতে নিয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশে প্রবেশে তিস্তা পয়েন্টে ভারতের অংশে  জল প্রবাহ কমে গেছে। এখন যে অনুপাতে পানি ভাগাভাগি হোক না কেন তাতে বাংলাদেশ অংশে তিস্তার পানি প্রবাহে পূর্বের রূপ নিবে না। বর্তমানে ভারত তার পূবাঞ্চলীয় রাজ্যে টিপাই মুখ বাঁধ নির্মাণ করে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের সুরমা ও কুশিয়ারা নদী নাব্যতা হারাবে সেই সাথে বিস্তীর্ণ হাওড় অঞ্চলে জল শুন্যতা দেখা দিবে। টিপাই মুখ বাঁধটির নামকরণ করা হয়েছে টিপাইমুখ গ্রামের নামানুসারে। এই গ্রামটির কাছে বারাক ও টুইভাই নদীর মিলন স্থল। টিপাইমুখ গ্রামটি ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ২০০৯ সাল থেকে এখানে বারাক নদীতে বাধ তৈরির কাজ চলছে। বারাক নদীটি ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে উৎপান্ন হয়ে মনিপুর, আসাম, মিজোরামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভারতের অমলসিধের কাছে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারত এই বারাক নদীর টিপাইমুখ গ্রামে বাধ তৈরি করে ১৫০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। বারাক নদীর ভাটির অঞ্চল হলো প্লাবণ সমভূমি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিরগঞ্জের হাওড় এলাকা। বাঁধটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে বাংলাদেশের পরিবেশসহ কৃষিতে বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই টিপাইমুখ বাঁধ বিষয়ক সমস্যাটির সমাধান করা পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪ টি নদীর আন্তঃসীমানা রয়েছে তার মধ্যে পদ্মা, তিস্তা, বারাকেরভাটি অংশ সুরমা ও কুশিয়ারা, ফেনী মহানন্দাসহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য। ভারত যে ভাবে নদী প্রবাহে বাধ তৈরি করে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করছে আর জলপ্রবাহটি ফিডার খালের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে তাদের চাষাবাদের কাজে লাগাচ্ছে।  বাঁধ নির্মাণের পর আলোচনা করে এই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে না। পানির ধারার গতি পথটি যদি সরে যায় তাহলে সিমান্ত পয়েন্টে পানির পরিমাণ কমে যাবে। আর এই কম পরিমাণের পানি আধাআধি ভাগ করা হলে  বাংলাদেশের নদীগুলির জলপ্রবাহের প্রয়োনীয় পানির যোগান হবে না।
বিশ্বের যে নদীগুলির প্রবাহ ধারা একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সেই নদীগুলিকে আর্ন্তজাতিক নদী হিসাবে চিহ্নিত করা উচিত। আর এধরনের নদী গুলির উপর বাধ বা অন্য কোন উপায়ে জলপ্রবাহ ফিডার খালের মাধ্যমে প্রবাহিত করতে না দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। নদীর এ রকম জল প্রবাহের বিষয়ে আর্ন্তজাতিক আইন তৈরি করা দরকার। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্প্রতি ভারতের সাথে সম্পাদিত  চুক্তি সমঝোতা নিয়ে যে কাদাছোড়াছুড়ি হচ্ছে তার ফল দেশবাসীর জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। আন্তর্জাতিক নদীগুলির পানি প্রবাহে কোন দেশ যেন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া দরকার। বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি উপস্থাপনের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এই সংক্রান্ত বিষয়ে জাতিসংঘের একটি নীতিমালা তৈরির ব্যাপরে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্ভুত সমস্যাটির সমাধান সম্ভব।
লেখক:- কলামিস্ট