রাজশাহীতে এবারে আমনে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

শরিফুল ইসলাম


বরেন্দ্র অঞ্চলে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা। গোদাগাড়ী উপজেলার চব্বিশ নগর ডাইংপাড়ার একটি খেত থেকে তোলা সোনার দেশ

আবাহাওয়া অনুকূল থাকায় রাজশাহীতে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আগাম ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে আর সপ্তাহ দুয়েক পরে। আমন আবাদ সাধারণত কৃষকেরা বৃষ্টির পানিতে চারা বপন এবং চারা রোপন করে থাকেন। চলতি বছর চারা রোপন থেকে শুরু করে ধান গাছ বেড়ে ওঠা পর্যন্ত বৃষ্টির তেমন সমস্যা না হওয়ায় কৃষকেরা সুষ্ঠুভাবে ধানের আবাদ করতে পেরেছেন। তবে প্রথম দিকে কয়েকদিন বৃষ্টির পানির জন্য কৃষকদের কষ্ট হলেও পরে বৃষ্টি হওয়ায় তা কেটে গিয়েছিল। মাঝপথে এসে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি আর বৈরী আবওয়ায় ধান গাছে পচন দেখা দেয়ায় কৃষকেরা কীট নাশক প্রয়োগ করে তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। শেষ সময়ে আমন আবাদে কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষকের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। সরেজমিনে তানোর, মোহনপুর, পবা উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে আধাপাকা ধানের সমারোহ। তবে শেষ সময়ে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি কৃষককে ভাবিয়ে তুলেছে।
তানোরের লালপুর গ্রামের কৃষক মামুন, রফিকুল ইসলাম, দেবিপুর গ্রামের এন্তাজুর রহমান, মাহাবুর, মোহনপুর গোপালপুর গ্রামের গাফফার, মৌগাছি গ্রামের মহসিন আলী, পবার বায়া এলাকার আবদুর রাজ্জাক, দুয়ারীর হাবিবুর রহমান বলেন, আর কয়েকদিন পরে পুরোদমে ধান কাটা মাড়াই শুরু হবে। তবে শেষ সময়ে এসে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই পোকা ধানের গাছ কেটে দেয়ায় গাছ মরে যাচ্ছে। এতে ফলন ভাল হবে না। দোকান থেকে কীটনাশক ক্রয় করে জমিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তারা আরো বলেন, আগাম রোপন করা ধান কাটা মাড়াই শুরু করেছেন অনেকে। তবে এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে ফলন ভাল হবে বলে তারা আশা করছেন। ইতোমধ্যে কৃষকেরা তাদের ফসল রক্ষার জন্য কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপ-পরিচালক সামশুল হক জানান, এবছর রাজশাহীতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ধরা হয়েছিল ৭৪ হাজার ৯৮১ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৭৬ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৭৫ হাজার ১৬৬ হেক্টর জমিতে।