রাজশাহীতে ইদ জামাতে মহামারি থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনা

আপডেট: মে ১৬, ২০২১, ৯:১১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে চলমান করোনা মহামারি থেকে সবাইকে পরিত্রাণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানানো হয়েছে। একই সথে জীবনের সকল পাপ মোচন, এক মাসের সিয়াম সাধনা কবুল ও নাজাতের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
এছাড়া হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি আর কূপম-ুকতার বিপরীতে মানবিক মূল্যবোধ আর পরমতসহিষ্ণুতার বারতা ছড়িয়ে দিয়ে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান এসেছে বিভাগীয় শহর রাজশাহীর প্রধান ইদ জামাত থেকে।
শুক্রবার (১৪ মে) সকাল ৮টায় রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে গিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে মুসল্লিরা ফাঁকা ফাঁকা হয়ে সারিবদ্ধ হয়ে ইদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইদের জামাত শেষে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি বা করমর্দন করেন নি কেউ। তবে দূর থেকেই কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সবাই। নামাজকে ঘিরে এ সময় কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
এখানে ইদের দ্বিতীয় জামাত হয় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করেন- মসজিদের সহকারী ইমাম হাফেজ রেজাউল করিম। এছাড়াও নগরীর রানীবাজার জামে মসজিদে ইদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে।
এখানে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা শাহাদত আলী। তিনি সাধারণত প্রতিবছর রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ইদগাহে ইদের নামাজে ইমামতি করে থাকেন। কিন্তু এ বছর সেখানে জামাত অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে তিনি এই মসজিদে ইমামতি করেন।
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এবার সরকারি নির্দেশনা মেনে রাজশাহীতেও মসজিদের ইদের জামাত আয়োজন করা হয়।
রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) দরগাহ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সরকার শরীফুল ইসলাম শরীফ জানান, ‘প্রতিবছর ইসলামি ফাউন্ডেশন, সিটি করপোরেশন ও হযরত শাহ মখদুম (রহ.) দরগাহ ট্রাস্টি বোর্ড যৌথভাবে ইদগাহগুলোতে ইদ জামাতের সময় নির্ধারণ করা হতো। কিন্তু করোনা সংকটের ফলে সরকারি নির্দেশনার কারণে এবার রাজশাহীর কোনো ইদগাহেই ইদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই নিজ নিজ এলাকার মসজিদ কমিটিকে তাদের ইদের নামাজ পড়ার সময় ঠিক করে নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।
সরকার শরীফুল ইসলাম শরীফ আরও বলেন, ‘ইদুল ফিতরের নামাজের জন্য সবাইকে এবার বাড়ি থেকেই ওজু করে আসতে হয়। সঙ্গে আনতে হয় জায়নামাজ। তারা মসজিদ ফটকে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রেখেছিলেন। সরকারি নির্দেশনা মেনেই তারা ইদের নামাজ আদায় করেন।
এদিকে, ইদগাহের বদলে বাড়ির কাছে মসজিদে ইদের নামাজ পড়তে নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। সেইসঙ্গে মসজিদে ইদ জামাত আয়োজনের ক্ষেত্রে সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বেশ কিছু শর্ত দিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়।
নগরীতে মুসুল্লিরা মাস্ক পড়ে, শারীরিক দূরুত্ব বজায় রেখে কাতারে দাঁড়ানো, জামায়াত শেষে কোলাকুলি ও হাত মেলোনা পরিহার করেন। কিন্তু রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় ইদের নামাজে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। অনেকটা গায়ে ঘেঁষে, মুখে মাস্ক না পড়ে মসজিদে ইদের নামাজ আদায় করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ