রাজশাহীতে ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট-স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক প্রকল্পের কর্মশালার উদ্বোধন II অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আয় বৃদ্ধি করে নগরীর সকল উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রেখেছি : মেয়র লিটন

আপডেট: মে ২৪, ২০২৪, ১০:৫০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে জিআইজেড এর ব্যবস্থাপনায় ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট-স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের পরিকল্পনা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ মে) বেলা ১১টায় হোটেল গ্রান্ড রিভার ভিউ হল রুমে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক মেয়র বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী পৌরসভা থেকে ১৯৯১ সালে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর। ২০০৮ সালে প্রথম মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর নানাভাবে পিছিয়ে থাকা রাজশাহীকে ঢেলে সাজাতে সকল শ্রেণি পেশার মতামত গ্রহণ করি। সেই মতামতের ভিত্তিতে এ নগরীকে সাজিয়ে তুলি। প্রথমে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে রাত্রিকালীন আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করি। এরই মধ্যে দিয়ে এ নগরী পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

২০১৩-২০১৮ সাল মেয়রের দায়িত্বে না থাকাই সেই উন্নয়নের ধারায় কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয়। পরবর্তীতে ২য় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর পিছিয়ে পড়া রাজশাহীকে এগিয়ে নিতে বিনোদন কেন্দ্র, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, আলোকায়ন, সড়ক প্রশস্তকরণ, স্বাস্থ্যকর নগরী, নাগরিক নিরাপত্তাসহ কর্মচঞ্চল নগরী গড়ে তোলার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ঝকঝকে শহর রাজশাহী দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সেরা শহর। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আয় বৃদ্ধি করে নগরীর সকল উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রেখেছি। জনগণের সেবার যে দায়িত্ব সরকার আমাদের দিয়েছেন সেটাকে পবিত্র মনে করলে যেকোন উন্নয়ন করা সম্ভব। নানাক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন পৌরসভা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে অনুকরণ করছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এক রকম প্রভাব আর এ অঞ্চলের প্রভাব অন্যরকম। দক্ষিণের জেলাগুলোতে জলচ্ছ্বাস, সুনামী, ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে আর এ অঞ্চলে শীতের সময় তীব্র শীত আর গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি উভয় প্রকট। আমাদের করণীয় অনেক কাজ আছে। উত্তরাঞ্চল কৃষি প্রধান এলাকা শস্য ভান্ডার খ্যাত অঞ্চলকে আরো উপরে নিয়ে যেতে চাই।

উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান জিআইজেড বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞ, দক্ষ, যোগ্য করে গড়ে তোলে। এ ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে জিআইজেড কাজের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর’র অতিরিক্ত প্রধান-প্রকৌশলী গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথ’র সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এল.জি.ইডি’র প্রধান-প্রকৌশলী মো. আলী আকতার হোসেন, জি.আই.জেড বাংলাদেশ ক্লাস্টার-সমন্বয়কারী ডা. এ..এস. ডানা দেলা ফন্টেইন, সম্মানিত অতিথি ছিলেন এল.জি.ইডি রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান-প্রকৌশলী কে.এম জুলফিকার আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন জি.আই.জেড বাংলাদেশ ইনক্লুড-প্রকল্প প্রধান এম. মাহমুদুর রহমান। কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার-মেয়র মো. মোখলেসুর রহমান, চারঘাট পৌরসভার-মেয়র মো. একরামুল হক, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার-মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, গাইবান্ধা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী-কর্মকর্তা মো. আরশাদ উদ্দিন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক কার্যক্রম বিষয়ে তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন রাসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু।

জলবায়ু-স্মার্ট নগর উন্নয়নের উদ্ভাবন সরকারি স্টেক হোল্ডারদের সাথে প্রকল্প পরিকল্পনা কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেমন পৌরসভা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চারঘাট, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তারা বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়নের ল্যান্ডস্কেপে উদ্ভাবনী পন্থা বিবেচনা করে জলবায়ু-স্মার্ট নগর উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version