রাজশাহীতে অত্যাধুনিক বহুতল আদালত ভবনের কার্যক্রম শুরু ।। এজলাস সঙ্কট কাটবে কমবে ভোগান্তি ।। আজ উদ্বোধন করবেন আইনমন্ত্রী

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৭, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


উদ্বোধনের অপেক্ষায় রাজশাহীর বহুতল আদালত ভবন-সোনার দেশ

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে রাজশাহীর আদালতে এজলাস সঙ্কটের অবসান হচ্ছে। এর ফলে বিচার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের ভোগান্তি কমবে। প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চিফ জুডিশিয়াল বহুতল আদালত ভবনের উদ্বোধন হচ্ছে আজ বুধবার। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে বহুতল আদালত ভবনটি উদ্বোধন করবেন। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ কাজ তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, ২০১২ সালের রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে ২০১৪ সালের শেষে ভবন আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলে নানান জটিলতায় ভবনটির কাজ শেষ হতে লেগেছে ৫ বছর। ইতোমধ্যে ভবনটিতে বিচার কার্যক্রম শুরু করার উপযোগী সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আমান উল্লাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘৬৪ জেলা সদরে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের আওতায় রাজশাহীর এই আদালত ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলো। রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দফতর সূত্রে জানা গেছে, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনে সংশ্লিষ্ট আদালতের আওতাধীন ১০টি এজলাস একযোগে বিচার কাজ চলতে পারবে। বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, বিচারপ্রাথী, আসামি ও বিবাদিসহ আদালত সংশ্লিষ্ট সকলের সুবিধা নিশ্চিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, রাজশাহীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনটির ভিত্তি কাঠামো ১২ তলার। প্রথম পর্যায়ে আট তলার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ভবনের মোট আয়তন ৯৮ হাজার ৯৮৩ বর্গফুট। নিচতলায় ৪ হাজার বর্গফুটের পার্কিং সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও থাকছে অত্যাধুনিক লিফট্ ব্যবস্থা। মালখানার আয়তন ২ হাজার ২৪০ বর্গফুট। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে পুরুষ ও নারী হাজতখানা। একই তলায় রয়েছে নেজারত শাখা। তৃতীয় তলায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর এজলাস ও অফিস। এই তলাতেই থাকছে ২ হাজার ৫০ বর্গফুটের রেকর্ডরুম। চতুর্থ থেকে আটতলা পর্যন্ত বিভিন্ন আদালতের এজলাসসহ অন্যান্য সুবিধা থাকছে।
এদিকে চতুর্থ তলায় করা হয়েছে ১ হাজার বর্গফুটের সম্মেলন কক্ষ। বিদ্যুৎ সুবিধার জন্য ৫০০ কেভিএ ক্ষমতার একটি সাব-স্টেশনও বসানো হয়েছে। নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সুবিধার জন্য ১০০ কেভিএ ক্ষমতার একটি জেনারেটরও বসানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ইব্রাহিম হোসেন জানান, এজলাস সঙ্কটের কারণে এতদিন রাজশাহী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির আওতাধীন এজলাসগুলি শিফট্ আকারে পরিচালিত হয়ে আসছিল। নতুন আদালত ভবন হওয়ায় এই সঙ্কট নিরসন হলো। ফলে সার্বিক বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় অনেক সুবিধা পাবে আদালতে আগতরা। এতে মামলার বিচার কাজেও গতি আসবে বলে জানান তিনি।
এদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, ৬৪ জেলায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণে ২০০৯ সালে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১৩টি জেলায় আদালত নির্মাণ শেষ হয়ে ভবনটিতে বিচার কাজ চলছে। একই প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলায় নির্মিত আদালত ভবন হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া আট জেলায় নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে ৬৪ জেলায় এসব আদালত ভবন নির্মাণ শেষ হবে বলে জানান তিনি। এতে বিচার কার্যক্রমে গতিশীলতা আসার পাশাপাশি বিভিন্ন পক্ষের হয়রানি কমবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ