রাজশাহীজুড়ে হচ্ছে ১,৬৯৬ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২২, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য রাজশাহী বিভাগে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১.৫৩৮ কিলোমিটার ব্রিজ ও কালভার্টসহ ১,৬৯৬ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ‘রাজশাহী বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (সিরাজগঞ্জ জেলা ছাড়া)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। খামার ও অ-কৃষি অর্থনীতি সহজতর করা এবং স্কুল ও হাসপাতালের মতো প্রাথমিক সেবা সহজ করতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কে এম জুলফিকার আলী জানান, ১৪০ মিটার সেতুসহ ১৭২.৯ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৬৩৬ মিটার সেতুসহ ৩৬৭.৭৬ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক ও ৭৬২টি প্রকল্পের অধীনে পাঁচ বছর মেয়াদি সেতুসহ ১১৫৬ কিলোমিটার গ্রামের সড়ক নির্মাণ করছেন।

পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাটের ৫৮ উপজেলায় ২০৮০.৪০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকৌশলী জুলফিকার বলেন, ‘এছাড়া ৪৬টি প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র, ২৫০ মিটার স্কুল সংযোগ সড়ক, ৩৯৬.৮৩ মিটার কালভার্ট এবং ৩৩.২৮ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘৩২৭.৫৯ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হচ্ছে, যেখানে ১৭১.০৭ কিলোমিটার সড়ক ও ৪০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। মেরামত করা হচ্ছে।’ তাছাড়া বিভিন্ন গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রকৌশলী জুলফিকার আরও বলেন, ‘উন্নত অবকাঠামো পরিবহন খরচ কমাবে, বিপণন ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাবে, কৃষি পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন সুবিধা বাড়াবে, যা এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনেক অবদান রাখবে।’

জুলফিকার আলী বলেন, রাস্তার পাশে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এটি যথেষ্ট পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়া বিশাল বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, খামার ও অ-কৃষি খাতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রামীণ জনগণকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে দারিদ্র্য হ্রাস করবে।

প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামের বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষা ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে গ্রামীণ জনগণের প্রবেশাধিকার বাড়ানো হবে। সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির সুবিধার্থে নির্বাচিত এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ পরিবহন ও বাজার সেবার স্থায়িত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ পরিবেশ উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা অনেকাংশে দূর হতে শুরু করেছে।

চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, প্রকল্পটি প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে জীবনযাত্রার মান ও জীবিকার অবস্থা বাড়াতে প্রচুর অবদান রাখবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নতি সবসময় গ্রামীণ জনসাধারণের জীবন-জীবিকার অবস্থা সহজ ও উন্নত করতে সহায়তা করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ