রাজশাহীতে আদেশ অমান্য করে আ’লীগ নেতার বালু বাণিজ্য

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের দেয়া আদেশ অমান্য করে রাজশাহীতে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলী। ইজারা বহির্ভুত এলাকায় বালু আহরণ ও মজুদ করে নগরের মধ্যশহর তালাইমারী ঘাট দিয়ে পরিবহণের তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পদ্মা নদীর দিয়াড়খিদিরপুর ও চরশ্যামপুর বালু মহালের ইজারা নিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলী। তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২। এছাড়াও তিনি ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
রজব আলী তার বালুমহাল থেকে ৬ কিলোমিটার দূরবর্তী কাজলা মৌজার তালাইমারীতে এবং প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে নবগঙ্গাতে বালু মজুদের পর পরিবহণের নির্দেশনা চেয়ে গত ৩০ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেছিলেন। রিট পিটিশন নং-৯৫১৪/২০২০। গত ৪ জানুয়ারি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহী উদ্দিন শামীমের দ্বৈত বেঞ্চ রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের ওপর রুল জারি করে এই আবেদন নিস্পত্তির আদেশ দেন। ১৭ জানুয়ারির মধ্যে রুলের জবাব দিতেও বলা হয়।
এদিকে, উচ্চ আদালতের এই আদেশে রিটকারীর আবেদনকৃত বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা অথবা আদেশ না দিলেও ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স রজব অ্যান্ড ব্রাদার্স এর মালিক রজব আলী ইজারা বহির্ভুত এলাকা পদ্মা নদীর কাজলা মৌজার তালাইমারী এলাকায় চারটি ড্রেজার লাগিয়ে বালু আহরণ শুরু করে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বালু মজুদ করে পরিবহনের জন্য নদীর একটি চলমান জলধারা বন্ধ করে ট্রাক চলাচলের জন্য সড়ক তৈরি করেন। এছাড়াও নবগঙ্গা এলাকায় ড্রেজার লাগিয়ে বালু আহরণের তৎপরতা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুইদফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসন নিশ্চিত হন যে মেসার্স রজব অ্যান্ড ব্রাদার্স তার ইজারাকৃত এলাকার বাইরে পদ্মা নদী থেকে বালু আহরণ ও মজুদ করছে। মৌখিকভাবে জেলা প্রশাসন নির্দেশ দিলেও ইজারাদার রজব আলী তা কানে তোলেনি। বরং ড্রেজার দিয়ে বালু আহরণ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, গত ১১ জানুয়ারি রাজশাহী জেলা প্রশাসক এক চিঠিতে উচ্চ আদালতের রুলের আইনি জবাব দিয়েছেন। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এবং বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১১ অনুযায়ী মেসার্স রজব অ্যান্ড ব্রাদার্সের করা রিট আবেদনটি আইনগতভাবে মঞ্জুর বা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। ফলে তা নথিজাতের মাধ্যমে নিস্পত্তি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের এ চিঠির অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের সলিসিটর, হাইকোর্ট বিভাগের সহকারি রেজিস্ট্রার, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ছাড়াও ইজারাদার মেসার্স রজব অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক রজব আলীকেও দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক বালু ইজারাদার মেসার্স রজব অ্যান্ড ব্রাদার্সের রিট আবেদনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের রুলের বিষয়ে স্পষ্টভাবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরও ইজারাদার তার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। গত ১১ জানুয়ারি জেলা প্রশাসন আবেদনটি নথিজাতের মাধ্যমে নাকচ করে দিলেও রজব আলীর লোকেরা বুধবারও ইজারা বহির্ভুত তালাইমারী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে বালু আহরণ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।
মেসার্স রজব অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলী বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি আইন বহির্ভূতভাবে কোন বালু উত্তোলন করছেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, মেসার্স রজব অ্যান্ড ব্রাদার্সের আবেদনটি নাকচ হওয়ার পরও যদি তার তৎপরতা চলতে থাকে, সেক্ষেত্রে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনের বাইরে কোনো কিছু করার বা করতে দেয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে, রাজশাহী পরিবেশ ঐক্য আন্দোলন পরিষদের উপদেষ্টা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেছেন, তালাইমারী একটি জনবহুল এলাকা। সেই এলাকার জলাধার বন্ধ করে সড়ক বানিয়ে ট্রাক ও ডাম্পারে বালু পরিবহণ করা হলে গোটা নগরীতে এর প্রতিকূল প্রভাব পড়বে। ইজারাদার তাদের তৎপরতা বন্ধ না করলে তারা তা বন্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবেন।