রাজশাহীতে উদ্বৃত্ত মাছের উৎপাদন ।। জলাবদ্ধতায় প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


কয়েক বছরে রাজশাহী অঞ্চলে বেড়েছে মাছের বাণিজ্যিক চাষ। এর ফলে উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুন। তবে অপরিকল্পিত পুকুর খননে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে ফসল। জাতীয় মৎস সপ্তা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে অপরিকল্পিত পুকুর খননে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ মাছে লাভের চেয়ে বেশি বলে স্বীকার করেন মৎস কর্মকর্তারা। তবে তাদের এনিয়ে কোন আইন না থাকায় অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থাও নেয়ার সুযোগ নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজশাহীতে বছরে মাছের চাহিদা ৫৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন হয় ৮০ হাজার ২৮১ মেট্রিক টন। প্রতিবছর উদ্বৃত্ত থাকে ২৬ হাজার ২৮৮ মেট্রিক টন মাছ। রাজশাহী থেকে প্রতি দিন তাজা মাছ চলে যায় রাজধানী ঢাকায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজশাহী জেলায় ৪১ হাজার ৮৭৬ পুকুর ও দিঘি মিলিয়ে ৭ হাজার ২৯৪ হেক্টর জলাশয়ে মাছচাষ হচ্ছে। এছাড়া ৩ হাজার ৪৬২ হেক্টরের মাছের বাণিজ্যিক খামার রয়েছে ৬ হাজার ১০৮টি। তবে এ পরিসংখ্যান পুরনো। এনিয়ে হালনাগাদ তথ্য নেই মৎস্য দফতরে।
তবে গত বছরেই ১২৩ হেক্টর জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এবছর আরো ৩০০ হেক্টর জমিতে পুকুর খনন করা হয়। প্রতি বছরই প্রান্তিক কৃষকের জমি গিলছে প্রভাবশালীদের খননযন্ত্র। বাণিজ্যিক খামার গড়তে বিল ও নিচু এলাকায় ফসলি জমিতে একের পর এক পুকুর খনন করেই চলেছেন তারা। জেলার প্রতিটি উপজেলায় চলছে অবাধে পুকুর খনন।
বর্ষায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, অপরিকল্পিত পুকুর খননেই সৃষ্টি হচ্ছে এ জলাবদ্ধতা। এর ফলে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করেননি তারা। তবে তা মাছ চাষের লাভ থেকে কয়েকগুন বেশি হবে। মাছ চাষে কিছু লোক লাভবান হলেও জলাবদ্ধতায় প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে তাদের করণীয় নেই জানিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, এনিয়ে কৃষি ও ভূমি দপ্তরের আইন রয়েছে। তাদেরই এনিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা। কিন্তু নানান জটিলতায় সেটি হচ্ছে না। পুকুর খননের পর বাণিজ্যিক মাছ চাষিরা কেবল পরামর্শের জন্য তাদের কাছে আসেন। আগে আসলে তারা পরিকল্পিত পুকুর খননে চাষিদের নিরুৎসাহিত করতেন। রাজশাহীর মাটি-পানি মাছ চাষের অনুকূল হওয়ায় প্রতিবছরই বাণিজ্যিক মাছচাষ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মৎস্য দফতরের পুরনো তথ্যমতে, পুকুর-দিঘি ছাড়াও জেলার সড়ক মহাসড়কের পাশের ৩৬৭ দশমিক ৬৮ হেক্টর জলাশয়েও মাছচাষ হচ্ছে। মাছ চাষের আওতায় রয়েছে এখনকার ৯ হাজার ১৬০ দশমিক ৪৭ হেক্টর আয়তনের ২১ নদীর। এছাড়া ২৭৮ দশমিক ৬৪ হেক্টরের ৬৬ খাল, ৭ হাজার ৭১ হেক্টরের ৭৩ বিল এবং ১১ হাজার ১৪৫ হেক্টরের ৮৪ প্লাবনভূমিতেও মাছচাষ হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পারভেজ রায়হান। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা ছাড়াও এতে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহীর মৎস্য উপপরিচালকের দফতরের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, উপ প্রকল্প পরিচালক রেজাউল ইসলাম, রাজশাহী মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক আবদুল খালেক প্রমুখ।