রাজনৈতিকভাবে নারীর ক্ষমতায়ন দলগুলোর সদিচ্ছায় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব

আপডেট: জুন ১৩, ২০১৭, ১:১০ পূর্বাহ্ণ

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি যতটা না নারীর তার চেয়েও বেশি জাতীয় উন্নয়নের সাথে সমআপূর্কযুক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সমাজই নারীকে পিছিয়ে রেখে তার কাক্সিক্ষত লক্ষে পৌঁছতে পারে না। আর নারীর উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন যা একটি জাতিকে এক উন্নতর মূল্যবোধের নির্দেশনা দেয়Ñ যা একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই নারীর উন্নয়নকে মানবিক মূল্যবোধের উন্নত ধারণার সাথে গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশও তেমনি এক লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে। নারূীর ক্ষমতায়ন বলতে সমাজে সর্ব ক্ষেত্রে নারীর সক্ষমতা প্রদর্শনের পূর্ণ স্বাধীনতাকে বোঝায়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোয় নীতিনির্ধারণে, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নারীর অধিকারের স্বীকৃতির বিষয়টি আজ সারা বিশ্ব জুড়েই প্রত্যাশিত। আর এ জন্য নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সেই অনুশীলনের ধারায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে রাজনীতিতে নারীর অবস্থান এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। গণপ্রতিনিধিতত্ব আইন অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে যতটুকু এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল তা অর্জন করা যায় নি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে গনপ্রতিনিধিত্বমূলক আইন মেনে দলে নারীদের জায়গা করে দেয়ার জন্য তাগিদ দিতে যাচ্ছে। সব রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের জন্য নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ সহ দেশের বিভন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- নিবন্ধন প্রথা চালুর প্রায় ১০ বছর পার করেও আশাপ্রদ অগ্রগতি না হওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানেেচ্ছন নির্বাচন কমিশন।
আরপিও’র ৯০-এর খ-এর খ(২) অনুচ্ছেদে, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ রাজনৈতিক দলের সকল স্তরের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ সদস্যপদ নারী সদস্যদের জন্যে সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং এই লক্ষ্যমাত্রা পর্যায়ক্রমে আগামী ২০২০ সাল নাগাদ অর্জন করার কথা বলা হয়েছে।
২০০৮ সালে নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর ২০২০ সালের মধ্যে পূরণের প্রতিশ্রুতি ইসিকে দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো। প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখনও ১৫ শতাংশও নারী সদস্য পূরণ করতে পারেনি দলগুলো।
নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একজন গবেষক জানান, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য কমিটিতে বড় তিন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির গড়ে এখনও ১১ শতাংশ পদে নারী সদস্য নেই। ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে। দলগুলোর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কিছু নারী নেতৃত্ব থাকলেও তৃণমূলে এ দৃশ্য খুবই হতাশাজনক।
রাষ্ট্রের যা কিছু মানুষ ও পরিবেশের জন্য কল্যাণকর তার সবটাতেই নেতৃত্ব দিয়ে থাকে রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনীতির উন্নত দর্শন, শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের ক্ষমতা ইতিবাচকভাবে পাল্টে দেয় রাষ্ট্র ও সমাজকে। সেই রাজনীতি উদ্দেশ্য নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের অগ্রযাত্রাকে উৎসাহিত করবে এটাই আইনসিদ্ধ। এর ব্যত্যয় নেতিবাচক ধারণাকেই প্রশ্রয় দেয়ার সমতুল্য। বাঙালি জাতির রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামের গৌরবময় ঐতিহ্য আছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাই আমাদের বলে দেয় নারী ও পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগই এক উন্নত সংস্কৃতির ভবিষ্যত। রাজনীতিতে ৩৩ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হাতে সময় মাত্র তিন বছরের কিছু বেশি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও উন্নত কর্মসূচি নিয়ে এগুতে পারলে লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন কিছু নয় বলেই আমাদের ধারণা। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেই অধিক তৎপর হওয়া বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ