রাজশাহীতে উজানের ঢলে ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় ২০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি

আপডেট: জুলাই ১২, ২০২০, ১০:৩১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


উজানের ঢলে রাজশাহীতে ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ সেন্টিমিটার। আর রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় ৩ দশমিক ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে রাজশাহীতে পদ্মার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমার উচ্চতা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক জানান, শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিলো ১৫ দশমিক ০৬ সেন্টিমিটার। তা রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ১৫ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, ৯টায় ১৫ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার, বেলা ১২ টায় ১৫ দশমিক ১৮ সেন্টিমিটার, ৩টায় ১৫ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার ও সন্ধ্যায় ১৫ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার পানি রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজশাহীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক জানান, সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৬ টায় ১৪ দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় ১৪ দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটার, বেলা ১২টায় ১৪ দশমিক ৮৯ সেন্টিমিটার, বেলা ৩ টায় ১৪ দশমিক ৯১ সেন্টিমিটার, সন্ধ্যা ৬টায় ১৪ দশমিক ৯৩ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে ৪ ও ৫ জুলাই পদ্মার পানি বাড়েনি।

কিন্তু এর আগে (বৃহস্পতিবার) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছিল পদ্মা নদীর পাশাপাশি ১১ জুলাই থেকে পানি বাড়বে, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও মেঘনা নদীতে। এতে করে রাজশাহীসহ এবার ২৩টি জেলায় বিস্তৃতি লাভ করবে, ২৩ জেলার মানুষ বন্যাকবলিত হবে। বন্যার স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত হবে। সে তথ্য অনুযায়ী ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে পদ্মার উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে করে জেলার অনেক এলাকায় ভাঙন ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পদ্মার পানি বাড়লেও এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। ২০১৬ সালে রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর পুলিশ লাইন বাঁধে ৩ মিটার ফাটল দেখা দেয়। তখন তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধটি সংস্কার করা হয়। তখন থেকে সেভাবেই বাঁধটি রয়েছে। এবার বৃষ্টিপাত অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি হওয়ায় ও দেশের অন্যান্য স্থানে বন্যা হওয়ায় এবার শঙ্কা বেশি রয়েছে। ইতোমধ্যে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলিপুর ও নাপিতপাড়া এলাকায় পদ্মার পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের মতে, অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম জানান, শ্রীরামপুর শহর রক্ষা বাঁধের নতুন ডিজাইন জমা দেয়া হয়েছে। এখনো পাস হয়নি। তবে বাঘার নদীর পাড় বাঁধার প্রকল্প পাশ হয়েছে। তবে কাজ শুরু করা হয়নি। আর শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে এখনও কোন ভয়ের কোনো কারণ নেই। প্রাথমিকভাবে শহর রক্ষা বাঁধের জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

উল্লেখ, গত ১৮ বছরে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে মাত্র দু’বার। এর মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৮ বছর রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। কেবল ২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৮৫ মিটার। এরপর ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। ওই বছর পদ্মার উচ্চতা দাঁড়িয়েছিল ১৮ দশমিক ৭০ মিটার। এরপর আর এই রেকর্ড ভাঙেনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ